আমির খানের ৩১ বছর বয়সে মুক্তি পায় ‘রাজা হিন্দুস্তানি’। মিস্টার পারফেকশনিস্ট গতকাল পূর্ণ করলেন ৬০ বছর। এদিকে মুক্তির ২৯ বছর পরও জনপ্রিয় রাজা হিন্দুস্তানি। শুধু তাই নয়, এ সিনেমার মধ্য দিয়ে আমির খানের তারকাখ্যাতি ফেরার পাশাপাশি তিনি একটা নতুন নামও পেয়েছিলেন। অমিতাভ বচ্চনের যেমন শাহেনশাহ, শাহরুখ খানের যেমন বাদশাহ, আমির খান হয়ে উঠেছিলেন রাজা হিন্দুস্তানি।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন ধর্মেশ দর্শন। গল্পটা খুব সাধারণ। যদিও সিনেমার রাজা বাস্তবের কোনো রাজা ছিল না বরং ছিল গরিব, তার সে সাধারণত্বকেই দর্শক আপন করে নিয়েছিল। রাজা ছিল একজন ভালো বন্ধু, চমৎকার সঙ্গী ও একজন প্রেমিক।

30

ধর্মেশের প্রথম সিনেমা ছিল ‘লুটেরে’। অভিনয় করেছিলেন সানি দেওল, জুহি চাওলা, নাসিরুদ্দিন শাহ, অনুপম খের প্রমুখ। সিনেমাটি সুপারহিট হয় এবং প্রায় সবাই ধর্মেশের পরিচালনায় অভিনয়ের জন্য আগ্রহী হন। কিন্তু তিনি আমির খানকে বেছে নেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সব অভিনেতা সে সময় আমার পরিচালনায় সিনেমায় অভিনয় করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু আমি আমির খানকে বেছে নিই। কারণ তাকে আমার পারফরমার মনে হয়েছিল। আমি ভারতীয় সিনেমা নিয়ে ভাবতাম এবং সেও ভাবত। আমাদের চিন্তাধারায় মিল থাকাও একটা কারণ।’

আমির খান ততদিনে প্রায় ২৫টা সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেছেন, কিন্তু কোনোটিই বড় হিট ছিল না। শাহরুখ ও সালমান ততদিনে বলিউডে বড় নাম হয়ে উঠেছেন। ধর্মেশ বলেন, ‘আমি সিনেমা মুক্তির ১০ দিন আগে ইন্দোর গিয়েছিলাম। আমার বাবা বলছিলেন যে সিনেমায় শাহরুখ, সালমান, অমিতাভ বচ্চন বা কাজল নেই, সেটা হিট করবে না। আমি তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছিলাম যে সিনেমাটা ভালো করবে, কারণ এটা একটা অসাধারণ গল্পের ওপর নির্মিত। বিশেষত আমির খান সেখানে দুর্দান্ত কাজ করেছেন।’

কিন্তু কোনো সিনেমা নির্মাণের সময়ই কি নির্মাতা এতটা নিশ্চিত হতে পারেন? ধর্মেশ নিজেও স্বীকার করেছেন, তিনি এতটা নিশ্চিত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘সিনেমা নির্মাণের মাঝে আমার কয়েকবারই মনে হয়েছিল, এটা আসলেও ভালো করবে কিনা। আমার তখন বয়স কম ছিল। আশপাশে অনেক বড় বড় প্রযোজকরা ছিলেন। আমি সেখানে চলমান ধারার বাইরে গিয়ে সিনেমা নির্মাণ করেছিলাম।’

সন্দেহ থাকলেও ধর্মেশ তার কাজ থেকে সরে যাননি। তিনি সিনেমাটা নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একদিনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন যে তার মা তাকে বলেছিলেন সিনেমাটা যেমন হোক, ধর্মেশ যেন কাজটা শেষ করেন। তারপর যা হবে, দেখা যাবে। বিষয়টা ধর্মেশকে প্রেরণা দিয়েছিল। সিনেমা মুক্তির পর তা সুপারহিট হয়। এখানেই শেষ নয়। আমির খান এ সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কারও জিতেছিলেন।

আমির খান এর পর বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার ‘লগান’, ‘দঙ্গল’, ‘দিল চাহতা হ্যাঁয়’, ‘সরফরোশ’, ‘মঙ্গল পাণ্ডে’, ‘গজনী’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ প্রশংসিত। কিন্তু রাজা হিন্দুস্তানির নাম আলাদা করে আসে। এ সিনেমা যে বিশাল দর্শকশ্রেণীর কাছে পছন্দ, তা অন্য অনেক সিনেমা পায়নি।

ধর্মেশের সঙ্গে আমির খানের সম্পর্ক রাজা হিন্দুস্তানির আগে থেকেই। কিন্তু এর পর তাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় এক দশক ধরে পরিচিত ছিলাম। এর পর সিনেমাটা নির্মাণ করি। আবার গত দুই দশকে কখনো তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। আমরা একই উপশহরে বাস করি। একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, কিন্তু দুজন দুজনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সত্যি বলতে এ একটা সিনেমা আমাদের সম্পর্কের সূত্র হয়ে আছে।’

রাজা হিন্দুস্তানিতে আমিরের বিপরীতে অভিনয় করেন কারিশমা কাপুর। এছাড়া ছিলেন কুনাল খেমু, অর্চনা পূরণ সিং, জনি লিভার, সুরেশ ওবেরয় প্রমুখ। এ সিনেমার গান, কারিশমার সাজও দর্শক পছন্দ করেছিল।

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান