তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান খান (হৃদয়)। এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত তার নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ এরই মধ্যে দর্শক প্রশংসায় ভাসছে। তিনি এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

এ মুহূর্তে বরবাদের কী খবর?

বরবাদ একটার পর একটা রেকর্ড ভাঙছে। আমরা চাই, এভাবে রেকর্ড ভেঙে যাক এবং বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাক।

ঢাকার বাইরের বরবাদের কী খবর?

বৃহস্পতিবার শেরপুরে দর্শকের চাপ সামলাতে না পেরে সিনেমা হলের সামনে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের বেশ কয়েকটা সিনেমা হলে মিড নাইট শো চালু করেছে। লায়ন সিনেমা হলে প্রথমবারের মতো মিড নাইট শো চালু হয়েছে।

যখন সিনেমা ভালো যায়, তখন অবশ্যই ভালো লাগে। শুধু আমি নই, আমার প্রযোজক ও সিনেমার সঙ্গে যারা যারা যুক্ত সবারই ভালো লাগছে।

বরবাদ নতুন কী ইতিহাস করল, যা আগে ছিল না?

সিনেমা হলের সামনে দর্শকের চাপ সামলাতে না পেরে পুলিশ মোতায়েন করা। এটা আমার মনে হয় বাংলা সাম্প্রতিক সিনেমার ইতিহাসে ছিল না। এটি বাংলা সিনেমায় ইতিহাস তৈরি করল।

প্রথম সিনেমা নির্মাণে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, কেমন লাগছে?

অনেক ভালো লাগছে। দর্শক ভালোবাসা দিচ্ছে। তাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ, দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এ সিনেমা নিয়ে দর্শকের যেমন সাড়া পাচ্ছেন, এমনটা কি প্রত্যাশা করেছিলেন?

আমরা জানতাম সিনেমাটি ভালো যাবে এবং ব্যবসা করবে। তবে হলে পুলিশ মোতায়েন ও মিড নাইট শো চালু করা এ ব্যাপারগুলো আসলে চিন্তা করিনি। বর্তমান সময়ে হলে মিড নাইট শো কল্পনায়ও আসেনি।

শাকিব খানকে নিয়ে প্রথমবার সিনেমা নির্মাণে কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করেছিলেন কিনা।

শাকিব ভাইকে নিয়ে প্রথমবার সিনেমা বানানো আমার কাছে কোনো চাপ মনে হয়নি। কারণ তিনি আমাকে কোনো চাপ উপলব্ধি করতে দেননি। তবে চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে। আমার মনে হয়, সব কাজেই চ্যালেঞ্জ থাকা উচিত। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজটা করি। যেহেতু এটা একটা সিনেমা আর বড় পরিসরে কাজ করতে হয়েছে, তাই চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই ছিল।

বরবাদের বিভিন্ন ভিডিও অনলাইনে দেখা যাচ্ছে। এসব পাইরেসি রোধে আপনার পরামর্শ কী?

এর সমাধান সিনেমা হলের মালিকরাই করতে পারে। হলে সিনেমা চলাকালে খেয়াল রাখা উচিত কেউ যেন ভিডিও না করতে পারে। পাশাপাশি দর্শকেরও সচেতন হওয়া উচিত। হল মালিকরা সচেতন হলে পাইরেসি রোধ করা যাবে।

বরবাদ কি বিকল্প অন্য নায়ক দিয়ে করা যেত না?

যেত না।

যদি শাকিব না থাকতেন?

শাকিব ভাই না থাকলে হয়তোবা বরবাদ-এর গল্পটা বলা হতো না। হয়তো অন্য কোনো গল্প ভাবতাম।

বরবাদে ইধিকা পালকে কেন নেয়া হলো?

আমাদের মনে হয়েছে যে এ গল্পে ইধিকা পাল ভালো করবে। যখন ইধিকার সঙ্গে কথা হয় এবং তার সঙ্গে ব্যাটে-বলে মিলে যায়, তখন আমরা তাকে নিয়ে কাজটা শুরু করি।

কিন্তু আরিয়ান মির্জা চরিত্রটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য আমার কাছে শাকিব ছাড়া বিকল্প ছিল না।

বরবাদের পর কী নিয়ে আসছেন?

বরবাদের পর কী নিয়ে আসব এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে যাই করি, আমি নির্মাণটাই করব। একজন নির্মাতা গল্প বলতে চান। আমার গল্প বলার অনেক মাধ্যম আছে। ওটিটি প্লাটফর্ম আছে, ফিকশন আছে। যে মাধ্যমে আমি গল্পটা বলতে পারি, ওই মাধ্যমেই বলব। গল্প বলাটা আমার ক্ষুধা।’

এখন আপনাকে ছোট পর্দার নির্মাণে দেখা যাবে কিনা।

বড় পর্দায় কাজ করলে ছোট পর্দায় কাজ করা যাবে না, এটা আমার কাছে মনে হয় না। আমার মনে হয়, আমি গল্প বলতে এসেছি, গল্পটাই বলতে চাই। তাই আমি যেকোনো মাধ্যমেই তা করতে পারি।

বরবাদ সিনেমার দৃশ্য কি আসলে কাটা হয়েছে?

বরবাদ আনকাট সেন্সর হয়নি। আমরা কোথাও বলিনি যে সিনেমাটি আনকাট সেন্সর হয়েছে। বরং কাটা হয়েছে এবং সেটা আমাদের প্রডাকশন হাউজের পেজ থেকে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি দর্শক হলে আসছে, সিনেমা দেখছে। হলগুলোয় উপচে পড়া ভিড়ও দেখা যাচ্ছে। সিনেপ্লেক্সে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় আগামী দিনগুলোয় বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ কী দেখেন?

বাংলা সিনেমা আরো ভালো করা সম্ভব। সেন্সর বোর্ডকে আরো স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। সিনেমা হল মালিকদের অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। পাইরেসির ব্যাপারে তাদের সচেতন হতে হবে। ভালো সিনেমা বানাতে হবে। এগুলো ঠিক হলে আমার মনে হয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।