গত বৃহস্পতিবার ৮৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করা হয়।
চাক নরিসকে বৃহস্পতিবার হাওয়াইয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং শুক্রবার তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানায় যে সেদিন সকালেই তিনি মারা গেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা পরিস্থিতির বিস্তারিত গোপন রাখতে চাই, তবে এটুকু জানাতে চাই যে তিনি পরিবারের সদস্যদের ঘিরে শান্তিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’
চাক নরিস অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন। তিনি তার অ্যাকশন দিয়ে দর্শককে বিনোদিত করেছেন। মার্শাল আর্টকে তিনি সিনেমায় উপস্থাপন করেছিলেন ভিন্ন মাত্রায়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন একজন মার্শাল আর্টিস্ট, অভিনেতা এবং শক্তির প্রতীক। আমাদের কাছে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী, স্নেহময় বাবা ও দাদা, অসাধারণ ভাই এবং আমাদের পরিবারের প্রাণকেন্দ্র। তিনি তার জীবন কাটিয়েছেন বিশ্বাস, উদ্দেশ্য এবং প্রিয়জনদের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি নিয়ে। তার কাজ, শৃঙ্খলা ও দয়ার মাধ্যমে তিনি সারা বিশ্বের কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়েছেন এবং অসংখ্য জীবনে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ১৯৪০ সালের ১০ মার্চ জন্ম নরিসের। অ্যাকশন সিনেমার আইকন ছিলেন তিনি। তার জনপ্রিয় বিশেষ কাজগুলো হলো টিভি সিরিজ ‘ওয়াকার’, ‘টেক্সাস রেঞ্জার’। এগুলোই তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। এ কাজগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয় নরিসকে। ১৯৮০-এর দশকের একাধিক অ্যাকশন সিনেমা, যেমন ‘মিসিং ইন অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন অ্যাকশন ঘরানার অন্যতম মুখ।
অ্যাকশন তারকা হিসেবে নরিসের এমন এক ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল, যা বেশির ভাগ অন্যদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তিনি ১৯৭২ সালে কিংবদন্তি ব্রুস লির বিপরীতে অভিনয় করেন ‘দ্য ওয়ে অব দ্য ড্রাগন’ (যা ‘রিটার্ন অব দ্য ড্রাগন’ নামেও পরিচিত) চলচ্চিত্রে। এ সিনেমা বিশ্বজোড়া খ্যাতি পায় দুই মার্শাল আর্টিস্টের অ্যাকশন দেখে।
অভিনয়ে আসার আগেই মার্শাল আর্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিতি পান নরিস। একাধিক ব্ল্যাক বেল্টধারী এ তারকা তার শারীরিক দক্ষতা ও শৃঙ্খলার জন্য আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। কেবল অভিনয় নয়, নরিস বাস্তবেও মার্শাল আর্টিস্ট ছিলেন। তিনি জুডোতে ব্ল্যাক বেল্ট, ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিৎসুতে তৃতীয় ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট, কারাতেতে পঞ্চম ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট, তায়কোয়ান্দোতে অষ্টম ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট, ট্যাং সু ডোতে নবম ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট এবং চুন কুক ডোতে দশম ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেছিলেন। হলিউডে এসে সেই দক্ষতাকেই তিনি পর্দায় রূপ দেন, যা তাকে অন্য অ্যাকশন তারকাদের থেকে আলাদা করে তোলে।
শুধু সিনেমা বা সিরিজেই নয়, ইন্টারনেট সংস্কৃতিতেও চাক নরিস ছিলেন এক অনন্য নাম। তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘চাক নরিস ফ্যাক্টস’ মিম তাকে নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় করে তোলে, যেখানে তাকে প্রায় ‘অপরাজেয়’ এক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হতো। দক্ষিণ ভারতের অভিনেতা রজনীকান্ত চাক নরিস দ্বারা প্রভাবিত বলে মনে করা হয়।
চাক নরিসকে নিয়ে নানা রকম ‘ফান কোট’ চালু আছে। যেমন বলা হয়—‘কেবল চাক নরিসই হারাতে পারেন’, ‘চাক নরিস কখনো ভুল নম্বরে ডায়াল করেন না, যে কল তোলে ভুলটা তার’, ‘চাক নরিস তার পা দিয়েই জুতার ফিতা বাঁধতে পারেন’।










