ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামি। ২০১০ সালে তার পরিচালিত সার্টিফায়েড কপি দশকের সেরা ১০ ছবির তালিকায় স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সম্প্রতি সেরা ১০ ছবির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় আব্বাস কিয়ারোস্তামির সার্টিফায়েড কপি অষ্টম স্থানে রয়েছে।

সার্টিফায়েড কপি একজন প্রাচীন শিল্পী (জুলিয়েট বিনোশ) ও লেখকের (উইলিয়াম শিমেল) ওপর নির্মিত। ছবিতে দেখা যায় লেখক শিল্পকর্ম, শিল্পের ভেতরের নির্যাস, যথার্থতা—এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘সার্টিফায়েড কপি তৈরি করা ছিল নিঃসন্দেহে একটি সাহসের কাজ। অন্যকে প্রভাবিত করার মতো একটি ছবি। ছবিতে যে প্রশ্ন তোলা হয়, তার উত্তরগুলো অনেকটাই অধরা। ছবির ধারণা, অভিজ্ঞতা—এগুলো বহু বছর ধরে মানুষকে প্রভাবিত করে আসছে। এখনো এ ছবি নিয়ে মানুষ ভাবে।’ দশকের সেরা ১০ চলচ্চিত্র হিসেবে সার্টিফায়েড কপি বাছাইয়ের কারণ সম্পর্কে এপি এসব কথা লিখেছে। সেরা ১০ চলচ্চিত্রের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে টেরেন্স মালিকের ট্রি অব লাইফ (২০১১)।

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্র নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামি একাধারে কবি, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র সম্পাদক, শিল্প নির্দেশক, ফটোগ্রাফার ও চিত্রশিল্পী। এছাড়া তিনি আরো বেশকিছু কাজে পারদর্শী। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি কাব্যিক ও আধ্যাত্মিক ঘরানার পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম। কিয়ারোস্তামি তার প্রথম ছবি দ্য রিপোর্ট নির্মাণ


করেছিলেন ১৯৭৭ সালে। টেস্ট অব চেরি, দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস, শিরিন, ক্লোজ আপ—তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা। এসব অসাধারণ ছবি তৈরি করে এ পরিচালক স্বর্ণপামসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে বিপ্লবের পর অনেক শিল্পীই দেশ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তিনি ইরানে থেকে গিয়েছিলেন এবং নতুন সরকারের কঠোরতার মধ্যেই নিজের চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান। তার ট্রিলজি হোয়্যার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম (১৯৮৭), লাইফ অ্যান্ড নাথিং মোর (১৯৯২) ও থ্রু দি অলিভ ট্রিজ (১৯৯৪) নির্মাণ করেন। আব্বাস কিয়ারোস্তামি ২০১৬ সালের ৪ জুলাই পরলোক গমন করেন।

 

সূত্র: মেহের নিউজ