কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ অভিনয় করছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ চরিত্রের জন্য নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন তিনি। সিনেমার চরিত্র বাছাই থেকে ওজন কমানোসহ নানা প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন অহিদুর রহমানের সঙ্গে।
নতুন সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেসে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবটা প্রথম কীভাবে পেলেন?
তানিমের সঙ্গে আমার অনেক দিনের পরিচয়, কিন্তু কাজ করা হয়নি কখনো। মাঝে দু-একটা কাজের কথা হয়েছে, কিন্তু ফাইনালি কাজ করা হয়নি। খুবই শর্ট নোটিসে আমি এ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। ওদের হাতেও খুব একটা সময় ছিল না। ও আমাকে নক করে বলে, ‘বাঁধন আমার বনলতা এক্সপ্রেসে একটা চরিত্র আছে, তুমি করতে চাও কিনা।’ তারপর সে আমাকে উপন্যাসটা পাঠায় এবং আমি সেটা পড়ি। পড়ার পর আমি যে চরিত্র ভেবেছি সেটির জন্যই ও আমাকে চিন্তা করেছে।
আপনি শারীরিকভাবে ওজন কমিয়েছেন, সিদ্ধান্তটা কি আপনার নিজের ছিল, নাকি চরিত্রের প্রয়োজন থেকেই?
আমি আসলে সিদ্ধান্তটা অনেকটা নিজের জন্যই নিয়েছি, কারণ আমার ওজন বাড়াতে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম। শরীরের ওজন যেটা থাকা উচিত, তার থেকে বেশি হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলে। ওই জায়গা থেকে চিন্তা ছিল ওজনটা কমাতে হবে। এছাড়া আমি যে রকম চরিত্র পেয়েছি, সেখানেও শারীরিক ওজন একধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। সব মিলিয়ে ভেবেছি নিজেকে ফিট করব। এটা নিজের স্বার্থে আবার কাজের স্বার্থেও।
এ পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটা ছিল?
সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল আসলে প্রথম সময়টা, যখন ৭৮ কেজি থেকে অন্তত ৭৫ কেজিতে আসতে হবে। সময়টা খুবই কঠিন ছিল, কারণ প্রথম দিকে ওজন কমানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। এরপর আস্তে আস্তে ওজনটা কমতে থাকে। কিন্তু প্রথম দিকের দুই-তিন কেজি কমানোই সবচেয়ে কঠিন। শুরুর ওই পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি ছিল। ওটা হওয়ার পর আমি খুবই ইনস্পায়ার্ড হই এবং বাকি সময়টা নিজের যত্ন নিয়েছি, এক্সারসাইজ করেছি, ডায়েট করেছি।
এ সিনেমার জন্য শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিটা কীভাবে নিয়েছেন?
বনলতা এক্সপ্রেসে আমি যে চরিত্রে অভিনয় করছি, এটা আমাদের আশপাশেরই একটা চরিত্র। মানসিক প্রস্তুতি বলতে, আমার চরিত্রের মতো এমন মানুষ আমার আশপাশে প্রচুর দেখেছি। তাদের দেখে একধরনের গ্রুমিং তো আছেই। আমি খুব ভালো অবজারভার। এছাড়া তানিম চরিত্রটা ধারণ করতে আমাকে সাহায্য করেছে। সিনেমায় চঞ্চল ভাই আমার কো-অ্যাক্টর, তিনিও আমাকে অনেক হেল্প করেছেন।
আপনার মেয়ের কাছ থেকে কী ধরনের অনুপ্রেরণা বা সাহস পেয়েছেন?
আমার মেয়ে আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা ও সাহস। কারণ সে এখন আমার মায়ের ভূমিকায় চলে গেছে। সবকিছুতে ও আমাকে খুবই সাপোর্ট করে, শাসন করে, রাগ করে। ও আমাকে পুশ করেছে, যাতে আমি রেগুলার এক্সারসাইজ করি, অতিরিক্ত না খাই। সে জায়গাগুলোয় আমাকে সে সাহায্য করেছে।
মেয়ের মতামত বা চাওয়াগুলো কি আপনার কাজ বাছাইয়ে প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ, অবশ্যই মেয়ের মতামত আমার কাজ বাছাইয়ে প্রভাব ফেলে, যেমন বনলতা এক্সপ্রেসে ফেলেছে। কারণ এখানে চরিত্রের ব্যাপ্তি খুব বেশি না। কিন্তু আমার মেয়ে চেয়েছে যে আমি এ ধরনের একটা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকি বা তানিম নূরের সিনেমা করি।
এ সিনেমার গল্প বা আবহ আপনাকে কেন টেনেছে?
এ সিনেমার গল্প কেন টেনেছে, সেটা দর্শক রিলিজ হলেই বুঝতে পারবে। আমার ধারণা, এটা উৎসবের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পাবে এবং উৎসবের চেয়ে বেশি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হবে। হুমায়ূন আহমেদের গল্প মানুষকে কেন টানে, এর উত্তর আমার জানা নাই। হুমায়ূন আহমেদের গল্পই এমন যে মানুষকে টানবে। এছাড়া সিনেমার স্ক্রিপ্টও অনেক সুন্দর হয়েছে। প্রতিটি লাইনে, প্রতিটা ফ্রেমে মানুষ হাসবে।
হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব অনুভব করছেন কি?
অবশ্যই। কারণ আমার জীবনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে নাম লিখিয়েছিলাম স্যারের সঙ্গে দেখা করব বলে। স্যারের সঙ্গে আমি আড়াই বছর কাজও করেছি। স্যার আমার ভীষণ পছন্দের একজন লেখক। তার লেখা আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্পের কাজ হচ্ছে, সেখানে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে, আমি সে সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি।
দর্শক এ সিনেমায় আপনাকে কোন নতুন দিক থেকে চিনতে পারবে বলে মনে করেন?
আমি যে বড়লোকি চরিত্র করতে পারি, সেটা অনেক বছর পর মানুষ মনে করবে। কারণ সবসময় আমাকে খুবই স্ট্রাগলিং, দুঃখী ক্যারেক্টারের জন্য চুজ করে সবাই। এ ক্যারেক্টার দেখে বুঝবে যে বাঁধন সব ধরনের চরিত্র করতে পারে। অবশ্যই বনলতা এক্সপ্রেসে আমাকে দর্শক নতুনভাবে দেখবে।










