কেননা ‘কাহানি ২: দুর্গা রানী সিং’কে ঘিরে হওয়া কপিরাইট মামলা খারিজ করেছেন আদালত। বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিচারপতি পিএস নৃসিংহ ও অলো আরাধের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে সিনেমাটি নকল হওয়ার অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আদালত উল্লেখ করে, অভিযোগগুলো ছিল অস্পষ্ট ও প্রমাণহীন এবং কোথাও স্পষ্ট করে দেখানো হয়নি যে ছবিটি কীভাবে অভিযোগকারীর স্ক্রিপ্টের সঙ্গে মিলে যায়।

এ মামলার সূত্রপাত হয় উমেশ প্রসাদ মেহতার অভিযোগ থেকে। তিনি দাবি করেন তার ‘সবাক’ শিরোনামের চিত্রনাট্যটি উল্লিখিত চলচ্চিত্রটির জন্য নকল করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৫ সালে তিনি তার চিত্রনাট্য নিয়ে সুজয় ঘোষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে হাজারিবাগের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০১৮ সালে কপিরাইট আইনের অধীনে সমন জারি করেন। পরে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন বিষয়টি বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।

পরবর্তী সময়ে সুজয় ঘোষ সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। তার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট সিদ্ধার্থ দাভে যুক্তি দেন, অভিযোগে কোনো প্রমাণ নেই, যা দুটি স্ক্রিপ্টের মধ্যে সাদৃশ্য দেখায় এবং এ মামলা আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।

সর্বোচ্চ আদালত এ যুক্তির সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সমন জারি এবং হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত—উভয় ক্ষেত্রেই যথাযথ বিচারিক বিবেচনার অভাব ছিল। আদালত আরো উল্লেখ করেন যে অভিযোগকারীর উপস্থাপিত সাক্ষ্য থেকেও প্রমাণিত হয়নি যে কোনো অংশ নকল করা হয়েছে।

রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল স্ক্রিন রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডিসপিউট সেটলমেন্ট কমিটির আগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি। সেখানে বলা হয়েছিল দুই কাজের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। আদালত উল্লেখ করেন, এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি সমন জারির সময় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া বেঞ্চ জানায়, ‘কাহানি ২’-এর চিত্রনাট্য অভিযোগকারীর স্ক্রিপ্ট তৈরির আগেই নিবন্ধিত হয়েছিল, ফলে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ টেকসই নয়।

সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা