আনা ফ্রাংককে নিয়ে নির্মিত আনা ফ্রাংক: প্যারালাল স্টোরিজ চলচ্চিত্রটি আগামী ২৭ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া শুরু হবে। ছবিতে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হেলেন মিরেন। গত অক্টোবরে ছবিটির ট্রেইলার প্রকাশ পায়। ট্রেইলারে হেলেন মিরেনকে একজন স্টোরিটেলার হিসেবে দেখা যায়। এতে তিনি আনার সেই বিখ্যাত লাল-সাদা ডায়েরি থেকে আনাসহ আরো পাঁচজন নারীর গল্প বর্ণনা করবেন। আনা ফ্রাংক: প্যারালাল স্টোরিজ রচনা ও পরিচালনা করেছেন সাবিনা ফেদেলি ও আনা মিগোতো।
আনা ফ্রাংক: প্যারালাল স্টোরিজ প্রোডিউজিওনি এবং নেক্সো ডিজিটালের ব্যানারে বাসেলে আনা ফ্রাংক ফান্ডের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে ছবিটি নিয়ে আসবে সিনেইভেন্টস। যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি মুক্তি দেয়া হবে মার্চে।
আনা ফ্রাংক: প্যারালাল স্টোরিজ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যম ফোর্বসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে হেলেন মিরেন বলেন, ‘আনার
গল্প আমাদের কখনই ভোলা উচিত নয়। আমরা সেই প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছি, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে কী কী ঘটেছিল, সেই ভয়ংকর দিনগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী। ভবিষ্যতের জন্য এ স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
৮০ বছর পর আনা ফ্রাংকের গল্পের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে হেলেন বলেন, ‘‘সিরিয়া,
লিবিয়া, ইরাক যুদ্ধের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে যে ইমিগ্রেশনের শুরু হয়েছে, এজন্য বিভিন্ন জাতি, উপজাতি, সংস্কৃতির লোকদের দিকে আঙুল তাক করা এবং আমার সমস্যার জন্য ‘তোমরা’ দায়ী কথাটি বলা খুব সহজ। তাই আমি মনে করি, আনার ডায়েরিটি শিক্ষা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ ডায়েরির মাধ্যমেই আমরা অতীতের মানব অভিজ্ঞতাগুলোর উপলব্ধি সম্পর্কে জানতে পারছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আনার ডায়েরি, তার গল্প আমার কাছে অর্থবহ মনে হয়েছে, এ কারণে আমি ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হই।’’ ছবিতে
দেখা যাবে, মিরেন আনা ফ্রাংকের ডায়েরিতে লেখা শব্দের মাধ্যমেই তার গল্পের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। ছবির সেট তৈরির জন্যও বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। মিলানের পিক্কোলো থিয়েটারের সেট ডিজাইনারদের সহযোগিতায় আনার আমস্টারডামের ঘরটিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
আনা ফ্রাংক: প্যারালাল স্টোরিজ শুধু আনাকে ঘিরে নয়। আনার গল্পের সঙ্গে সে সময় বন্দিদশা ও নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা আরিয়ানা সোরেনি, সারাহ লিৎসটেন মন্টার্ড, হেলগা ওয়াইস এবং দুই বোন আন্দ্রা ও টাটিয়ানা বুচি—এ পাঁচজন নারীর গল্প উঠে এসেছে।
সিনেইভেন্টসের পক্ষ থেকে জো ইভ বলেন, ‘আনা
ফ্রাংকের ৯০তম জন্মবাষির্কীতে ছবিটি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে দেখাতে পারলে আমাদের খুব ভালো লাগবে। ছবিটি সবারই দেখা উচিত।’
সূত্র: ফোর্বস










