সালমান খান। বলিউডের ভাগ্য নির্ধারণকারী তিন খানের একজন। তার নতুন সিনেমা ‘সিকান্দার’ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে। পাশাপাশি গুঞ্জন যে ওঠেনি, তা নয়। কেউ কেউ মনে করছেন, ভাইজানের সিনেমায় আজকাল অভিনয়ের চেয়ে জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গ বেশি থাকে।
সালমান খানকে নিয়ে ভক্তদের আশা উঁচুতে। তারা চান, খান সিকান্দারের মধ্য দিয়ে হলেও বিশেষ কাঠামোবদ্ধ ও পূর্বানুমান করা গল্পের বাইরে কিছু করুন। জাতীয়তাবাদিতা বয়ান নয়, অভিনব গল্প বলার শক্তি ও সুগঠিত চরিত্রের ওপর নির্ভর করুক। গত কয়েকটা সিনেমায় সালমানের গল্পের ধরনে অনেকটা একঘেয়েমি পেয়ে বসেছে যেন। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টিউবলাইট’ সিনেমাটি ছিল ২০১৫ সালের আমেরিকান সিনেমা ‘দ্য লিটল বয়’-এর রিমেক। সিনেমাটি সম্ভবত খানের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্সগুলোর একটি। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভারত’ সিনেমাও ছিল আগের গল্পের পুনরাবৃত্তি। চলচ্চিত্রগুলো বক্স অফিসে তেমন প্রভাব ফেলেনি। ২০১৯ সালের ‘দাবাং থ্রি’ ও ২০২১ সালের ‘রাধে’ সিনেমায় তাকে দেখা যায় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার মোকাবেলা করতে, যেন সেই পুরনো সূত্রটিই।
একই ধাঁচে একজন অভিনেতাকে প্রতিবার দেখা সত্যিই ক্লান্তিকর। যদি কেউ মনোযোগ সহকারে দেখে, খানের চলচ্চিত্রের এ পৌনঃপুনিকতা বছরের পর বছর ধরে গেঁথে রাখা পুনরাবৃত্তি ঠাহর করতে অসুবিধা হবে না। ২০১৫ সালের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের ‘সুলতান’ ও ২০১৯ সালের ‘ভারত’ পর্যন্ত তার চরিত্রগুলোর প্যাটার্ন খুব কাছাকাছি। খানের পুরুষালি চরিত্র কেবল যেন পোশাক পরিবর্তন করে। ২০১০ সালের ‘দাবাং’, ২০১১ সালের ‘বডিগার্ড’ থেকে শুরু করে ২০২১-এর ‘রাধে’ পর্যন্ত সে কঠোর পুরুষালি নায়ক হাজির। যেন তার কোনো পরিবর্তন নেই।
তার পরও দাবাং সম্ভবত ব্যতিক্রম। খান তার ২০১০ সালের হিট দাবাং সিনেমা দিয়ে বলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্রের একটি “নতুন ঘরানা তৈরি করেছেন। দাবাংকে অ্যাকশন চলচ্চিত্র বলা হলেও এটি বলিউডের গতানুগতিক অ্যাকশন চলচ্চিত্র থেকে ব্যতিক্রম। এখানে পুরুষালি ভাব ও সহিংসতাকে কমেডির রূপ দেয়া হয়েছে। নতুন সিনেমা সিকান্দারের জন্য এমন একটা বাঁক দরকার, যা একই সঙ্গে সালমান খান ও বলিউডের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব রাখবে।
সালমানের ভক্তরা চান, তিনি আবার রোম্যান্স ঘরানায় ফিরে আসুন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে রোমাঞ্চ ঘরানাই সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছিল। ১৯৮৯ সালের ব্লকবাস্টার ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ তাকে রাতারাতি তারকায় পরিণত করে। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে ১৯৯৯ সালের ‘হাম দিল দে চুকে সনম’। অন্তত তিনি একটি শক্তিশালী গল্প ও পারফরম্যান্স নিয়ে ফিরে আসুন, যা সিনেমা শেষ হওয়ার পরও স্মৃতিতে থেকে যায়। তবে সেক্ষেত্রে তিনি কতটা সফল, সেটা সময় বলে দেবে।










