ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই পিনোকিও’র গল্প শুনেছি। পিনোকিও ছিল একটি কাঠের পুতুল। পুতুলটি বানিয়ে ছিলেন জোপেতো নামে এক কাঠমিস্ত্রি। এক রাতে একটি নীল পরী সে কাঠের পুতুলে প্রাণ সঞ্চার করে। তারপর থেকে পিনোকিও মানুষের মতো কথা ও চলাফেরা করা শুরু করে। কাঠমিস্ত্রি জোপেতো তাকে সন্তানের মতো বড় করতে থাকেন। পিনোকিও একটু বড় হলে তার বাবা তাকে বই-খাতা কিনে দেয় স্কুলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু পিনোকিও ছিল দুষ্টু প্রকৃতির এবং খুব মিথ্যা বলত। এজন্য পিনোকিওকে নীল পরী একটি শাস্তি দিয়েছিল। যখনই পিনোকিও মিথ্যা বলত, তার নাক লম্বা হয়ে যেত। এভাবে একদিন তার নাক অদ্ভুত আকার ধারণ করে। এরপর নানা ঘটনা ঘটতে থাকে পিনোকিওর সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তার ভুল বুঝতে পারে। শপথ করে আর কখনো মিথ্যা বলবে না এবং প্রতিদিন স্কুলে যেতে থাকে। দি অ্যাভেঞ্চারস অব পিনোকিও শিরোনামে এ রূপকথার গল্পটি লিখেছিলেন ইতালিয়ান শিশু সাহিত্যিক কার্লো কলোডি। পরে এটি ১৮৮৩ সালে দ্য টেইল অব আ পাপেট নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়। গল্পটিকে সামাজিক ও শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় বলে মনে করা হয়। এজন্য এ গল্প অবলম্বনে ১৯৪০ সালে ডিজনির প্রযোজনায় পিনোকিও শিরোনামে অ্যানিমেশন ছবি তৈরি করা হয়। এরপর গল্পটি আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ছোট-বড় সবার কাছে। সে সময় অ্যানিমেশন ছবিটিতে পিনোকিও চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ডিক জোনস। একই গল্প ও শিরোনামে ২০০২ সালে রবার্তো বেনিনি আরেকটি ছবি তৈরি করেন। ছবিতে তিনি নিজেই পিনোকিওর চরিত্রে অভিনয় করেন এবং বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন। এ গল্প এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।
তাই রবার্তো বেনিনির পর পরিচালক মাত্তেও গাররোনি একই নামে আরেকটি ছবি তৈরির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী যথারীতি তা নির্মাণও করে ফেলেন। ছবিটি ১৯ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে। এবার নতুন পিনোকিও ছবিতে পিনোকিওর চরিত্রে ফেডেরিকো লেলাপি এবং কাঠমিস্ত্রি জোপেতোরের ভূমিকায় রবার্তো বেনিনি অভিনয় করেন। এছাড়া ম্যারিন ভ্যাকথ (পরী), রকো
পাপালেও (বিড়াল), মাচ্চিমো
চেক্কেরিনি (শেয়াল), মাচ্চিমিলিয়ানো
গাল্লোসহ (ডাক্তার কাক) আরো অনেকে অভিনয় করেন। নতুন পিনোকিও ছবিটি ঠিক কতটুকু দর্শকের মন জয় করতে পারবে, সেটাই এখন দেখার পালা।
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার










