৩জানুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক স্মরণসন্ধ্যা ২০২৫’। নাট্যপত্রিকা ‘নাট্যমঞ্চ’, ‘নাট্যমঞ্চ রেপার্টরি’ ও ‘নাট্যমঞ্চ প্রকাশন’ প্রতি বছর যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে থাকে। এদিন ছিল নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হকের (১৯৪৭-২০০৮) মৃত্যুবার্ষিকী। এবারের স্মরণসন্ধ্যায় অতিথি ছিলেন সাংবাদিকতায় একুশে পদক-প্রাপ্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র ‘দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এমএ মালেক। অনুষ্ঠানে ‘নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক সম্মাননা’ দেয়া হয় নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত ও অলক ঘোষকে।

‘নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক স্মারকবক্তৃতা’ দেন কবি হাফিজ রশিদ খান। আলোচক হিসেবে ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সঞ্জিব বড়ুয়া ও নাট্যকর্মী সুশান্ত মিত্র। স্মরণসন্ধ্যায় চৌধুরী জহুরুল হক রচিত কবিতা আবৃত্তিও পরিবেশন হয়। ‘নাট্যমঞ্চ’ সম্পাদক জাহেদুল আলমের সভাপতিত্বে স্মরণসন্ধ্যার অনুষ্ঠানমালা সঞ্চালন করেছেন অভিনয় কর্মী নাজমা আলী নিপা।

নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক স্মরণসন্ধ্যা–২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমএ মালেক বলেন, ‘সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি, মেধা, মনন ও নতুন উদ্ভাবনী কৌশল দিয়ে চৌধুরী জহুরুল হক সাহিত্যে এক নবীন মাত্রা সঞ্চার করেন। বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে চৌধুরী জহুরুল হক একজন নিরীক্ষাধর্মী সৃজনশীল শিল্পস্রষ্টা। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও ছিল অনুকরণীয়। এ সময় যে উদ্দেশ্যে চৌধুরী জহুরুল হক সাহিত্যকর্ম করেছেন, তা মনে রাখলেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক বলেন, ‘চৌধুরী জহুরুল হকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও ছিল অনুকরণীয়। চিন্তাভাবনার দিক থেকে ব্যতিক্রম ছিলেন। তার নামের মধ্যে ছিল সে ব্যতিক্রমের ছোঁয়া। সাধারণত মানুষের নামের শেষে চৌধুরী থাকে। আমার মনে হয়, ওনার মা-বাবা নাম রেখেছেন জহুরুল হক চৌধুরী। হয়তো তিনি চৌধুরী আগে নিয়ে এসেছেন। এখান থেকেই বোঝা যায়, তার জীবনধারা ব্যতিক্রম ছিল।