ওয়েস্টার্ন ঘরানা জনপ্রিয় বহুদিন ধরে। একটা সময় ওয়েস্টার্ন জনরার বইয়ের বিক্রি ছিল দারুণ। এখনো আমেরিকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে ওয়েস্টার্ন প্রচুর বিক্রি ও পঠিত। এরপর আসতে শুরু করে সিনেমা। ওয়েস্টার্ন দিয়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিলেন জন ওয়েন, ক্লিন্ট ইস্টউড, গ্যারি কুপার, জেমস স্টুয়ার্ট ও হেনরি ফন্ডা। এরপর আরো অনেক তারকা এসেছেন। সিনেমার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে টেলিভিশন সিরিজও। আজ কথা হবে সেরা কিছু ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিজ নিয়ে। তালিকাটি করেছে হলিউড-ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য হলিউড রিপোর্টার।

কার্নিভেল: সিরিজটি নির্মাণ ও প্রচার করেছে এইচবিও। দুই সিজন পার করা এ সিরিজের পরিচালনায় ছিলেন ড্যানিয়েল নফ। ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়ে সিরিজটি চলেছিল ২০০৫ পর্যন্ত। মূলত গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় চলা একটি কার্নিভালকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিরিজের গল্প। এতে ভালো-মন্দের মধ্যকার সে আদি দ্বন্দ্বটির বিষয় এসেছে। ২৪ এপিসোড ধরে ওকলাহোমার এক কিশোর বেন হকিংস ও একজন জাদুকরী ব্যক্তিত্বের যাজকের গল্প বলা হয়েছে।

হ্যাটফিল্ড অ্যান্ড ম্যাকয়েস: হিস্ট্রি চ্যানেলে প্রচারিত এ সিরিজ মূলত মিনি সিরিজ। এতে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের গল্প তুলে আনা হয়েছে। কেভিন কস্টনার অভিনয় করেছেন ডেভিল হ্যাটফিল্ড চরিত্রে। এছাড়া বিল প্যাক্সটন অভিনয় করেছেন রেন্ডাল ম্যাকয় চরিত্রে। এ দুই চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প চলে যায় তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের গল্পে। রক্তক্ষয়ী একটা যাত্রা দেখা যায় সেখানে।

১৮৮৩: ডাটন পরিবারের গল্প নিয়ে এ সিরিজ। মূলত গ্রেট প্লেইনের ইতিহাস ও ঊনবিংশ শতকের সেখানকার গল্প নিয়েই সিরিজটি এগিয়ে যায়। ১৮৮৩-তে অভিনয় করেছেন স্যাম এলিয়ট, ফেইথ হিল, টিম ম্যাকগ্র ও ইসাবেল মে। টেইলর শেরিডানের পরিচালনায় এ সিরিজে বেশকিছু বন্দুকযুদ্ধ দেখা যায়। সিরিজটি প্রচার হয়েছে প্যারামাউন্ট প্লাসে।

ল্যান্ডম্যান: প্যারামাউন্টেরই আরেকটি সিরিজ। টেক্সাসের তেলের খনি থেকে খানিক সরে এসে সিরিজটির গল্প আবিষ্কার করে আরো অনেক কিছু। টেইলর শেরিডানই নির্মাণ করেছেন সিরিজটি। অভিনয় করেছেন বিলি বব থর্নটন। তার চরিত্রের নাম টমি নরিস। তিনিই সিরিজের অন্যতম প্রধান ল্যান্ডম্যান। এ সিরিজ কিছুটা আধুনিক সময়ের, কারণ টমি মূলত শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করে। সেই সঙ্গে সিরিজের সময়কালও বর্তমানের কাছাকাছি। সব মিলিয়ে অন্যান্য ওয়েস্টার্ন সিরিজ বা সিনেমায় যে অতীতের বিষয়টা থাকে, ল্যান্ডম্যানে সেটা নেই। তাছাড়া এ সিরিজ অনেক বেশি বাণিজ্যমুখী। থর্নটনের পোশাক-আশাকে মন্টানা, ওকলাহোমার ছাপ থাকলেও তা অনেকটা আধুনিক সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। সিরিজের অন্যান্য প্রপও তার প্রকাশক। সিরিজের আরেক আগ্রহোদ্দীপক বিষয় হলো এতে অভিনয় করেছেন ডেমি মুর।

14

লংমায়ার: নেটফ্লিক্সের সিরিজ লংমায়ার। এতে ওমিং কান্ট্রির শেরিফ ওয়াল্ট লংমায়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবার্ট টেইলর। সম্প্রতি বিপত্নীক হওয়া এ ব্যক্তি একটা এলোমেলো ও অস্থির অঞ্চলকে স্থির রাখার চেষ্টা করেন। সিরিজ সেই গল্পই বলে। কিন্তু দেখা যায়, নিয়ম মেনে অনেক কিছু করতে গেলে সময় গড়িয়ে যায়। তাছাড়া অনেক অপরাধ নিয়েই কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে জটিলতা কেবল বাড়তে থাকে। ‘এ অ্যান্ড ই’-তে প্রচার শুরু হয়েছিল সিরিজটি, কিন্তু তিন সিজন পর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আবার নেটফ্লিক্সে নতুন করে শুরু হয়। এতে অভিনয় করেছেন ক্যাটি শ্যাকফ, লোই ডায়মন্ড ফিলিপস, বেইলি চেজ, ক্যাসিডি ফ্রিম্যান ও অ্যাডাম বার্টলি।

ডেডউড: ২০০৪ সালে শুরু হয় এইচবিওর সিরিজ ডেডউড। সিরিজটি পুরোপুরিই ওয়েস্টার্ন। দক্ষিণ ডাকোটার একটি খনি ও তার আশপাশের পরিবেশ নিয়ে এ সিরিজের গল্প। উনিশ শতকের সত্তরের দশকের কথা বলে সিরিজটি। টিমোথি ওলিফ্যান্ট অভিনয় করেছেন একজন শার্প শুটিং মন্টানা মার্শালের চরিত্রে। এছাড়া ইয়ান ম্যাকশেন অভিনয় করেছেন দুর্ধর্ষ, অত্যাচারী ব্যক্তির চরিত্রে। শহরে তার একটি সেলুন, বেশ্যালয় ও হোটেল আছে। এদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও সংঘাত নিয়েই সিরিজ।

মেয়র অব কিংসটাউন: টেইলর শেরিডানের আরেকটি কাজ। এটিও প্রচার হয়েছে প্যারামাউন্ট প্লাসে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেরেমি রেনার। তার চরিত্রের নাম মাইক ম্যাককালস্কি। তিনি মিশিগানের কিংস্টনের একজন অঘোষিত মেয়র। সেখানকার নানা দ্বন্দ্ব, পরিবার ও ব্যবসায়িক নানা জটিলতা নিয়ে সিরিজটি এগোয়। এটির চতুর্থ সিজন নির্মিত হয়েছে এরই মধ্যে।

দ্য হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে আসরার আবেদিন