ধর্মেন্দ্রর বয়স এখন ৮৯ বছর। ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর লুধিয়ানার নসরাইলে জন্ম তার। পরিবার থেকে পাওয়া নাম ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষ্ণ দেওল। ছেলেবেলা কেটেছিল গ্রামে। সে সময় থেকেই সিনেমার সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। ১৯৪৮ সালে দেখেছিলেন ‘শহীদ’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দিলীপ কুমার, কামিনী কৌশল ও লীলা চিটনিস। এ সিনেমা দেখেই ১৩ বছর বয়সে সিনেমা ও দিলীপ কুমারের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। তখন থেকেই আয়নার সামনে অভিনয় করতে শুরু করেন। তিনি বলতেন, ‘আমি দিলীপ কুমার হতে চাই।’

এ কথা ধর্মেন্দ্র নিজেও প্রকাশ করেছেন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে। ইন্ডিয়া টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘যেদিন আমি দিলীপ কুমার ও অন্য অভিনেতাদের দেখেছিলাম, মনে হচ্ছিল এ অসাধারণ মানুষেরা কোথা থেকে এসেছেন। আমারও তাদের মধ্যে থাকা উচিত। আমি আসলে তাদেরই একজন।’ এরপর খুব কম বয়সেই তিনি মুম্বাই যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কিন্তু তার মা সতওয়ান্ত কাউর ধর্মেন্দ্রকে নিষেধ করে দেন।

মায়ের পদক্ষেপ নিয়ে ধর্মেন্দ্র বলেন, ‘আমি বোম্বে যেতে চেয়েছিলাম। মাকে সে কথা বলেছিলামও। মা আমার মুখ চেপে ধরে বলেছিলেন, এমন কথা যেন আর কখনো না বলি। তাহলে বাবা আমাদের দুজনকেই বাড়ি থেকে বের করে দেবেন। এ কথা শুনে আমার মন খারাপ হয়েছিল।’

এরপর ধর্মেন্দ্রর মা অবশ্য তাকে একটা ভালো বুদ্ধিই দিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্র জানান, মা তাকে মুম্বাইয়ে আবেদন করার কথা বলেছিলেন। কেননা তার ছেলে দেখতে শুনতে ভালো। সতওয়ান্ত ধর্মেন্দ্রকে বলেছিলেন, অনিশ্চিতের পথে পা না বাড়িয়ে মুম্বাই থেকে ডাক পেলে যেন তিনি যান।

ধর্মেন্দ্রর ভাগ্য ভালো ছিল। ১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ার সর্বপ্রথম ট্যালেন্ট হান্ট শুরু করে। সে আয়োজনে অংশ নিয়ে জিতেছিলেন ধর্মেন্দ্র। এর মাধ্যমে এক সাধারণ স্কুল হেডমাস্টার কেওয়াল কৃষ্ণর ছেলে ধর্মেন্দ্র সুযোগ পেয়ে যান অভিনেতা হওয়ার।

এর দুই বছর পর ধর্মেন্দ্র অভিনয় করেন ‘দিল ভি তেরা, হাম ভি তেরে’ সিনেমায়। তবে এ সিনেমা নিয়ে তেমন কোনো আলাপ হয়নি। সিনেমাটি লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিল। ১৯৬২ সালে ‘আনপড়’ ও ১৯৬৩ সালে বিমল রায়ের ‘বন্দিনী’ দিয়ে ধর্মেন্দ্র আলোচনায় আসেন। এমনকি বন্দিনী ভারতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিল।

সিনেমা থেকে পরিচিতি পাওয়ার পর ধর্মেন্দ্রর আয় বাড়ে। এরপর তিনি প্রথমেই একটি গাড়ি কেনেন। ধর্মেন্দ্র বলেন, ‘আমি প্রথমেই একটা গাড়ি কিনেছিলাম। ফিয়াট। তবে আমার ভাই অজিতের মত ছিল না। সে বলেছিল, আমি চাইলে আরো ভালো গাড়ি কিনতে পারতাম। তবে আমার মনে হয়েছিল, কাল আমি কাজ না-ও পেতে পারি। সে রকম হলে ফিয়াটটাকে ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’

ধর্মেন্দ্র তার ওই বয়সে বেশ পরিণত চিন্তা করেছিলেন। কেননা ষাটের দশকে ক্যারিয়ারের শুরুতে পরিচিতি পেয়েও অনেক অভিনেতা পরে আর কাজ পাননি। কিন্তু ধর্মেন্দ্রর অভাব হয়নি সিনেমার। শারীরিক গড়নের কারণে তাকে কখনো হি-ম্যান, কখনো গ্রিক গড বলা হতো। ‘ধরম-বীর’, ‘ফুল অউর পাত্থর’-এর মতো সিনেমা দর্শক আজও স্মরণ করেন।

বলিউডের ইতিহাসে ধর্মেন্দ্রকে অন্যতম ‘গুড লুকিং অ্যাক্টর’ বলা হয়। তার পুরনো সিনেমাগুলোয় অভিনয় ও তার লুক নিয়ে এখনো দর্শক তার প্রশংসা করেন। তার ষাটের দশকের হিট সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘ফুল অউর পাথর’, ‘মমতা’, ‘অনুপমা’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’ অন্যতম।

ষাট ও সত্তরের দশকে নিয়মিত হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। সত্তরের দশকে তিনি ছিলেন অন্যতম সুপারস্টার। গত বছর ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’তেও প্রশংসিত হয়েছেন ধর্মেন্দ্র।

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত জ্যোতি ঝার নিবন্ধ অবলম্বনে আসরার আবেদিন