টিমোথি শ্যালামের নাম ‘ডুন’-এর কারণেই বর্তমানে পরিচিত। তবে ‘আ কমপ্লিট আননোন’ সিনেমায় তার কাজ তাকে যেন ভিন্ন অভিধার সামনে হাজির করল। সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেন আইকনিক গায়ক বব ডিলানের চরিত্রে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যেই সামনে এসেছে ট্রেলার। ডিলানরূপে শ্যালামেকে দেখে উৎফুল্ল বোদ্ধারাও বলতে শুরু করেছেন টিমোথি শ্যালামের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চটা দেখা যাবে সিনেমায়। আসন্ন অস্কার আসরের জন্যও এটা তাকে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে হাজির করবে। আর যদি অস্কার জেতেন, তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে কম বয়সে অস্কার জয়ের রেকর্ড।

সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসে সিনেমার পরিচালক ও সহলেখক জেমস ম্যানগোল্ড, সনিবা বোরবারো এবং এলি ফ্যানিং হাজির ছিলেন। সেখানে দেয়া সাক্ষাৎকারে তাদের দাবি, পর্দায় ডিলানকে যেভাবে হাজির করা হয়েছে, তা এর মধ্যেই ব্যাপকভাবে পরিচিতি অর্জন করেছে।

আ কমপ্লিট আননোন সিনেমাটি নির্মাণ হয়েছে এলিজাহ ওয়ার্ল্ডেলেখা ২০১৫ সালের বই ‘ডিলান গোজ ইলেকট্রিক’ থেকে। ১৯৬১-৬৫ সাল পর্যন্ত গীতকবি ও সংগীতকার বব ডিলানের জীবনের চার বছরকে ঘিরে আবর্তন হয়েছে গল্প। সেই চার বছর কেবল ডিলানের জীবনের জন্য নয়, আমেরিকার সংগীতের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সিনেমায় টিমোথি শ্যালামে নিজেই গান গেয়েছেন। সংগীতকে ভিত্তি ধরে নির্মিত সিনেমার জন্য এটা বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত। তাও আবার বব ডিলানের সংগীত। তার পরও শ্যালামের যথেষ্ট মুনশিয়ানা নজর কেড়েছে দর্শকের। এমনটা নয় যে তিনি বব ডিলানকে অনুকরণ করে গেছেন সব ক্ষেত্রে, বরং নিজের মতো করে ধরার চেষ্টা করেছেন আবেগটুকু। ফলে একাডেমির আসরে বিষয়টা আলাদাভাবে আবেদন নিয়ে হাজির হবে।

শ্যালামে ২০১৭ সালে ‘কল মি বাই ইউর নেম’ সিনেমার জন্য মাত্র ২২ বছর বয়সে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান। এবার যেন নতুন আরেক রেকর্ড স্থাপন করতে যাচ্ছেন। যেন তিনি হবেন সবচেয়ে কম বয়সী একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী। এর আগে ‘পিয়ানিস্ট’ সিনেমায় অভিনয় করার জন্য আড্রিয়ান ব্রোডি ২৯ বছর বয়সে অস্কার জিতেছিলেন। শ্যালামের বয়স তার চেয়ে কম।

সিনেমায় পাশাপাশি ডিলানের সংগীতজীবন ও প্রেমকে আঁকা হয়েছে। জোয়ান বায়েজ হিসেবে সেখানে দেখা যায় বারবারোকে। বারবারো মূলত এর আগে বিশেষভাবে পরিচিতি অর্জন করেছেন ‘টপ গান: ম্যাভরিক’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। অন্যদিকে পরিচালক হিসেবে ম্যানগোল্ডের অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ‘ওয়াক দ্য লাইন’, ‘লোগান’ ও ‘ফোর্ড ভার্সেস ফেরারি’ পরিচালনার মধ্য দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এদিকে তাড়াহুড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলেও সিনেমাটোগ্রাফি ও শব্দ নিয়ে কাজ হয়েছে প্রশংসনীয়। ম্যানগোল্ড আর শিল্প চিন্তা ও বাণিজ্যিক চিন্তার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হচ্ছে, আ কমপ্লিট আননোন হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোয় সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা। হতে পারে অস্কারের জন্য যৌক্তিক দাবিদার।

সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি