হোম অ্যালোন সিনেমার দুই পর্বের জন্য আলোচিত হন নির্মাতা ক্রিস কলম্বাস। প্রায় শূন্য থেকে এসে তিনি হোম অ্যালোন দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি সফল সিনেমা নির্মাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৯০ সালে হোম অ্যালোন ও ১৯৯২ সালে এর দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণ করেন তিনি। এর প্রায় ১০ বছর পর নির্মাণ করেন হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’। ২০০১ সালে এ সিনেমা ও তার পরের বছরই মুক্তি পায় ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস’। এ দুয়ের পর সিরিজ ছেড়ে দেন ক্রিস কলম্বাস। কেননা নির্মাণের কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল তার।
কী হয়েছিল হ্যারি পটারের? ক্রিস কলম্বাস প্রথম সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে ‘ডেভিলস স্নেয়ার’ সিকোয়েন্সটির প্রডাকশন নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তার মনে হয়েছিল, সিকোয়েন্সটি আরো ভালো করে শুট করা সম্ভব। কম্পিউটার জেনারেটেড ছবি নিয়ে মূলত তার আপত্তি ছিল। কিন্তু সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক তার সঙ্গে একমত ছিলেন না এবং সহযোগিতাও করেননি।
হলিউড রিপোর্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস কলম্বাস বলেন, ‘একজন নির্বাহী প্রযোজক আমাকে বলেছিলেন, ‘‘এসব নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু নেই। একটা দৃশ্য অন্য দৃশ্যগুলোর মতো ভালো হচ্ছে না তো কী সমস্যা? ওটা থাকুক আগের মতোই।’’ তখনই মনে হয়েছিল, আমি কখনো প্রযোজক হলে একজন নির্দেশককে এ ধরনের কোনো কথা বলব না।’
সেদিনের পরই ক্রিস কলম্বাস সিনেমা প্রযোজনা করার কথা চিন্তা করেন। এক সময় তার মেয়ে এলেনর কলম্বাসের সঙ্গে তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। মেইডেন ভয়েজ নামের প্রতিষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে তারা ১৪টি সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ এসেছিল ‘নসফেরাতু’। হেনরিক গ্লিনের একই নামের বই ও ব্রাম স্টোকারের ‘ড্রাকুলা’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্দেশক ছিলেন রবার্ট ইগার্স।
নিজের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা অনুসারে, সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি কন্যা এলেনরকে নিয়ে একটা নতুন কিছু করারও ইচ্ছা ছিল ক্রিসের। সেদিকে তারা ভালোই এগোচ্ছেন। ১৯৮৪ সালে ‘রেকলেস’ সিনেমার লেখক হিসেবে যাত্রা করে ৪০ বছর পর ২০২৪ সালে তিনি একজন সফল প্রযোজক।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার










