পরিবর্তনের হওয়া লেগেছে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে। প্রযুক্তির কল্যাণে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেছে বিনোদন গ্রহণের ক্ষেত্র। সিনেমা হল, টিভি, ডিভিডি ছাড়িয়ে বিনোদন স্থান করে নিয়েছে ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের দর্শকও বিনোদন গ্রহণের মাধ্যম ওটিটি প্লাটফর্মে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। নির্মাতারাও নতুন নতুন কনটেন্ট নির্মাণে দর্শকের নজর কাড়ছেন। বিশেষ করে তরুণরা আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইন প্লাটফর্মগুলোয় তাদের প্রিয় শিল্পীর কনটেন্ট দেখতে।

টেলিভিশনভিত্তিক বিনোদন থেকে বের হয়ে হাতের নাগালেই অনলাইন প্লাটফর্মের (ওটিটি) প্রতি আগ্রহ বাড়ছে তাদের। বিনোদনপ্রিয় দর্শকের কথা চিন্তা করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশ কয়েকটি ওটিটি প্লাটফর্ম তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সফলতার সঙ্গে। নাটক সিনেমার প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে তৈরি করছে ভিন্ন কিছু। যার কারণে দর্শকও আস্থা রাখছেন এসব প্লাটফর্মে।

কিন্তু এক সময় দর্শক পারিবারিক, প্রেম-ভালোবাসা, মান-অভিমানের গল্প খুঁজত টিভি নাটকগুলোয়। বর্তমানের নাটকগুলোয় ঘুরেফিরে একই কাহিনী হওয়ায় দর্শকের চোখ এখন খুঁজে ভিন্ন কিছু। তাদের এ চাহিদা পূরণে এগিয়ে এসেছে ওটিটি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়েছে ফরম্যাটের এ পরিবর্তন। সাধারণত টিভিতে প্রচারিত একক নাটক ৩০-৫০ মিনিটের হয়ে থাকে, ধারাবাহিক নাটক ৫০-এর বেশি পর্বের হতেও দেখা গেছে। এসব নাটকে দেখা যায় ঘুরেফিরে একই গল্প। তাতে থাকে কমেডি ঘরানার আধিক্য। এছাড়া থাকে দর্শককে জোর করে হাসানোর প্রতিযোগিতা। এদিকে ওটিটি সিরিজে এক সিজনে থাকে ২০-৪০ মিনিট দৈর্ঘ্যের একাধিক পর্ব। সেগুলোর গল্পে থ্রিলার, সামাজিক বাস্তবতা, মনস্তত্ত্ব, অপরাধ, ডার্ক কমেডি প্রাধান্য পায়। জটিল কাহিনী, চরিত্রের গভীরতা ও একাধিক সাব-প্লট থাকে এসব গল্পে। কনটেন্টগুলো দর্শক সাবস্ক্রিপশন অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে দেখে থাকে। তাই গল্পের মান, নির্মাণশৈলী, অভিনয়—সবকিছুর মানোন্নয়ন বাধ্যতামূলক। দর্শক এখন আর টিভি অন করে নাটক খোঁজে না, খোঁজে তাদের ভালো লাগা। এ চাহিদাই নির্মাতাদের বাধ্য করছে নতুনভাবে ভাবতে। তাই পছন্দের তালিকায় টিভি নাটক থেকে ওয়েব সিরিজ একধাপ এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে দর্শক। তবে টিভি নাটক এখনো শহরের বাইরে, মধ্যবয়সী দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়। কিন্তু নগর ও তরুণ দর্শকের বড় অংশ এখন ওয়েবে যুক্ত। টিভি নাটককে পাশ কাটিয়ে ওয়েব সিরিজগুলো দর্শক আগ্রহে আসার পেছনে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য কারণও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিভি নাটকের গল্পে একঘেয়েমি, অল্প সময়ে নির্মাণ, বিজ্ঞাপনের জন্য নাটকে কাটাছেঁড়া এসবই নাটকের মান কমিয়ে দিয়েছে; যা দর্শকবিমুখতার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি ওয়েব সিরিজে গল্প বলার স্বাধীনতা দর্শকের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

ওয়েব সিরিজগুলো যেমন দর্শক টানছে, তেমনই নির্মাতারাও নিজেদের মতো করেই গল্প তৈরি করতে পারছেন। ওটিটি প্লাটফর্ম আসার পর থেকে আরো একটি বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সেটা হলো নতুন মুখের আবির্ভাবে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে মাধ্যমটি। টিভি নাটকে যারা সুযোগ পেতেন না, তারাই এখন ওয়েবে জনপ্রিয়। বিশেষত চিত্রনাট্যকারদের স্বাধীনতা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার সীমাবদ্ধতা না থাকায় গল্পের গভীরে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। অভিনয়শিল্পীরাও সময় নিয়ে নিজের সবটুকু দেয়ার সুযোগ পান এ প্লাটফর্মগুলোয়। তাই বাস্তবতার নিরিখে বলাই চলে, টিভি নাটকের ক্রান্তিকালের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে ওটিটি প্লাটফর্ম।










