অ্যাজমা থেকে সৃষ্ট জটিলতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এ গুণী শিল্পী। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৩ বছর।

১৯৫৩ সালের ২০ আগস্ট রাজবাড়ীতে জন্ম তরুণ ঘোষের। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে ভারতের বরোদার এমএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তরুণ ঘোষ। ১৯৭৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকদের একজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৫-৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি এমএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ফোক পেইন্টিং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রাম’-এ কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালে ‘কিপার’ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি স্বাধীন শিল্পী হিসেবে কাজ করে গেছেন।

তরুণ ঘোষের চিত্রকর্মে উঠে এসেছে বাংলার ঐতিহ্য, মিথ ও ইতিহাস। তার বিখ্যাত ‘বেহুলা’ সিরিজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশাল ক্যানভাস সিরিজসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে পাখি, প্রকৃতি, প্রতিকৃতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতির নানা দিক তার কাজে প্রতিফলিত হয়েছে।

চিত্রশিল্পের পাশাপাশি তিনি শিল্প নির্দেশনায় যুক্ত হন। এ কাজের ক্ষেত্রে তিনি রেখেছেন অনন্য অবদান। চলচ্চিত্রে নিয়মিত শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন। আবু সাইয়ীদের ‘কিত্তনখোলা’র জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’, এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’-তেও শিল্প নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন।