দেড় দশক ধরে ছোট পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে চলছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন। গত বছর সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। তার অভিনীত সেই ‘প্রিয় মালতী’ দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ২০ ডিসেম্বর।
এর আগে সিনেমাটি ‘ইউ গ্রেড’ (সব বয়সী দেখতে পারবেন) নিয়ে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। এদিকে ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর মহাখালীর স্টার সিনেপ্লেক্সে আয়োজন করা হয় প্রিয় মালতীর সিনেমার বিশেষ প্রিমিয়ার। সেখানে সিনেমাটির সব কলাকুশলী উপস্থিত ছিলেন। মেহজাবীনসহ সিনেমাটির নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত, প্রযোজক আদনান আল রাজীব উপস্থিত ছিলেন।
তারা সবাই এদিন সিনেমাটি উপভোগ করেন। প্রিমিয়ার শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রিয় মালতীসংশ্লিষ্টরা।
সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে মালতী চরিত্রে অভিনয় করা মেহজাবীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে সিনেমার গল্পটা নতুন। চাইলেই অন্য গল্প উপস্থাপন করতে পারতাম। গল্পটা এত গুরুত্বপূর্ণ যে এটা নিয়ে কথা বলা উচিত। আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি অনেক মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে, শুধু অ্যাম্বুলেন্স হসপিটাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না বলে। আমরা এটা দেখছি বিভিন্ন মার্কেটে আগুন লাগলে কী কী করা উচিত সে ব্যবস্থা করা হয় না। এ ধরনের গল্পে আমাদের দেশে সিনেমা নির্মাণ হয় না। ফলে সিনেমাটিতে কাজ করা। যেন সিনেমা দেখে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসে।’
প্রিয় মালতীর দর্শক সাড়া নিয়ে মেহজাবীন বলেন, ‘সিনেমাটির গল্পের সঙ্গে সবাই ইমোশনাল কানেক্ট হতে পেরেছে। আমি দর্শকের যতটুকু সাড়া পেয়েছি, তার ৯০-৯৫ ভাগ ইমোশনাল হয়ে এক ধরনের ভাবনা নিয়ে সিনেমা হল থেকে বের হয়েছে। দর্শক এত পরিমাণে সিনেমাটির সঙ্গে কানেক্টেড হবে ভাবিনি। এটা আমার কাছে একটা বড় অর্জন।’
প্রিয় মালতী নিয়ে সিনেমাটির প্রযোজক আদনান আল রাজীব বলেন, ‘আমাদের সবার আইডিয়া ছিল এমন একটা গল্প বলব, যা মানুষ বিশ্বাস করবে এবং সিনেমাটি শেষ হওয়ার পরে দর্শক যেন কিছু একটা নিয়ে হল থেকে বের হতে পারে। যারাই সিনেমাটি দেখেছেন, সবাই প্রশংসা করছেন। আমরা এটাই চেয়েছিলাম। সাধারণ দর্শক যারাই সিনেমাটি দেখেছেন তারা ভালো বলছেন। সিনেমাটি ফ্যামিলি নিয়ে হলে এসে দেখছেন যারা, সবাই পজেটিভ বলছেন। এ পর্যন্ত আমি নেগেটিভ কিছু শুনেনি। আমার মনে হয় এটাই আমাদের সার্থকতা। সিনেমাটি দর্শক হল দেখে থেকে বের হয়ে বলতে পারবে না একটা খারাপ সিনেমা দেখেছি।
প্রিয় মালতীর নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মেহজাবীন পুরো সিনেমাটির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আমাদের গল্পে যত চরিত্র ছিল সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কার চরিত্র কত বড় তা না হয়ে আমার মনে হয় কে কতটা তার চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন সেটাই বড়। যখন চরিত্রটা ফুটে ওঠে, তখন গল্পটাকে টেনে নিতে বেগ পেতে হয় না। সে জায়গা থেকে আমি ভাগ্যবান প্রিয় মালতীর প্রতিটা চরিত্র ফুটে উঠেছে।’
সিনেমাটি নারীকেন্দ্রিক হওয়া নিয়ে শঙ্খ বলেন, ‘গল্প নারী নাকি পুরুষকেন্দ্রিক সেটা ভাবি না। যে গল্পটা বলা গুরুত্বপূর্ণ সেটাই বলার চেষ্টা করি। পুরুষকেন্দ্রিক সিনেমা হতেই হবে, এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। আমার মনে হয় এমন নারীপ্রধান গল্প আরো হওয়া উচিত’
সিনেমাটির প্রিমিয়ারে সাংবাদিকসহ অসংখ্য তারকা-পরিচালক-প্রযোজক উপস্থিত ছিল।










