অভিনেতা রানা দাগুবতিকে এখন অনেকে বল্লাল দেব নামে চেনে। এসএস রাজামৌলি পরিচালিত ‘বাহুবলী’তে তিনি এ নামের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু এর বাইরেও রানার ক্যারিয়ারে বহু সফল চরিত্র আছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তার পরিবারের আছে ইতিহাস ও উত্তরাধিকার। তিনি দাগুবতি-আক্কিনেনি পরিবারের সন্তান। বিখ্যাত প্রযোজক ডি রামানাইড়ুর পৌত্র। এ পরিবারের একটি বাড়ি আছে হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসে। সেটির অন্দরমহল রানা সাজিয়েছেন নান্দনিকভাবে। একটা বেস্টুরেন্ট করেছেন বাড়ির ভেতরেই, যার নাম স্যাংচুয়ারি।

জুবিলি হিলস এখন হায়দরাবাদের অন্যতম অভিজাত এলাকা। সেখানেই রানার এ বাড়ি ও সংলগ্ন অন্যান্য সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি রুপি। তাদের পুরনো বাড়ির অবকাঠামো এখনো আছে কিন্তু রানা তার মধ্যে তৈরি করেছেন একটি রেস্টুরেন্ট। কিছুদিন আগে একটি ভিডিওতে রানা তার বাড়ির অন্দরমহল দেখিয়েছিলেন। কেননা সেখানেই কেটেছে তার শৈশব। বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে।

বাহুবলীতে দেখানো মহিস্মতির রাজপ্রাসাদের মতো না হলেও এ বাড়িতে রীতিমতো একটা সিংহদরজা আছে। সামনের দিকে সাজানো লন। গাছপালায় ভর্তি বাড়িটি দেখতেও নান্দনিক লাগে। পাশাপাশি একটা প্রাকৃতিক আবেশও আছে।

12

বাড়ির বাইরের দিকের বাগানটিকেও রেস্টুরেন্টের অংশ করা হয়েছে। সেটাকে বানানো হয়েছে ডাইনিং স্পেস। বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সামনের দিকে আছে একটি বার। পূর্ণিমা রাতে এ রেস্টুরেন্টে বসা একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা দেবে অতিথিদের। রেস্টুরেন্টের আরেকটি শাখা আছে গোয়ায়।

এ বাড়িতে বড় পরিসরের একটি লিভিং রুম ছিল। ঢোকার মুখেই দেখা যাবে দুপাশে দুটো ঘোড়ার পূর্ণ ভাস্কর্য। কয়েক ধাপ এগোলেই লিভিং রুম। সেখানে অভ্যর্থনার ব্যবস্থাও আছে। এ লিভিং রুমের সঙ্গে যুক্ত সর্পিল সিঁড়ি। রানা একবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, দাদার চক্ষু ফাঁকি দিয়ে তিনি মাঝে মাঝেই পালাতেন। সে রকম পালানোর সময়ই একদিন তিনি সিঁড়ি দিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। এ লিভিং রুমটিকেও নতুন করে সাজিয়েছেন রানা। সেটি একটি বড় ডাইনিং রুম। এর মধ্যে নানা রকম সজ্জায় চেয়ার টেবিল রাখা হয়েছে। কোনোটি জাপানি ধারার নিচু টেবিল, কোনোটি প্রচলিত ধারার উঁচু। কোনো টেবিলের একটিকে হাই ব্যাক চেয়ার, অন্যদিকে সোফা। প্রতিটি টেবিলকে আলাদাভাবে সাজানোর জন্যই সম্ভবত এ চেষ্টা।

পাশাপাশি এ রেস্টুরেন্টের দেয়ালে আছে নানা ধরনের চিত্রকর্ম। দেয়ালে হরিণের শিং সাজানো। তার পাশেই হয়তো দূরন্ত ষাঁড়ের অবয়ব। একটি দেয়ালে বেশ কয়েকটি ফ্রেম। ক্যানভাসে পাখির অবয়ব—আছে একটি হাতিও। আরেকটি দেয়ালে দেখা যায়, পটচিত্রের মতো কতগুলো ফ্রেম। সিঁড়ির পাশের দেয়ালও চিত্রকর্মে সাজানো, ইনডোর প্লান্টও রাখা আছে এর সঙ্গে। প্রতিটি টেবিলে সাজানো নান্দনিক তৈজসপত্র। প্লেট, গ্লাসের রঙ, টেক্সচারে রুচির ছাপ দেখা যায়। এমনকি কুশনগুলোর রঙও চোখে আরাম দেয়ার মতো। এদিকে সিলিংয়ে ঝুলছে ঝাড়বাতি। সব মিলিয়ে অন্দরসজ্জার ব্যবহারিক ক্লাসরুম হিসেবেও ব্যবহার করা যায় এটিকে।

রানা দাগুবতিকে সর্বশেষ দেখা গেছে টিজে জ্ঞানভেলের ‘ভেট্টিয়ান’ সিনেমায়। সম্প্রতি স্ট্রিম হচ্ছে তার অভিনীত সিরিজ রানা নাইড়ুর নতুন সিজন। এছাড়া দাগুবতির হাতে আছে প্রায় আটটি সিনেমা। এর মধ্যে বিশ্বম্ভর আছে পোস্ট প্রডাকশনে। রাক্ষস রাজার শুটিং চলমান। এছাড়া রেস ফোরেও তাকে দেখা যাবে।