আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৫তম আসর। এ উৎসবে বাংলাদেশের কোনো সিনেমা না থাকলেও যাচ্ছেন বাংলাদেশের শিল্পী তবীব মাহমুদ। ‘বাক্স বন্দি’ নামের একটি ভারতীয় সিনেমায় টাইটেল ট্র্যাক করার কারণে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। এ সিনেমায় তার গান ও বাংলাদেশের র্যাপ সংগীত নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে বাক্স বন্দি নামের একটি ভারতীয় সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। এ সিনেমায় আপনার একটি গান রয়েছে, এ নিয়ে আপনার অনুভুতি জানতে চাই।
আমার অবশ্যই আনন্দ লাগছে। আমি তার থেকে বেশি আত্মবিশ্বাসী যে যেটা করতে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে। এছাড়া আমি যখন কোনো কাজ করি, কোনো পুরস্কারের মানসিকতা নিয়ে করি না। পরে যদি কোনো কাজ স্বীকৃতি পেয়ে যায়, এটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।
এ চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশী কোনো চলচ্চিত্র নির্বাচন হয়নি। সেখানে আপনার গাওয়া একটা গান নির্বাচিত হয়েছে, এটাকে কীভাবে দেখছেন?
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব পৃথিবীর সব মেধাবী চলচ্চিত্র পরিচালকদের মিলন মেলা। এখানে পৃথিবীর সব মেধাবী ফিল্ম মেকারদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও তাদের নিয়ে একটা বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য একটা অর্জন।
এ সিনেমার পরিচালক তনুশ্রী দাস ও সৌম্যনন্দ সাহির সঙ্গে আপনার যোগাযোগ কীভাবে হলো?
তারা শুরু থেকেই আমার গানগুলো শুনতেন। বিশেষ করে ‘গাল্লি বয়’ প্রকাশের পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। গানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হতো। তারপর ‘শুধু টাকার জন্য’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ করি। যেটি তনুশ্রী ও সৌম্যনন্দ পছন্দ করেন। তারা তাদের নিজেদের সিনেমা বাক্স বন্দিতে গানটি নেন।
আপনি কি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন?
আমি চলচ্চিত্র উৎসব থেকে ইনভাইটেশন লেটার পেয়েছি। ভিসার জন্য অ্যাপ্লিকেশন করেছি। আশা করছি পেয়ে যাব।
আপনার র্যাপ গানের শুরুটা নিয়ে যদি বলতেন?
র্যাপ গান আমার ছোট বেলা থেকেই ভালো লাগত। পাঠ্যবইয়ের কবিতা থেকেই র্যাপ গানের প্রতি আগ্রহ ও সূচনা।
গানগুলোর ছন্দ এত চমৎকার করে কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন?
এটা আসলে লিখতে লিখতে চর্চার মাধ্যমে হয়ে যায়। এছাড়া যেহেতু আমি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি, এটা আমার জন্য সহজ।
আপনার কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে। গত বছরও ‘আত্মার মুক্তি চাই’ নামে একটা বই বের হয়েছিল। এবার কি কোনো বই বের হচ্ছে?
এবারের মেলায় আমার ‘নতুন বাংলাদেশের সমস্যা ও সমাধান’ নামে একটি বই আসবে। বইটি করোনার সময় থেকে লেখা শুরু করেছিলাম। বইটিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ যে সেক্টর আছে, সেগুলোয় কী কায়দায় দুর্নীতি হয়, তা ও এর সমাধান নিয়ে লেখা।
র্যাপ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
বাংলা র্যাপ যেন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষাভাষীর সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আগামীতে আমার কিছু কাজ আসবে। এ নিয়ে আমি কাজ করছি।
বাংলাদেশের র্যাপ গানের বর্তমান অবস্থা, চাহিদা ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে র্যাপ গানের অবস্থা অনেক ভালো। জুলাই গণ-অভ্যুথানে র্যাপ গানের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ মুহূর্তে র্যাপের অবস্থান খুবই শক্তিশালী।
বাংলাদেশে র্যাপ গানের উত্তরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখতে পান কিনা।
বাংলাদেশে যেসব মিউজিক কোম্পানি, সেগুলো অর্থনৈতিক ও মেন্টালিটির দিক থেকে নিম্নগামী। কারণ এখানে কোনো শিল্পী ভালো গাইডলাইন পায় না। বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি প্রতিভার মূল্যায়ন করতে পারে না। তারা শুধু নিজেদের লাভটাকে বড় করে দেখে। যার কারণে আমার মতো অনেক আর্টিস্ট হারিয়ে যায়।
র্যাপ গানের উন্নয়নের জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন?
শুধু র্যাপ নয়, ফোক, পপের মতো মিউজিকগুলোর উন্নয়নের জন্য যা দরকার, তা হলো আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নেই, যারা আর্টিস্টকে বাঁচিয়ে রাখবে। এটা বিশ্বের সব জায়গায়ই আছে। এমন প্রতিষ্ঠান যদি থাকে, যারা আর্টিস্টদের নার্সিং করতে পারবে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবে, তাহলে র্যাপসহ যেকোনো গান ভালো করবে।










