নাটক বরাবরই জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলে। একটা সময় বড় দৈর্ঘ্যের নাটক জনপ্রিয় হতে শুরু করে। কিছুটা সিনেমার মতো আবার অনেকটা নাটকের মতো এ কনটেন্টগুলো টেলিফিল্ম নামে জনপ্রিয় হয়। ২০০০ সালের আগে-পরে জনপ্রিয় হওয়া টেলিফিল্ম জনরাটি এখনো প্রাসঙ্গিক। প্রতি ঈদেই চ্যানেলগুলো নিয়ে আসে টেলিফিল্ম। সেই ধারাবাহিকতায় আজও চ্যানেলগুলোতে থাকছে টেলিফিল্ম।
চ্যানেল আইয়ে থাকছে দুটি টেলিফিল্ম। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে ভাবীদের ঈদ। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জুলফিকার ইসলাম শিশির। অভিনয়ে যাহের আলভী, তিথি, সেমন্তী সৌমী প্রমুখ। বেশ মজার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে টেলিফিল্মটি। একটা ওভারব্রিজের ওপর বিল্টু একটি ভিজিটিং কার্ড কুড়িয়ে পায়, কার্ডে লেখা ভাবীর হোটেল। বিল্টু কার্ডের নাম্বারে ফোন দেয়, ফোন রিসিভ করে রোজিনা। খুব মিষ্টি গলায় ৩০০ টাকা প্যাকেজে বিল্টুর বুকিং নেয় সে। এখান থেকেই গল্প শুরু হয় এবং এটা সময় নিয়ে যায় আমাদের চেনা পরিসরে। সেখানে সুখ, দুঃখ, হাস্যরসের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় টেলিফিল্মটি।

এদিকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে খালিদ। এটি রচনা করেছেন নাজিম-উজ-দৌলা। পরিচালনায় তানিম রহমান অংশু। অভিনয়ে জিয়াউল পলাশ, সাফা কবির প্রমুখ।
খালিদ একজন জেলফেরত যুবক। আট বছর জেল খাটার পর ছাড়া পেয়েছে। আট বছর আগে সোহাগ নামে এক ছেলেকে সে খুন করেছিল। ছেলেটা ছিল খালিদের ছোট ভাই রাতুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। খুন করে অবশ্য নিজেই পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছিল খালিদ। খালিদের বাবা একজন নামকরা বিজনেসম্যান, ওপর মহলে তার প্রভাব আছে। তিনি একজন চৌকস উকিলের সহযোগিতায় প্রমাণ করেন যে খালিদ আসলে আত্মরক্ষায় খুন করতে বাধ্য হয়েছিল। তাই ফাঁসির পরিবর্তে আট বছরের জেল হয় খালিদের। কিন্তু এলাকার মানুষ এ খুনের ব্যাপারে ভিন্ন ধারণা রাখে। সবাই বলেন সোহাগ নাকি একবার খালিদের সঙ্গে বেয়াদবি করেছিল, তাই খালিদ জেদের বশে সোহাগকে তাদের বাড়ির গ্যারেজে ডেকে এনে মেরে ফেলেছে!
কিন্তু আসল রহস্যটা কী? টেলিফিল্মের গল্প এগিয়ে গেলে সেই রহস্য প্রকাশ হবে দর্শকের কাছে। এভাবেই রচনা করা হয়েছে টেলিফিল্মটি। পারিবারিক আবহ, বন্ধুত্ব, প্রেম সবকিছুই নিয়ে এসেছেন নির্মাতারা।
মাছরাঙা টেলিভিশনে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে থাকছে লাইজু। রচনা ও পরিচালনায় এ কে পরাগ। অভিনয় করেছেন মুশফিক ফারহান, সাদিয়া আয়মান প্রমুখ।

মাইকে নিখোঁজ সংবাদ শোনা যাচ্ছে, ‘লাইজু নামের একটা মেয়ে হারানো গিয়েছে, মেয়েটি ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি যদি তার সন্ধান পান তাহলে কাবিলপুর বাজারে চিশতী ফকিরের কাছে পৌঁছে দেয়ায় জন্য অনুরোধ করা হলো’। এক সপ্তাহ পর নদীতে হঠাৎ একটা মেয়ের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়। সবাই বলাবলি করতে থাকেন এটা লাইজুর মরদেহ। লাইজুর বাবা চিশতী ফকির মরদেহ শনাক্ত করতে গিয়ে দেখেন মরদেহটি পানিতে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। দুর্গন্ধে সামনে যাওয়ার উপক্রম নেই। চিশতী ফকির কান্নাকাটি করতে থাকেন। সবাই ভেবে নেন চিশতী ফকির মেয়ের মরদেহ ঠিকই চিনতে পেরেছেন। গ্রামের সবাই মরদেহটিকে দাফনের ব্যবস্থা করেন। মরদেহ দাফনের তিন মাস পর নদীর ঘাটে একটা নৌকা ভিড়ে। সেখান থেকে একটা মেয়েকে নামতে দেখা যায়। জুয়েল ও কামাল মেয়েটিকে দেখেই ভয়ে দোয়া পড়তে পড়তে দৌড়ে পালিয়ে যায়। চিৎকার করে গ্রামবাসীকে বলতে থাকে গ্রামে লাইজুর ভূত ঢুকেছে। গ্রামীণ আবহের এ গল্প দর্শককে নিয়ে যাবে বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের কাছে।
এমন সব বৈচিত্র্যময় গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে এবারের টেলিফিল্মগুলো। উল্লিখিত টেলিফিল্মগুলো প্রচার হবে আজ। এটিএন বাংলায় থাকছে আমি শুধু চেয়েছি তোমায়। প্রতিদিনই চ্যানেলগুলোয় থাকছে টেলিফিল্ম আর এটিই প্রমাণ করে টেলিফিল্ম এখনো দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়।










