চলে গেল ২০২৪ সাল। হলিউডের জন্য বছরটা ভালো ছিল না। সিনেমায় বৈচিত্র্য ছিল কম। এর মধ্যে কিছু সিনেমা নিয়ে নির্মাতাদের উচ্চাশা থাকলেও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে সেগুলো। এ নিয়ে হলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভাবার মতো অনেক বিষয় আছে। কিন্তু পাশাপাশি আরেকটি দিকেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। হলিউডে নারী নির্মাতাদের সিনেমার সংখ্যাও কমছে। বিশেষত তাদের হাত থেকে আসছে না ব্যবসাসফল সিনেমা। ২০২৪ সালে নারী নির্মাতাদের মাত্র ১৬ শতাংশ সিনেমা সাফল্য পেয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।

সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বিনোদন গণমাধ্যম ভ্যারাইটি ২০২৪ সালের সেরা ব্যবসা করা ২৫০ সিনেমার তালিকা করেছে। তাতে দেখা গেছে মাত্র ১৬ শতাংশ সিনেমার নির্মাতা নারী। এর মধ্যে আছে ‘বেবিগার্ল’, ‘লাভ লাইস ব্লিডিং’, ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ ও ‘দ্য ফায়ার ইনসাইড’। র‍্যাচেল মরিসনের দ্য ফায়ার ইনসাইড মুক্তি পায় ২০২৪ সালের শেষের দিকে। এগুলোর ‘বক্স অফিস নাম্বার’ বাড়ার মতো সময় ২০২৪ সালে আর ছিল না। অন্যদিকে রোজ গ্লাসের ‘লাভ লাইস ব্লিডিং’, অ্যালিস রোরওয়াচারের ‘লা সিমরো’ মুক্তি পেয়েছে স্বাধীন চলচ্চিত্র হিসেবে। কোনো বড় প্রডাকশন হাউজের ব্যানারে আসেনি। ফলে এদেরও বেশি আয় করার সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

সাম্প্রতিক এ গবেষণাপত্রের লেখক মার্থা লাউজেন জানান, কোয়ালি ফাউজেনের দ্য সাবস্ট্যান্স ও হেলিনা রেইনের বেবিগার্লের মতো সিনেমা এলেও তা ইন্ডাস্ট্রির অন্য নারী নির্মাতাদের খুব বেশি এগিয়ে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নারী নির্মাতাদের হাত ধরে বেশকিছু ভালো সিনেমা এসেছে। গ্রেটা গারউইগ, জেন ক্যাম্পিয়ন ও ক্লো ঝাওর মতো নির্মাতাদের সিনেমা দেখেছে ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু তাদের হাত থেকে ভালো সিনেমা ও সিনেমার সাফল্য খুব বেশিসংখ্যক নারী নির্মাতাকে ইন্ডাস্ট্রিতে টেনে আনেনি। অল্প কয়েকজনের সাফল্য বড়সংখ্যক নির্মাতার জন্য সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাস্তবে সে রকম ঘটনা ঘটেনি।’

মার্থা তার দীর্ঘ গবেষণায় দেখেছেন, ইন্ডাস্ট্রি বরাবরই পুরুষ নির্মাতাদের গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তাদের সামনে আনার পাশাপাশি প্রচারণার বড় অংশেই ছিলেন পুরুষ নির্মাতারা। ২৫০টি সেরা সিনেমার মধ্যে ১২ শতাংশের সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন নারী। গত বছরের তুলনায় তা বেড়েছে ৫ শতাংশ। সিনেমার চিত্রনাট্যকার ২০ শতাংশ। অন্যদিকে প্রযোজক ছিলেন গত বছর ২৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে এ সংখ্যা বেড়েছে। সংগীত পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা সবচেয়ে কম। মাত্র ৯ শতাংশ।

হলিউডের মূলধারার সিনেমার ক্ষেত্রে নারীরা সবসময় লাইমলাইটে থেকেছেন নায়িকা বা অভিনেত্রী হিসেবে। সেখানেও অবশ্য নারীদের উপস্থাপন ছিল চিরাচরিত এক ধারার। এর বাইরে দীর্ঘকাল ধরে নির্মাণের সঙ্গে নারীদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কম। ধীরে ধীরে তা বাড়ছে। বিশেষত ক্যামেরার পেছনে এখন বহু নারী কাজ করছেন।

২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে নারী নির্মাতাদের দেয়া সফল সিনেমার সংখ্যা বেড়েছে। সেখান থেকে ধারণা করা যায়, এ বছর নারী নির্মাতাদের কাছ থেকে আরো বেশিসংখ্যক সফল সিনেমা পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিভঙ্গি যত ভালো হবে, ততই ভালো কাজ বের হয়ে আসবে।

সূত্র: ভ্যারাইটি