গ্র্যামির ৬৭তম আসর বসেছিল গতকাল। এবার কে কে সেরা হবেন, তা নিয়ে আগে থেকেই নানা জল্পনাকল্পনা ছিল। তবে সব কাটিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলে নিলেন বিয়ন্সে। এ আসরে একাই ১১টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন। সর্বোচ্চ মনোনয়নের রেকর্ড তার। এছাড়া সর্বোচ্চসংখ্যক গ্র্যামি জয়ের রেকর্ডও তার। ৩২টি গ্র্যামি জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু কালকের গ্র্যামিতে বিয়ন্সেকেও ছাড়িয়ে গেছেন কেনড্রিক ল্যামার।

গত বছরটা ছিল টেইলর সুইফটের জয়জয়কার। এছাড়া বিয়ন্সেকে নিয়েও কথা হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া হয়েছিল এ বছর সং অব দ্য ইয়ার, অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, রেকর্ড অব দ্য ইয়ার ইত্যাদিতে বিয়ন্সে বা টেইলর সুইফটই থাকবেন। চার্লি এক্সসিএক্সের নামও এসেছিল। কিন্তু চমকে দিলেন কেনড্রিক ল্যামার। ‘নট লাইক আস’-এর জন্য তিনি পেয়েছেন রেকর্ড অব দ্য ইয়ার। একই গানের জন্য সং অব দ্য ইয়ারও পেয়েছেন তিনি।

পুরস্কার জিতে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরস্কারটি এ শহরকে উৎসর্গ করব। ছোটবেলা থেকে সে-ই আমাকে বড় করেছে। বড় বড় ঘটনা যখন ঘটেছে, তখন আমি এখানেই স্টুডিওতে বসে এক-একটা গান লিখেছি।’

এদিকে বিয়ন্সে পিছিয়ে নেই। একটি অ্যালবামের জন্যই ১১টি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অ্যালবামের নাম ‘কাউবয় কার্টার’। গত বছর ২৯ মার্চ মুক্তি প্রকাশ পায় অ্যালবামটি। এটি বিয়ন্সের অষ্টম স্টুডিও অ্যালবাম। এ অ্যালবামের গানগুলোয় কৃষ্ণাঙ্গ কাউবয়দের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। ‘কাউবয় কার্টার’-এর জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার পুরস্কার। বহুবার গ্র্যামি জিতলেও এবারই প্রথম অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার জিতলেন বিয়ন্সে। এছাড়া সেরা কান্ট্রি অ্যালবামের পুরস্কারও উঠেছে বিয়ন্সের ঝুলিতে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণাঙ্গ কোনো গায়িকার হাতে উঠল কান্ট্রি অ্যালবামের পুরস্কার। এ দুটিই তিনি পেয়েছেন এবারের গ্র্যামি থেকে।

beyonce

পুরস্কার হাতে মঞ্চে উপস্থিত বিয়ন্সে তার অনুভূতি প্রকাশের শুরুতেই লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকলকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে সম্বোধন করেন। এছাড়া বিয়ন্সে বলেন, ‘আমি নিজেকে পরিপূর্ণ অনুভব করছি। সেই সঙ্গে সম্মানিত বোধ করছি। বহু বছর ধরেই আমি গ্র্যামিকে ধন্যবাদ দিতে চাচ্ছি। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ প্রত্যেক গীতিকার, সহযোগী, সহকর্মী, সুরকার ও প্রযোজকদের। এ পুরস্কার আমি মিস লিন্ডা মার্টেলকে উৎসর্গ করতে চাই। তিনি বারবার আমাকে উৎসাহ না দিলে কাজটা করাই হতো না।’

ল্যামার ও বিয়ন্সে ছাড়া তরুণদের হাতেও উঠেছে পুরস্কার। বছরজুড়ে আলোচনায় ছিলেন চ্যাপেল রোন। ২৬ বছর বয়সী গ্র্যামিতে ছয় বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে চমকে দিয়েছেন। সাবরিনা কার্পেন্টার, টেডি সুইমসের মতো শিল্পীদের পেছনে ফেলে পুরস্কার জিতেছেন রোন। সাবরিনা কার্পেন্টার তার ‘এক্সপ্রেসো’র জন্য পেয়েছেন সেরা সলো পারফরম্যান্সের পুরস্কার।

এক নজরে—

রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: ‘নট লাইক আস’, কেনড্রিক লামার

অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: ‘কাউবয় কার্টার’, বিয়ন্সে

সং অব দ্য ইয়ার: ‘নট লাইক আস’, কেনড্রিক লামার

বেস্ট নিউ আর্টিস্ট: চ্যাপেল রোন

বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্স: ‘এক্সপ্রেসো’, সাবরিনা কারপেন্টার

বেস্ট পপ ডুয়ো অথবা গ্রুপ পারফরম্যান্স: ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’, লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্স

বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম: ‘শর্ট অ্যান্ড সুইট’, সাবরিনা কারপেন্টার

বেস্ট ড্যান্স অথবা ইলেকট্রনিক অ্যালবাম: ‘ব্রাট’, চার্লি এক্সসিএক্স

বেস্ট রক পারফরম্যান্স: ‘নাউ অ্যান্ড দেন’, দ্য বিটলস

সূত্র ভ্যারাইটি