মঞ্চ অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার, পরিচালক টনি মাইকেল গোমেজ। গত ১৪ এপ্রিল শহরকেন্দ্রিক কমেডি ও থ্রিলারের সংমিশ্রণে ‘ননসেন্স’ নামে ছয় পর্বের একটি ওয়েব সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিরিজটি দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এ সিরিজ ও তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমন দে
এরই মধ্যে আপনার অভিনীত ননসেন্স ওয়েব সিরিজটি দর্শকসাড়া পেয়েছে। এর ভাবনা ও শুরু নিয়ে যদি জানাতেন।
এ সিরিজ নিয়ে যখন আমরা ভাবি, তখন এটিকে টেলিফিল্ম হিসেবেই চিন্তা করেছিলাম। এর নির্মাতা রাকেশ বসু আমাকে একদিন বললেন, তাকে একটা গল্পের আইডিয়া দিতে। তারপর আমি একটা আইডিয়া দিই। পৃথিবীতে এ মুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের ননসেন্সের মধ্যে আমরা আছি। আমাদের দেশের রাজনীতিতেও আমরা অনেক ননসেন্স দেখি। আমার মাথায় এল, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এসব ননসেন্স ঘটনা নিয়ে সিরিজটি হতে পারে। পরে গল্পটা রাকেশদাকে দিই।
আপনার অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে জানতে চাই।
নাটক করা আমার নেশা ছিল। নাটক করার কারন আমার লেখাপড়া খারাপ হয়েছে। এমনকি বাসা থেকে বের করে দেয়ার অবস্থাও তৈরি হয়েছে। আমি ঢাকায় মঞ্চনাটক করেছি। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম নিয়ে মাস্টার্স করেছি। দুটি চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছি। আমি আমার জীবনে ২০০-এর বেশি ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করেছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৫০ বছর উদযাপন করার সে সময় আমি ‘বিফোর দ্য বিগেনিং’ নামে একটা তথ্যচিত্র নির্মাণ করি। যেটার কারণে আমি ২০২৩ সালে ফিল্ম ফর পিচ অ্যাওয়ার্ড পাই। তখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আমার মনে হলো, আবার চেষ্টা করা উচিত। সে চেষ্টা থেকেই আবার অভিনয়ে যাত্রা শুরু।
ভবিষ্যতে সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?
এ মুহূর্তে আমি বেশ কয়েকটা গল্প ধারণ করছি। সেগুলো নির্মাণের জন্য ফান্ডিং নিয়ে চিন্তা করছি। মানুষ এখন চলচ্চিত্রমুখী হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, বর্তমান সময়টি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সঠিক সময়। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রকে মাথায় রেখে আমি এ মুহূর্তে দুটি স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করছি। এর আগে প্রায় ২৪ বছরে আগে আমি টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছি। আমার বেশকিছু ফিকশনও আছে। বাংলাদেশে এইচআইভি নিয়ে প্রথম টেলিছবি আমার তৈরি করা। বাংলাদেশে খ্রিস্টান কমিউনিটির জন্য প্রথম বড়দিনের টেলিছবি কনফেস আমি তৈরি করেছি। যেহেতু আমি অভিনয় ও নির্মাণ নিয়ে পড়াশোনা করেছি, পাশাপাশি আমার ফিকশন নির্মাণের অভিজ্ঞতা আছে, সেহেতু অবশ্যই আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। কারণ এখনই সময় নতুন কিছু করার।
এমন কোনো চরিত্র আছে কি, যে চরিত্রে অভিনয় করার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন?
আমার কাছে একটা স্বপ্নের চরিত্র আছে এবং সেটা আমি করতে চাই। চরিত্রটার নাম এ মুহূর্তে বলতে চাই না। আমি বলতে চাই যে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, আমরা আইকনিক কোনো চরিত্র তৈরি করতে পারি না। আমার মনের ভেতর কাজ করে কোনো একটা চরিত্র, যেটা পজেটিভ। শিশু বা তরুণদের জন্য আইকন হতে পারে এমন একটা চরিত্রে কাজ করতে চাই।
আপনার আগামী কাজ নিয়ে যদি জানাতেন।
ননসেন্সের পর আমার সঙ্গে বেশ কয়েকজন পরিচালক কথা বলেছেন। একটা গল্প আছে ‘মানিব্যাগ’, এটা নিয়ে পরিকল্পনা করছি। ‘আগন্তুক’ নামে একটা গল্প আছে সেটা নিয়েও কাজ চলছে। এ রকম আরো কয়েকটা গল্প নিয়ে আলাপ চলছে এ মুহূর্তে।
আপনার অভিনয় পছন্দ করেন, এমন দর্শকের উদ্দেশে কিছু বলবেন?
দর্শকই তো শিল্পীদের মূল চালিকাশক্তি। তারা দেখে বলেই অভিনয়শিল্পীরা অভিনয় করেন। ফেসবুকে আমাকে যারা অনুসরণ করেন, সহকর্মী বন্ধু বান্ধব আমাকে অনুপ্রাণিত করছে প্রতিনিয়ত। এ অনুপ্রেরণাটাই আমার পাথেয় এবং দর্শকের এ ভালোবাসা যেন আমার প্রতি থাকে এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।










