সামান্থা বারবাশ, হাসলারস ছবিতে অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের চরিত্রের বাস্তব অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি এ নারী ছবিটির নির্মাতা ও রচয়িতাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে এসটিএক্স ফিল্মস, লোপেজের নিউওরিকান প্রডাকশনস, গ্লোরিয়া স্যানচেজ প্রডাকশনস অ্যান্ড পোল সিস্টার্স এলএলসিও রয়েছে।

হাসলারস-এ একজন সংগ্রামী নর্তকী ডেসটিনির জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়। ডেসটিনি (কনস্ট্যান্স উ) একসময় শীর্ষ নর্তকী রামোনার (জেনিফার লোপেজ) সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। পরে রামোনা তাকে একটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ফেলেন। ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকারদের প্রলুব্ধ করে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাদের ছিনতাই করেন। ষড়যন্ত্র, হামলা ও অপহরণের জন্য বারবাশ তার বাস্তব জীবনে ২০১৬ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এটা প্রমাণ করতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। হাসলারস ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘দ্য হাসলারস অ্যাট স্কোরস’ শিরোনামের গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়। যদিও হাসলারস হলো ‘দ্য হাসলারস অ্যাট স্কোরস’-এর কল্পিত সংস্করণ। কিন্তু বারবাশ মামলায় দাবি করেন, রামোনা চরিত্রটির সঙ্গে তার মিল রয়েছে।

বারবাশের আইনজীবী ব্রুনো ভি জিওফ্রে রোলিংস্টোনকে বলেন, আমার মক্কেল খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কারণ অভিযুক্তরা ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের জন্য তাকে ব্যবহার করেছে, সে সঙ্গে তার চরিত্রের অপমান করা হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার কাছে তার স্বত্ব মাত্র ৬ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।


মামলায় আরো দাবি করা হয়, হাসলারস-এর প্রচারের সময় অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে বারবাশের বাস্তব জীবনের ঘটনা, যেমন তার কাজের জায়গা, আইনি বিচার, আবেদনের চুক্তির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে, যা ছবিটিকে আরো অনুপ্রাণিত করেছিল। চলচ্চিত্রের শেষ মুহূর্তে আবেদন চুক্তি করার পর আদালতের বাইরে রামোনাকে একজন আলোকচিত্রীকে সরিয়ে দেয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বারবাশও নাকি বাস্তব জীবনে আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর এমনটি করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় বারবাশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছেন, যাতে এসটিএক্স প্রডাকশনস হাসলারস-এর পুনরুৎপাদন ও বিতরণ করতে না পারে।

হাসলারস মুক্তির আগে থেকেই এর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে এসেছিলেন বারবাশ। গত এপ্রিলে তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছিলেন, ‘আমরা এটা বন্ধ করে দিচ্ছি। কারণ ছবিতে আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি কখনই নগ্ন ছিলাম না। এটা চরিত্রের মানহানি।’ বারবাশ আগে হোস্টেজের কাজ করতেন।

 

সূত্র: রোলিংস্টোন