১৯৮৫ সালে সিনে ব্লিটজকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে শ্রীদেবী বলেছিলেন, ‘আমি
অনেক স্বপ্ন দেখি, এক কথায় প্রতি রাতেই। বেশির ভাগ সময়ই ভয়ানক সব বিষয় দেখি—ভূত, মায়া ও সাপ। সবাই আমাকে বলে স্বপ্নে সাপ দেখা মানে আমার জীবনে অনেক শত্রু আছে।’ কিন্তু পরের বছর নাগিন ছবিতে এক ইচ্ছাধারী সাপের ভূমিকায় অভিনয় করে বলিউডে ঝড় তুলেছিলেন শ্রীদেবী।
নাগিনের পরিচালক হারমেশ মালহোত্রা ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে প্রথমে গিয়েছিলেন জয়া প্রদার কাছে, কিন্তু জয়া তত্ক্ষণাৎ কাজটি ফিরিয়ে দেন। হতাশ মালহোত্রা এবার যোগাযোগ করেন শ্রীদেবীর সঙ্গে। চিত্রনাট্যটি এক নজর দেখেই শ্রীদেবী ছবির জন্য রাজি হয়ে যান। সাপভীতি থাকার পরও কেন শ্রীদেবী নাগিন ছবিতে কাজের জন্য এক বাক্যে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন? খুব সম্ভবত তিনি এমন একটি সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন—প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি একাই একটি ছবি টেনে নিতে পারেন।
সমালোচকরা বলেন, নাগিন ছিল শ্রীদেবীর প্রথম নারীপ্রধান হিন্দি ছবি। শ্রীদেবীর মা রাজেশ্বরীও নাগিন ছবির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি মেয়েকে অন্য নাচগান-মারামারিনির্ভর ছবি বাদ দিয়ে নাগিন ছবিতে মনোযোগ দিতে বলেছিলেন।
নাগিন ছবির বিভিন্ন গানে শ্রীদেবীর পারফরম্যান্সও প্রশংসিত ও জনপ্রিয়। ছবিতে মানুষ হয়েও সাপের সরীসৃপ বৈশিষ্ট্যের অনুকরণে অনেক শারীরিক ভঙ্গি, চোখের অভিব্যক্তি শ্রীদেবীকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
১৯৮৬ সালের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার ছিল নাগিন। বাণিজ্যিক মুনাফার হিসাবে সুভাষ ঘাইয়ের কর্মাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল নাগিন। ছবির সাফল্য এমন ছিল যে, পরিচালক মালহোত্রা দ্রুতই সিক্যুয়াল নির্মাণের ঘোষণা দেন। খেয়াল রাখা দরকার, সে সময় অমিতাভ বচ্চনের পরিচালকও তার ওপর এমন বিশ্বাস রাখতে পারতেন না।
নাগিনের সিক্যুয়াল নিগাহে মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। এর মধ্য দিয়ে দিয়ে নাদিয়ার পর শ্রীদেবী বলিউডের দ্বিতীয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজস্ব ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিকারী হন।
নাগিনের শুটিং চলার সময় শ্রীদেবী এক লাজুক কন্যা ছিলেন। ছবির আধাআধি শুটিং হওয়া পর্যন্ত তিনি ছবির সংলাপ ছাড়া ঋষি কাপুরের সঙ্গে একটি কথাও বলেননি। তারপর একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় হঠাৎই ফিল্ম ম্যাগাজিন শেষ হয়ে যায়, তখন ঋষি ও শ্রীদেবী সেই দৃশ্যের ভঙ্গিতেই অপেক্ষা করছিলেন, কখন নতুন ম্যাগাজিন সংযুক্ত করা হবে তার জন্য। হঠাৎই নীরবতা ভেঙে শ্রীদেবী ঋষি কাপুরকে বলে ওঠেন, ‘আমি
আপনার খেল খেল মে ছবিটা চারবার দেখেছি।’ জবাবে ঋষি বলেছিলেন, ‘ধন্যবাদ।
আপনি সত্যিই দারুণ নাচেন।’
সূত্র: স্ক্রলইন










