কান চলচ্চিত্র উৎসবে ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার হয়েছিল কেনেডির। অথচ এখনো মুক্তি পায়নি অনুরাগ কাশ্যপের সিনেমাটি। কেবল কেনেডি না, টানাপড়েনের জেরে পাঁচটি সিনেমা আটকে রয়েছে তার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার পাঁচটি সিনেমার মুক্তি থমকে আছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। হতাশ অনুরাগ মুম্বাই ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। চারপাশে যা ঘটছে তা নিয়ে ‘ঘৃণা’ অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন অনুরাগ। তার দাবি, আজকের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সৃজনশীলতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় লাভ।
হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অনুরাগ বলেন, ‘আমি পাঁচটি সিনেমা বানিয়েছি, যেগুলো মুক্তি পায়নি। কেনেডি কোথায়? কাদের হাতে? এটি এমন কিছু মানুষের হাতে যাদের কখনো চলচ্চিত্র বানানোর অভিজ্ঞতা নেই। যারা কেনেডি বানিয়েছিল স্টুডিওতে, তারা চলে গেছে। এখন যারা আছেন, তাদের উদ্দেশ্য শেয়ারমূল্য বাড়ানো, লাভ করা ও খরচ পুনরুদ্ধার করা। কেউই সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহী না। এটা গুরুত্বপূর্ণ না যে কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিল, এটাও গুরুত্বপূর্ণ না যে এটি উৎসবে সাড়া ফেলেছিল।’
অনুরাগ কাশ্যপ মনে করেন, চলচ্চিত্র শিল্প আজ একটি ভয়ের মধ্যে জর্জরিত, যেখানে ঝুঁকি নেয়া কঠিন। তারা কিছুই বোঝে না। তারা এমনকি পুষ্পাও বানাতে পারে না। তারা পারে না, কারণ তাদের মাথায় সিনেমার ধারণা নেই। তারা জানে না সিনেমা নির্মাণ কী। তিনি বলেন, ‘পুষ্পার মতো সিনেমা কেবল সুকুমার বানাতে পারেন। কারণ দক্ষিণ ভারতে নির্মাতাদের পেছনে বিনিয়োগ করা হয় এবং সিনেমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। অথচ বলিউডে সবাই ইউনিভার্স তৈরির চেষ্টা করছে। এটাই হচ্ছে অহংকার।’
অনুরাগ জানান, তিনি মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে শিখে গেছেন। তিনি আর কোনো কিছুতে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতে নারাজ। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোনো হতাশা আছে কিনা, অনুরাগ বলেন, ‘আমি হতাশ, আমি কিছু মানুষের প্রতি বিরক্ত, তবে তারা তাদের মতো থাকুক। আমি আমার লড়াই করেছি, আমার আর শক্তি নেই।’
এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে অনুরাগ কাশ্যপ নেটফ্লিক্সের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছিলেন। শেষ মুহূর্তে পৌঁছেও সেখানে তার ম্যাক্সিমাম সিটি সিরিজের অ্যাডাপ্টেশন বাতিল করা হয়। তিনি জানান, এ বাতিলকরণ তার ওপর ব্যাপক মানসিক প্রভাব ফেলেছিল। ঠেলে দিয়েছিল দীর্ঘকালীন বিষণ্নতার মধ্যে। দুটি হার্ট অ্যাটাকেরও শিকার হয়েছিলেন এ সময়ে। পরিচালক বলেন, ‘ম্যাক্সিমাম সিটির পরিণতি দেখে আমার সব শক্তি চলে গিয়েছিল। আমি ভেঙে পড়েছিলাম। পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিলাম নিজেকে।’
সূত্র ও ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










