গত ১২ জুলাই থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান টু’। কমল হাসান অভিনয় করেন মূল চরিত্রে। সিনেমাটি অনেক বড় বাজেটের এবং ১৯৯৬ সালের ‘ইন্ডিয়ান’-এর সিকুয়াল। এটি বক্স অফিসে বেশ বড় মাপের ব্যবসা করার কথা থাকলেও ফ্লপ করে। অথচ সিনেমা মুক্তির আগেই এর নির্মাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘ইন্ডিয়ান থ্রি’ও নির্মাণ করবেন। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে, তা সহজ হবে না। এ নিয়ে বহুদিন পর মুখ খুললেন সিনেমার নির্মাতা শঙ্কর। তিনি মনে করেন, তার সিনেমা দর্শকের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। তিনি ভালো একটা ভাবনা দর্শকের মধ্যে ছড়াতে চেয়েছিলেন।

সম্প্রতি তামিল ম্যাগাজিন ভিকাতানের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে শঙ্কর বলেন, ‘আমি একটা শুদ্ধ ভাবনা ছড়াতে চেয়েছি দর্শকের মধ্যে। সে জায়গা থেকে আমি খুশি। ‘‘ঘর পরিচ্ছন্ন থাকলে জাতিও পরিচ্ছন্ন থাকবে’’ এই ছিল আমার তত্ত্ব। মনে হয়েছিল, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর একটি চিন্তা। একটা প্রশ্ন অবশ্য থাকে যে এটা বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব।’

শঙ্করের সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো করেনি, কিন্তু তিনি মনে করেন সিনেমাটির প্রভাব থাকছে। এ নিয়ে শঙ্কর বলেন, ‘খেয়াল করে দেখবেন, তেলেঙ্গানায় এক নারী প্রকৌশলীর স্বামীর ঘুস নেয়ার ভিডিও প্রকাশ হয়েছিল। অনেকেই মনে করছেন, এটা সম্ভব হয়েছিল ইন্ডিয়ান টু সিনেমার কারণে। আমরা সিনেমায় যা দেখিয়েছিলাম, তার বাস্তব রূপ দেখতে পাচ্ছি। আমি এতে খুশি।’

অর্থাৎ সিনেমার সাফল্য কেবল বক্স অফিস দিয়ে মাপতে চান না শঙ্কর। তিনি আরো একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। শঙ্কর বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন অটোরিকশা চালক তার যাত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নেন। কিন্তু অটোচালকের ছেলে বিষয়টি জানার পর বাবাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ধরনের গল্প জানার পর মনে হয়, আমি সিনেমার মাধ্যমে বার্তা পাঠাতে পেরেছি।’

সে কারণেই শঙ্কর এখনো তার সিনেমা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। সিনেমার আর্থিক ব্যর্থতায় অনেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইন্ডিয়ান থ্রি ওটিটিতে মুক্তি পাবে। কিন্তু শঙ্কর সেসব নাকচ করে জানান, ইন্ডিয়ান থ্রিও থিয়েটারেই মুক্তি পাবে।

সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস