গত কয়েক বছর অস্কারে ভাগ্য পরীক্ষা করছে ভারত। এর মধ্যে ‘নাটু নাটু’ দিয়ে ২০২৩ সালের অস্কারে সেরা মৌলিক গানের পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালেরই আরেক অস্কার মনোনীত সিনেমা ও তার নির্মাতা আড়ালে পড়ে গেছেন।

২০২৩ সালে ৯৫তম অস্কারে পূর্ণদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল ‘অল দ্যাট ব্রিদস’। পরিচালক শৌনক সেন। চূড়ান্ত মনোনয়নেও ছিল তথ্যচিত্রটি। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন তথ্যচিত্রে অস্কার ভারতে আসতে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ দৌড়ে সেরার শিরোপা হাতছাড়া হয় তার। সেরা ডকুমেন্টারি শর্ট হয়েছিল গুনীত মোঙ্গার ‘দি এলিফ্যান্ট হুইসপারার’। শৌনক পুরস্কার না পেলেও তার তথ্যচিত্রটি প্রশংসিত হয়েছে এবং গুনীতও প্রশংসা করেছেন। কিন্তু এরপর শৌনক হারিয়ে গেলেন। সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যমে এসেছে, গত কয়েক মাসে গুরুতর অসুস্থ তিনি। কিডনিতে ধরা পড়েছে ক্যান্সার।

হঠাৎই ক্যান্সার ধরা পড়ে শৌনকের। এরপর অস্ত্রোপচার হয়েছে। বাদ পড়েছে কিডনির একাংশ।

গত অক্টোবরে সাধারণ কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানতে পারেন তার কিডনিতে একটি টিউমার রয়েছে। পরে জানা যায় তা ‘ম্যালিগন্যান্ট’। সে সময় থেকেই শুরু হয় চিকিৎসা। যদিও রোগ ধরার পর আগ পর্যন্ত কিডনিসংক্রান্ত সমস্যা বা কোনো উপসর্গও ছিল না শরীরে, নিজেই তা জানিয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে শৌনক বলেন, ‘রোগটা ধরার পড়ার আগে পর্যন্ত শরীরে কোনো ধরনের অসুস্থতা ছিল না। এমনকি আমার বংশানুক্রমেও ক্যান্সারের কোনো ইতিহাস নেই। সেভাবে ধূমপান বা মদ্যপানও করি না। ধরার পড়ার পরই অস্ত্রোপচারের কথা বলা হয় আমাকে। ২৬ ডিসেম্বর নেফ্রোটমি করে আমার কিডনির একাংশ বাদ দেয়া হয়।’

অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে, ক্যান্সার অংশ বাদ দেয়া হয়েছে। তবে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ায় খুব তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেছে বলে জানান শৌনক। খানিক রসিকতা করেই তিনি বলেন, ‘এ সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার একটা ছুতো পেয়ে গেছি।’

গত বছর দুর্গাপূজা থেকে দীপাবলি, বড়দিন থেকে নববর্ষ—পুরোটা সময়ই হাসপাতালের বিছানায় কাটাতে হয়েছে শৌনককে। জীবনের এ কঠিন সময়ে পাশে থাকা বন্ধু, সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সূত্র ও ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস