ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে প্রতিবারের মতো এবারো শুরু হয়েছে ‘‌আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ উৎসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে এ উৎসব শুরু হয় গতকাল। চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সংসদের মডারেটর হাবিবা রহমান।

বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী মহান শহীদদের স্মরণ ও বাংলাদেশে সিনেমার বিকাশ ও অগ্রগতির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ ২০০২ সাল থেকে এ উৎসবের আয়োজন করে আসছে।

গতকাল সুভাষ দত্তের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমাটি প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা উঠে এ উৎসবের ২৩তম আসরের। উৎসবে নির্বাচিত সিনেমাগুলো নির্ধারিত মূল্যে টিকিট কেটে দেখা যাবে।

আয়োজকরা জানান, এবার টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা। টিকিট পাওয়া যাবে উৎসবের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রবেশমুখে। প্রতিদিনের প্রথম প্রদর্শনীটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন।

গতকাল উৎসবের প্রথমদিন সকাল ১০টায় ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছাড়াও এদিন দুপুর ১টায় প্রদর্শিত হয় আমজাদ হোসেনের ‘ভাত দে’। দুপুর সাড়ে ৩টায় প্রদর্শিত হয় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’। এ বছর আমার ভাষার চলচ্চিত্র ১৪৩১ এ প্রদর্শিত হবে সমসাময়িক ও ধ্রুপদি ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজল রেখা, নকশী কাঁথা জমিন, দেয়ালের দেশ, প্রিয় মালতি, তুফান, বলি, আম্মাজান, রিক্সা গার্ড, ইত্যাদি।

এছাড়া প্রদর্শিত হবে তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। যার মধ্যে রয়েছে রিপন কুমার দাস ধ্রুব পরিচালিত মারমা ভাষার চলচ্চিত্র ‘খিয়াং’।

এ উৎসব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক আবরার নাদিম মুমশাদ বণিক বার্তাকে জানান, এ চলচ্চিত্র উৎসবটি শুরু হয়েছে ২০০২ থেকে। তখন ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ নামে ছিল না। প্রথম চার-পাঁচ বছর বিভিন্ন নামে হয়েছে। পরে ২০০৭ সাল থেকে এ নামে চলচ্চিত্র উৎসবটি চলতে থাকে।

এ উৎসবের উদ্দেশ্য নিয়ে নাদিম বলেন, ভাষার মাসে বাংলা সিনেমার প্রচার এবং বিকাশের জন্যই এ চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

৫ দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রতিদিন চারটি করে মোট ২২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

এদিকে দর্শকদের জন্য চলচ্চিত্র উপভোগের পাশাপাশি রয়েছে চলচ্চিত্র কৌশলীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ। প্রতিবারের মতো এবারো এ উৎসবের শেষ দিন উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেন স্মরণে গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত সেরা চলচ্চিত্রকে হীরালাল সেন পদক এ ভূষিত করা হবে। এ বছর হীরালাল সেন পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে প্রিয় মালতি, কাজল রেখা, নকশী কাঁথার জমিন এবং পেয়ারার সুবাস।