‘বিবাহ’ ও ‘জাব উই মেট’ সিনেমা দিয়ে শহিদ কাপুর আলোচনায় এলেও সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছেন ‘হায়দার’-এর জন্য। চরিত্রটিতে তার নিপুণ অভিনয় এখনো মুগ্ধ করে রেখেছে সমালোচকদের। ১৯৯৫ সালের কাশ্মীরের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটি বক্স অফিসে বড় ধরনের সাফল্য নিয়ে আসে।

হায়দার সিনেমার একটি দৃশ্য বিশেষভাবে মনে রাখার মতো। দৃশ্যটিতে শহিদ কাপুর তার বাবার কবরের সামনে কাঁদছেন। সম্প্রতি মুব্বাইয়ে সে দৃশ্যের শুটিংয়ের কথাই স্মরণ করেছেন শহিদ। তিনি বলেন, ‘যখন আমি দৃশ্যটি করতে যাই, ক্যামেরা তখন আমার থেকে অনেক দূরে। অনেকটা জায়গা দেয়া হয়েছিল আমাকে। গ্লিসারিন ব্যবহার করতে চাইনি। আমি ছিলাম সেখানে, একটি কবরের সামনে। ঠিক মনে করতে পারছি না, সে শটের সময় কী ঘটেছিল। একমাত্র যেটা মনে পড়ে, সেটা হলো আমার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল, সম্ভবত বরফে রাখার কারণে। আরেকটা জিনিস মনে আছে, সেটা হলো বিশাল স্যার আমাকে ধরে রেখেছিলেন।’

উইলিয়াম শেকসপিয়ারের হ্যামলেট থেকে অনুপ্রাণিত হায়দার। পাশাপাশি তুলে ধরে কাশ্মীরের অস্থির পরিস্থিতি। এমন বিষয়ে সিনেমা করা যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ। সেদিকে ইঙ্গিত করেই শহিদ কাপুরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আজকের দিনে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব কিনা। তিনি দ্রুত উত্তর দেন, ‘না। আমরা এখন আর বিতর্কিত চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারি না।’

এর আগে বিশাল ভরদ্বাজও সিনেমার বিশেষ দৃশ্যটি সম্পর্কে বলেছিলেন। তিনি তখন ইন্ডিয়ান টাইমসকে জানিয়েছিলেন যে সিনেমার একটি মুহূর্তে শহিদ তার বাবার কবর খুঁজে পান এবং ভেঙে পড়েন। পরিচালক সে দৃশ্য টেলিফটো লেন্স দিয়ে শুট করেছিলেন। তাই ক্যামেরা অনেক দূরে রাখা হয়েছিল। যদিও বিশাল শহিদকে বলেছিলেন, এটি ক্লোজ-আপ শট নয়, তাই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করো না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ক্লোজ-আপ শটই ছিল।

বিশাল ভরদ্বাজ জানান, যখন অভিনেতা কান্না শুরু করেন, তখন তাকে দুটি ক্যামেরা ধারণ করছিল। পরিচালক স্বীকার করেন যে শহিদকে কাঁদতে দেখে তিনি মন থেকেই কাট বলতে চাননি। শহিদ কান্না থামান তখন, যখন বিশাল তার কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কাট হয়েছে, শহিদ। শট শেষ হয়েছে।’

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস