দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে নানা প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়। ফলে অনেক সময় শরীরে তৈরি হয় বিভিন্ন রোগ। পেশাগত কারণেও তাই মানুষ কিছু রোগে ভুগতে পারে। কটন স্পিনিং মিলে কাজ করতে গিয়ে অনেকেরই এমন কিছু রোগ হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কটন স্পিনিং শিল্প ও ফুসফুসসংক্রান্ত পেশাগত এমন রোগ নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে একটি শিল্প প্রদর্শনী। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় (গুলশান) উপস্থাপন হতে যাচ্ছে ইনটু মাই লাংস। এটি একটি মাল্টিমিডিয়া ও গবেষণাভিত্তিক শিল্প প্রকল্প, যার আলোচ্য বিষয় বাংলাদেশের কটন স্পিনিং শিল্প এবং বিসিনোসিস নামক ফুসফুস রোগ। রোগটি পেশাগত কারণেই তৈরি হয়।

প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেন শিল্পী আয়মান আলাজরাক ও ইমানুয়েল স্বেদিন। এর প্রযোজনা ও কিউরেশন করেছেন ফৌজিয়া মাহিন চৌধুরী। প্রকল্পটি শিল্প ও ক্ষেত্রভিত্তিক গবেষণার সংমিশ্রণ, যা টেক্সটাইল শ্রমিকদের জীবনযাপন ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সামনে তুলে ধরে।

প্রদর্শনীটি বিসিনোসিস নামে পরিচিত একটি প্রায় অচিহ্নিত ও সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ফুসফুসের রোগকে উপস্থাপন করবে। তুলার ধুলায় দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে কটন ও জুট স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের এ রোগ হতে পারে। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে স্পিনিং মিলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, কম বেতন ও কঠোর কর্মপরিবেশের বিষয়টি ব্যাপকভাবে অগ্রাহ্য হয়ে আসছে।

এ প্রদর্শনীতে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম, ব্যাখ্যামূলক ইনস্টলেশন এবং শিল্পী, চিকিৎসক, কর্মী সংগঠন ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রকাশ্য আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশের প্রধান টেক্সটাইল অঞ্চলে করা গবেষণার ভিত্তিতে প্রদর্শনীটি আয়োজিত। আজ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে বিকাল ৪টায়। প্রদর্শনীটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। রোববার (সাপ্তাহিক বন্ধ) বাদে এটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।