কখনো চোখ বন্ধ করে থাকলে কী দেখেন? স্বাভাবিকভাবেই সবাই বলবে অন্ধকার। যারা অন্ধ হয় তারা আসলে চোখ খোলা রাখলেও সবকিছু অন্ধকার দেখেন। কিন্তু হঠাৎ করে পৃথিবীতে এক ধরনের মহামারী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে মানুষ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে পার্থক্য হলো এ মহামারীতে আক্রান্তরা অন্ধকারের পরিবর্তে সবকিছু উজ্জ্বল সাদা দেখছে। সাদা আলো ছাড়া আর কিছুই নেই যেন চারদিকে।

একজন, দুজন নয় হঠাৎ করে একটি এলাকা থেকে শুরু হয়ে মহামারীটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে। সবাই হঠাৎ করে অন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। এমন ভাইরাসজনিত গল্প নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘ব্লাইন্ডনেস’ চলচ্চিত্রের গল্প। তবে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসার টান এবং সমাজের আলোকিত মানুষ কীভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষকে এগিয়ে নেবে, তা রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।

ছবির গল্পটা শুরু হয় যখন একজন জাপানি ব্যক্তি হঠাৎ করে গাড়ির মধ্যে থাকাকালীন অন্ধ হয়ে যায়। সামনে সবকিছু উজ্জ্বল সাদা হয়ে যায় একেবারে। আর কিছুই দেখতে পায় না সে। এরপর সেই সুযোগে গাড়ির ড্রাইভার তার গাড়ি চুরি করে নিয়ে যায়। এতে গাড়ির ড্রাইভারও অন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সেই ব্যক্তি যখন ডাক্তারের কাছে যায়, সেই ডাক্তারও অন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে। তবে এতকিছুর মাঝেও সেই ডাক্তারের স্ত্রী এ রোগে আক্রান্ত হয় না। বরং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে বেঁচে যায়।


এরপর পুরো এলাকার অন্ধ লোকজনকে একটি পাগলাগারদে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। তবে সেই ডাক্তারের স্ত্রী নিজেকে অন্ধ বলে অভিনয় করে তার স্বামীর খেয়াল রাখার জন্য নিজেই কোয়ারেন্টিনে যায়। তবে বিপত্তি বাঁধে যখন কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা খাবারের সাপ্লাই নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভক্তি এমনকি মারামারিতে পর্যন্ত লিপ্ত হয়। এতে অনেকেই মারাও যায়। তবে ডাক্তারের স্ত্রী অন্ধ না। তার স্বামীসহ বেঁচে যাওয়া কয়েকজনকে নিয়ে একটি বেজমেন্টে আশ্রয় নেয়। এরপর শুরু হয় জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ। কারণ বাইরের পৃথিবী আর পৃথিবী নেই। সব শূন্য হয়ে গেছে।

১২১ মিনিটের থ্রিলার জনরার এ ছবিটি ২০০৮ সালে মুক্তি পায়। মূলত ১৯৯৫ সালে পর্তুগিজ লেখক হোসে সারামাগোর লেখা ‘ব্লাইন্ডনেস’ উপন্যাস অবলম্বনেই ছবিটি নির্মিত হয়েছে। ফার্নান্দো মিরেলেসের পরিচালনায় এ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুলিয়ান মুর, মার্ক রাফালো, গায়েল গার্সিয়া বার্নাল, ড্যানি গ্লোভার ও ইয়োশিনো কিমুরা। সমালোচকদের কাছ থেকে মোটামুটি ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছে চলচ্চিত্রটি।