অভিনয়ে রাধিকা আপ্তের ক্যারিয়ার দীর্ঘ ২০ বছরের। বহুমুখী অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত তিনি। সম্প্রতি নিজের একেবারে প্রথম সিনেমার কথা স্মরণ করে জানান, তিনি সেটি পুরোপুরি ভুলে যেতে চান। নিজের অভিনয়জীবনের পথচলা নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে অকপটে বলেন, ‘বাহ! লাইফ হো তো অ্যায়সি’ সিনেমায় অভিষেক তার জন্য অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা। অভিনয়ে নয়, বরং শুটিংয়ের সময় তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছিল, সেটিই তাকে কষ্ট দিয়েছে।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে রাধিকা তার সিনেমার প্রযোজকদের ব্যাপারে কোনো রাখঢাক করেননি। তিনি বলেন, ‘প্রযোজকরা ভয়ংকর আচরণ করেছেন আমার সঙ্গে। বসবাসের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কোনো পারিশ্রমিকও দেননি। আমার মা আর আমি যখন চুক্তি সই করার কথা বলি, তারা বলে, ‘‘আরে, উর্মিলা মাতন্ডকরও তো কোনো চুক্তি সই করেনি।’’ উনি আদৌ সই করেছিলেন কিনা আমি জানি না, কিন্তু আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়েছিল।’

তবে পরিচালক নিয়ে তার অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘‌মহেশ মাঞ্জরেকর খুব ভালো মানুষ। কিন্তু আমি আমার প্রথম সিনেমাটা ভুলে যেতে চাই। কারণ প্রডাকশনটা ভয়ংকর ছিল! আর আমি সেটা প্রকাশ্যেই বলি।’

সিনেমাটিতে সহঅভিনেত্রীর ভূমিকায় থাকা আপ্তে জানান, কীভাবে তিনি কাজটি পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকর আমাকে ব্রেইন সার্জন নামে একটি মঞ্চনাটকে দেখেছিলেন। নাটকটি রাজ্যস্তরের একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছিল। আমার অভিনয় দেখে মাঞ্জরেকর বলেছিলেন, “‍আমি তোমাকে কাস্ট করতে চাই’’।’

এর পরই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। তবে ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি কলেজ শেষ করার জন্য কিছু সময় বিরতি নেন এবং তারপর আবার সিনেমায় ফেরেন। এ কারণেই তিনি নিজের প্রথম সিনেমাকে তার আসল কাজের অংশ হিসেবে গণ্য করেন না।

আজ রাধিকা আপ্তে ভারতের অন্যতম প্রশংসিত অভিনেত্রী। সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর ডি ফাইভে মুক্তি পেয়েছে রাধিকা অভিনীত ‘সালি মোহাব্বত’। সিনেমাটি ভারতের বাইরে বেশকিছু চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়েছে।

সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা