ক্যারিয়ারের তিন দশক পার করেও সমান গতিতে ছুটছেন শাহরুখ খান। তার প্রমাণ গত বছর টানা তিনটি হিট সিনেমার মুক্তি পাওয়া। সফলতায় জড়ানো বলিউড বাদশাহর প্রাথমিক জীবনটা কিন্তু সুখের ছিল না। বিভিন্ন সময় সে প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি দুবাইয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে আলো ফেললেন ভিন্ন এক প্রসঙ্গে। কথা বললেন শৈশবের সে দিনগুলো নিয়ে, যা তাকে সফল হওয়ার পথে অবিরাম অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
সম্মেলনে শাহরুখ খানকে তার জীবনের প্রথম দিকের নানা প্রসঙ্গ জিজ্ঞাসা করা হয়। জানতে চাওয়া হয় তার অগ্রগতির রহস্য। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ছোট থাকতেই বাবা-মা মারা যান। বয়স ১৪ বছর থাকা অবস্থায় বাবাকে হারাই। যখন মা মারা যান, তখন আমার বয়স ২৪ বছর, অর্থাৎ মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে আমি দুজনকেই হারিয়েছি। আমার যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। সঙ্গে ছিল কেবল একটা বোন। দুনিয়ায় পড়ে ছিলাম কেবল এ দুজন।’
শাহরুখ জানান, তার মৃত বাবা মা-ই তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সামনে যাওয়ার পথে। তিনি বলেন, ‘এক সকালে আমার মনে হলো, নিশ্চয়ই বাবা-মা কোথাও আছেন। তাদের সঙ্গে একদিন আমার দেখা হবে। তারা আকাশে তারা হয়ে আছেন, তাদের সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু তারা বর্তমানে সম্ভবত আমাকে নিয়ে চিন্তিত। হয়তো ভাবছেন, ২৪ বছর বয়সী ছেলেটার সঙ্গে কীসব ঘটে চলছে! ফলে আমি কঠোর পরিশ্রম শুরু করলাম। সফল হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গেলাম। আমি চাইতাম না, বাবা-মা আমাকে নিয়ে খারাপ বোধ করুন। চিন্তিত হোন। কোনো কিছুকে এভাবে ভাবাটা যথেষ্ট অদ্ভুত। তার পরও আমি ভেবেছি। ভেবেছি একদিন সফল হবো এবং তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলব, ভালো কিছু করার কথা। বোঝাব, এটা নিয়ে তাদের মন খারাপের কারণ নেই যে তারা বেশি আগে মারা গেছেন। বাবা-মা নিশ্চিতভাবেই আমাদের অভাব বোধ করেন। এখন আমি আমার শিশুর জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের জীবন হতে হবে স্বাস্থ্যকর ও সুখী। তারা তিনজনই সুন্দর ও পরিশ্রমী।’
শাহরুখ খানকে সর্বশেষ দেখা গেছে রাজকুমার হিরানির ‘ডানকি’ সিনেমায়। সেখানে তিনি ছাড়াও অভিনয় করেছেন তাপসী পান্নু ও ভিকি কৌশল। অবশ্য তার ব্যস্ততার বড় একটা অংশজুড়ে এখন রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘কিং’ সিনেমা। চলচ্চিত্রটির পরিচালনা করবেন সুজয় ঘোষ আর তার সঙ্গে অভিনয় করবেন কন্যা সোহানা খান।
সূত্র ও ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস










