এ সিনেমায় বনলতা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। বাংলা সাহিত্যের এ কাল্পনিক চরিত্র হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে নাবিলা বলেন, ‘‌একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে যখন প্রথম কবিতাটি পড়েছিলাম, মনে হয়েছিল কি সুন্দর একটা রূপের বর্ণনা। খুবই সুন্দরী, নমনীয়তার প্রতীক এমন একজন নারী, যাকে আমরা জীবনে আকাঙ্ক্ষা করি। আমরা সাধারণত নারীকে নরম, সুন্দর চোখের অধিকারী হিসেবে ভাবি। কিন্তু আকাঙ্ক্ষার নারী আসলে অনেক রকমই হতে পারে। সুন্দরী হওয়ার পাশাপাশি সে একটা দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষও হতে পারে। আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে, এমন কেউ যে ব্যক্তিত্ববান, অল্পভাষী ও সুন্দরী। কিন্তু একেকজনের কল্পনা একেক রকম হবেই।’

সিনেমাটি করতে গিয়ে চরিত্রটিকে অন্য চোখে দেখার সুযোগ হয়েছে নাবিলার। তিনি জানান, সিনেমাটি মুক্তির পর অনেক দর্শক ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন, ‘আমার বনলতা সেনকে সঙ্গে নিয়ে বনলতা সেন দেখে এলাম।’ অর্থাৎ প্রথাবদ্ধ রূপের বাইরে গিয়ে সবাই নিজের ভালোবাসার মানুষের মাঝেই এখন বনলতাকে মেলাচ্ছেন।

নাবিলার মতে, সাহিত্যপ্রেমী ও ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা নিতে চাওয়া দর্শকের এ সিনেমা অবশ্যই দেখা উচিত। মুক্তির প্রথম কয়েক দিন হল পরিদর্শনে গিয়ে এক দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নাবিলা বলেন, ‘প্রচুর প্রবীণ মানুষ এসেছেন। ৭০ বছরের বেশি বয়সী, এমনকি পঞ্চাশ-ষাটের ওপরেও অনেকে। শুনেছি কেউ কেউ ২০ বছর, ২৪ বছর পর প্রথমবার সিনেমা দেখতে এসেছেন। এটা খুব ভালো লেগেছে। কারণ এ প্রবীণ দর্শক যে সময়ে বড় হয়েছেন, তখন ঘরে ঘরে সাহিত্যচর্চা ছিল। বিনোদনের মাধ্যম ছিল বই, কবিতা, আবৃত্তি, আড্ডায় গান। আমাদের প্রজন্ম সেখান থেকে অনেকটা সরে এসেছে, এখন বিনোদনের মাধ্যম হয়ে গেছে ফেসবুক আর টিকটক।’