সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা মীর রাব্বি এবার হাজির হচ্ছেন নতুন ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘পারফেক্ট ওয়াইফ’-এ। গল্পটি মূলত একটি বিদ্রূপাত্মক কমেডি, যেখানে সমাজের প্রচলিত ধারণা ও সম্পর্কের বাস্তবতা হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এ কাজসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে মীর রাব্বি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
নতুন ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘পারফেক্ট ওয়াইফ’-এ আপনাকে দেখা যাবে। কাজটির মূল আকর্ষণ আপনার কাছে কী ছিল?
গল্পটিতে পারফেকশন ধারণাটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে দেখানো হয়েছে। একেক জনের কাছে পারফেক্ট জিনিসের সংজ্ঞা একেক রকম। পারফেক্ট ওয়াইফে আমরা সে ধারণাকেই স্যাটায়ার করেছি। এটি সিচুয়েশনাল কমেডি ধাঁচের গল্প, কিন্তু ভেতরে রয়েছে গভীর অর্থ।
আমাদের সমাজে আমরা পাশের মানুষটার মূল্য দিতে পারি না যখন সে পাশে থাকে; কিন্তু দূরে গেলে তার মূল্যটা অনুধাবন করি। সমাজে যে কুসংস্কার আছে, সেটি ভাঙার একটি প্রবণতাও আছে এ কাজে।
এটিতে আপনার চরিত্র নিয়ে যদি জানাতেন।
এখানে আমার চরিত্রের নাম রাশেদ। সে জাপানে থাকে এবং সফটওয়্যার, এআইসহ তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। তার জাপানিজ স্ত্রীকে নিয়ে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে আসা থেকেই গল্পের সূত্রপাত।
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল দুর্দান্ত। যদিও ছোট একটি প্রডাকশন, কিন্তু সেটের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল শেখার। আমি সেলিম ভাইকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। একজন মানুষ হিসেবে তার সঙ্গে ইনফরমাল সম্পর্ক অনেক দিনের। কিন্তু কখনো কাজ করা হয়নি। তার পরিচালনায় এবার কাজ করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।
সম্প্রতি আপনাকে বিভিন্ন ঘরানার এবং ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। এটা কি সচেতন সিদ্ধান্ত, নাকি স্বাভাবিকভাবে এমন সুযোগ এসেছে?
আমি সচেতনভাবেই চাই, একই প্যাটার্নের চরিত্রের মধ্যে আটকে না থাকতে। ভিন্নধর্মী, চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে ভালো লাগে। যেকোনো অভিনেতারই চাওয়া থাকে ভালো গল্প ও প্রডাকশনের অংশ হতে। তাই বৈচিত্র্য আনাটাই আমার সচেতন সিদ্ধান্ত।
‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বেশ বেশি। গল্পটি নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
জাহিদ প্রীতম নির্মাতা হিসেবে আমার কাছে একেবারে আলাদা ধরনের মানুষ। তিনি আমার প্রাণের মানুষ। তার পরিচালনায় ‘বুক পকেটের গল্প’ দিয়েই আমি পেশাগতভাবে অভিনয়ে সিরিয়াসলি যুক্ত হই। এমন দিনে তারে বলা যায় শুধু একটা গল্প নয়, এটা যেন একটা কবিতা। প্রেমের ছন্দে ভরা, কিন্তু একই সঙ্গে মানবিক গভীরতায় নির্মিত। কিছু গল্প আমাদের ভেতরে কবিতার মতো দোতনা তৈরি করে, এ কাজও সে রকম। দর্শক কেমন প্রতিক্রিয়া জানায়, সে অপেক্ষায় আছি। কাজটির অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত সুন্দর।
একই সঙ্গে আপনি ওটিটি ও ইউটিউব দুই মাধ্যমেই কাজ করছেন। অভিনয়ের দিক থেকে এ দুই প্লাটফর্মের মধ্যে কী পার্থক্য দেখেন?
অভিনয়ের দিক থেকে তেমন পার্থক্য হয় না। কারণ মাধ্যম যাই হোক, চরিত্রের ভেতরে ঢোকার শ্রম, টেনশন, ভয়—সব একই থাকে। পার্থক্য কেবল আয়োজনে।
ওটিটিতে অনেক সময় নিয়ে কাজ করা যায়, রিহার্সাল করা যায়। কিন্তু ইউটিউবের নাটকে সময় তুলনামূলক কম থাকে। দুই-তিনদিনের মধ্যে শুট শেষ করতে হয়। তবে অভিনয়ের চেষ্টা, সিন ঠিকভাবে তোলার চাপ সবখানেই সমান।
এ পর্যায়ে এসে কোন ধরনের চরিত্র আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?
আমি কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রের ঘরানায় নিজেকে বেঁধে ফেলতে চাই না। আমি সারপ্রাইজ পছন্দ করি। নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে খুঁজে পেতে ভালো লাগে। ছোটবেলায় প্রিয় কিছু চরিত্র ছিল, যেমন হিমু, মিসির আলি, ফেলুদা, ব্যোমকেশ। এ চরিত্রগুলো আমাদের বেড়ে ওঠার অংশ। সেগুলো যদি কখনো করার সুযোগ পাই, সেটি হবে দারুণ রোমাঞ্চকর।
আপনি ড্রামা, থ্রিলার, রোমান্টিক কমেডি সব ঘরানায়ই কাজ করেছেন। কোন ধারায় নিজেকে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ মনে করেন?
প্রতিটি চরিত্রই আমার কাছে টেনশন ও ভয় নিয়ে আসে। কোনো কাজই সহজ নয়। গল্প ভালোভাবে তৈরি হলে তখনই মনে হয়, হয়তো স্বচ্ছন্দে করেছি।
আমাদের দেশে কমেডি বলতে যা বোঝানো হয়, সে ধরনের কমেডিতে আমি এখনো কিছুটা কাঁচা। তবে যদি সেটা সিচুয়েশনাল কমেডি হয়, তাহলে করতে পারব মনে হয়।
আগামী দিনে দর্শক মীর রাব্বিকে কোন নতুন রূপে দেখতে পারে? সামনে কী কাজ অপেক্ষায় আছে?
আমার কাছে প্রতিটি চরিত্রই নতুন। প্রতিটি কাজের জন্যই আমি আশাবাদী।
আগামীতে ‘বকুলের বুকে রক্ত করবী’ নামের একটি কাজ আসছে, যা রিলিজের সময় পরিচালক নির্ধারণ করবেন। এছাড়া বর্তমানে আমি ‘দুঃসাহস’ নামে একটি সিরিজে কাজ করছি।










