জিমি হেনড্রিক্স। রক মিউজিকের ইতিহাসে কিংবদন্তি গিটারিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। বিখ্যাত এ রক স্টারের কারণে যুক্তরাজ্যে প্যারাকিটের আবির্ভাব ঘটেছিল বলে যে ধারণা এতদিন ধরে চলে আসছিল, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা তা খারিজ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, মূলত আফ্রিকা থেকে আসা উজ্জ্বল বর্ণের এ পাখিগুলো ব্রিটেনে বছরের পর বছর ধরে ‘বর্ধিত’ জনসংখ্যা হিসেবে রয়েছে। জার্নাল অব জিওলজি এবং বিবিসিতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা অনুসারে অনেকের ধারণা ছিল ১৯৬০ সালে জিমি হেনড্রিক্স লন্ডনের কার্নাবি স্ট্রিটে একজোড়া প্যারাকিট অবমুক্ত করেছিলেন, তখন থেকেই ব্রিটেনে তাদের আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু অন্য অনেকে দাবি করেছিলেন, ১৯৫১ সালের দ্য আফ্রিকান কুইন চলচ্চিত্রের সেট থেকে পালিয়ে আসা পাখিদের মাধ্যমেই ব্রিটেনে তাদের আবির্ভাব ঘটেছিল।
যাহোক, সম্প্রতি গবেষকরা যুক্তরাজ্যজুড়ে প্যারাকিট খুঁজে বের করার জন্য জিওগ্রাফিক প্রোফাইলিং কৌশল ব্যবহার করেন। তাদের অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যে প্যারাকিটের আক্রমণের পেছনে হেনড্রিক্সের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যে প্যারাকিটগুলোর জীবনযাপন পাখিগুলোর বংশবৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে অনুসন্ধানকৃত এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে গবেষকরা ১৯২০, ’৩০
ও ’৫০ সালের ‘প্যারোট ডিজিজ স্কেয়ার’ শিরোনামের অনেকগুলো সংবাদ এবং সেই সঙ্গে এ রোগে মৃত্যুর অনেকগুলো পরিসংখ্যান খুঁজে বের করেন। বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, ‘প্যারোট
ফ্লু’র ভয়ে যারা টিয়া পাখি পুষত, তারা রোগটিকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য পাখিগুলোকে ছেড়ে দিয়েছিল। এগুলো ছাড়াও তারা ‘দুর্ঘটনাবশত’ ছেড়ে দেয়ার তথ্যও খুঁজে পান। অনুসন্ধানকৃত ওই গবেষণায়, দেশজুড়ে রোগের ভয়সংক্রান্ত এবং দুর্ঘটনাবশত প্যারাকিটদের পালিয়ে যাওয়ারও অনেকগুলো পরিসংখ্যান খুঁজে পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্যে প্যারাকিটদের উত্পত্তির কারণ সম্পর্কে গবেষকরা একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন। তাদের মতে, ১৯৮৭ সালে প্রবল ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে অনেক পাখি খাঁচা থেকে পালিয়ে আসে। ১৯৮৭ সালে প্যারাকিটদের পালিয়ে আসার সংখ্যা ১০ থেকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ১৯৮৮ সালে ১০০-তে দাঁড়িয়েছিল। সম্ভবত এভাবে পালিয়ে আসা পাখিগুলো যুক্তরাজ্যে বংশবৃদ্ধি শুরু করে। উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন জিমি হেনড্রিক্স।










