হলিউড তারকা হেইলি অ্যাটওয়েল। ২০ বছরের অভিনয় জীবনে নিজেকে বহুমুখী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। মঞ্চে জ্যাকোবিয়ান ট্র্যাজেডিতে অভিনয় করেছেন, টেলিভিশনে করেছেন ম্যানসফিল্ড পার্কের মতো ঐতিহাসিক নাটক। চমক দেখিয়েছেন মার্ভেল সিরিজের শীর্ষ চরিত্রেও। ২০১১ সালের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’ সিনেমায় এজেন্ট কার্টার চরিত্রের মাধ্যমে মার্ভেল দুনিয়ায় প্রবেশ ঘটে তার। পরবর্তী সময় চরিত্রটির স্পিন-অফেও করেন অভিনয়। তবে মিশন ইমপসিবল সিনেমায় টম ক্রুজের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি হলিউডে নিজের আসন অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার পেশাগত দক্ষতাকে কেউ অবমূল্যায়ন করতে পারে, এমনটা কল্পনা করাও কঠিন।
যতই খ্যাতি বেড়েছে, ততই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন অ্যাটওয়েল। ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন পছন্দ করেন না। নিজের অতীত নিয়ে কথা বলতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। পরিবার নিয়েও কথা বলেন খুব কম। তিনি মনে করেন, জীবনের ভিন্ন সময়ের সত্য ঘটনাগুলো বারবার বললে তা সংকুচিত বা একমুখী হয়ে যায়। তাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো, মা হওয়ার পর ‘মাচ অ্যাডো অ্যাবাউট নাথিং’ তার প্রথম কাজ কিনা। জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, ‘কে বলেছে আমি মা হয়েছি?’ যখন তাকে জানানো হলো গণমাধ্যম ডেইলি মেইল তার ছবি প্রকাশ করেছে, তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বললেন, ‘এটা নিম্ন রুচির পরিচায়ক, একজন নারীকে আড়ালে লুকিয়ে থেকে ছবি তোলা ও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা। এটি কখনই আমার কাছে স্বাভাবিক নয়।’
অ্যাটওয়েলের প্রথম ভালোবাসা থিয়েটার। তিনি বলেন,”‘প্রতিদিন সকালে হাতে স্ক্রিপ্ট আর এক কাপ কফি নিয়ে থিয়েটারে যাওয়াটা আমি ভালোবাসি। ওয়েস্ট এন্ডের থিয়েটার সম্প্রদায়ের উষ্ণ অনুভূতি পাওয়া যায়।”থিয়েটার আমার জন্য সে কাজ করে, যা অনেকের জন্য গির্জা করে। আমি এখনো এটি গভীরভাবে অনুভব করি।’”
অ্যাটওয়েলের মঞ্চ থেকে দীর্ঘ বিরতি নেয়ার অন্যতম কারণ ছিল ‘মিশন: ইম্পসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার ভূমিকা। এতে তিনি অভিনয় করেছেন গ্রেস চরিত্রে। গ্রেস এক চতুর, নৈতিকভাবে অস্পষ্ট নায়িকা, যে ইথান হান্টের (টম ক্রুজ) নতুন মিশনে জড়িয়ে পড়ে। আগামী মে মাসে মুক্তি পেতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘দ্য ফাইনাল রেকনিং’-এর মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার পাঁচ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য বিষয়টি অবিশ্বাস্য, কারণ আমি কখনো এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।’
টম ক্রুজের সঙ্গে কাজ করাকে দারুণ এক অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘তার মতো আর কেউ নেই, ভবিষ্যতেও আসবে না। তিনি একাই পুরো একটি স্টুডিওর সমান। তবে তিনি খুবই সদয় ও পেশাদার। ফলে আমি অনেক কিছু চেষ্টা করতে পেরেছি, ব্যর্থতার ভয় ছিল না।’”
অ্যাটওয়েল ও ক্রুজের মধ্যে মিল রয়েছে, দুজনই কঠোর পরিশ্রম করেন। অত্যন্ত গুরুত্ব দেন অভিনয়কে। মিশন ইমপসিবল সিনেমার চিত্রগ্রহণ শুরু হওয়ার সময় কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট রাখা হয়নি, বরং তাৎক্ষণিক সৃজনশীলতার ওপর নির্ভর করা হয়েছে। অ্যাটওয়েলের প্রস্তাবেই তার চরিত্র গ্রেসকে একজন চতুর চোর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। কেবল ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগতই রাখতে চান না তিনি। নিজের কাজ নিয়েও যথেষ্ট গোপনীয়তা মেনে চলেন। তবে নিজেকে নিয়ে যথেষ্ট প্রত্যয়ী। কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘কেউ পছন্দ না করলেও আমি ভালো আছি।’
ফাইনাল রেকনিং মিশন: ইম্পসিবল ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ সিনেমা কিনা জানতে চাইলে অ্যাটওয়েল বলেন, ‘নাম দেয়া হয়েছে দ্য ফাইনাল রেকনিং। কিন্তু টম ক্রুজ ও ফাইনাল দুটি শব্দ পরস্পরের বিপরীত মনে হয়। অবাক হবো না, যদি তিনি আরো একটা করতে চান। যদিও তার হাতে এত প্রকল্প রয়েছে যে আরেকটি মিশন করার জায়গা তিনি খুঁজে পাবেন কিনা, বলা কঠিন।’
অ্যাটওয়েলের অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয় ছোটবেলায়ই। তার মা তার নাম রেখেছিলেন অভিনেত্রী হাইলে মিলসের নামে। ছোটবেলা থেকেই তাকে নিয়মিত থিয়েটারে নিয়ে যেতেন। প্রথম দিকে তিনি ছিলেন লাজুক ও অন্তর্মুখী, কিন্তু কিশোর বয়সে তিনি একবার ‘আ মিডসামার নাইট’স ড্রিম’ নাটকের পাক চরিত্রের মনোলগ স্কুল অ্যাসেম্বলিতে পড়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা প্রায়ই তাকে বইয়ের অংশ পড়ে শোনাতে বলতেন।
থিয়েটার, অ্যাকশন ফিল্ম, ঐতিহাসিক নাটক, হেইলি অ্যাটওয়েল সব জায়গায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। পরবর্তী যাত্রা কী হবে! হয়তো আরো কিছু থিয়েটার অথবা অন্য কোনো দুঃসাহসিক সিনেমা—কিন্তু নিশ্চিতভাবেই, তার অভিনয় জীবনের বড় অধ্যায় এখনো বাকি।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে আহমেদ দীন রুমি










