ঢাকায় শুরু হয়েছে নতুন প্রদর্শনী। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে চলছে জুলিয়া লেব্রও সেন্দ্রার ‘নলিনী’। উদ্বোধন হয়েছে ২১ জানুয়ারি। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট ইন্ডিয়ার কালচারাল অ্যাটাচে অ্যামাদিন রগম্যান বিশেষ অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শনীটি একটি তিন মাসের রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের ফলস্বরূপ যার সহযোগিতায় রয়েছে ভিলা স্বাগতম, ইনস্টিটিউট ফসে দিল্লি, ঢাকাস্থ ফরাসি দূতাবাস, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ও বৃহত্ত আর্ট ফাউন্ডেশন।
শিল্পী জুলিয়া লেব্রও সেন্দ্রা বাংলাদেশে আসার পর প্রথমে নদীতীরবর্তী মানুষের সংস্কৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত রীতিনীতি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। তবে মাঠে কাজ করার সময় তিনি উপলব্ধি করলেন যে মানুষের সঙ্গে নদীর আর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি এখন একটি ভাঙা সম্পর্ক, একটি শূন্যতা ও একটি মরে যাওয়া নদী।
এ উপলব্ধি তাকে “সোলাস্টালজিয়া” ধারণাটির দিকে নিয়ে আসে, যা তার রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের কাজের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে ওঠে। ২০০৩ সালে দার্শনিক গ্লেন আলব্রেচ্ট দ্বারা উদ্ভাবিত “সোলাস্টালজিয়া” শব্দটি এমন এক মানসিক ও অস্তিত্বগত উদ্বেগকে বর্ণনা করে, যখন মানুষ তাদের পুরনো পরিচিত প্রাকৃতিক পরিবেশে ভবিষ্যতের কোনো চিত্র কল্পনা করতে অক্ষম হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন, মানব কর্মকাণ্ড বা শিল্পোৎপাদনের বৃদ্ধির কারণে ঘটছে। এ সম্পর্কের বিচ্ছেদ আরো ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, কারণ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেগগত সংযোগ আর থাকে না। ঢাকায় এ হতাশার অনুভূতি স্পষ্ট, যেখানে নদীতীরবর্তী মানুষ ও বুড়িগঙ্গা নদীর সম্পর্ক ধারণাটির একটি উদাহরণ। তবে এটি কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়। এটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ। শিল্পী জুলিয়া লেব্রও সেন্দ্রার কাজের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে নদীতীরবর্তী সম্প্রদায় এবং তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিশেষত বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করা।
এ সবকিছুই তিনি নিয়ে এসেছেন তার শিল্পকর্মে। তা নিয়েই নতুন প্রদর্শনী নলিনী। এটি চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।










