এবছর কোন ভারতীয় গান ফেসবুক রিলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে? উত্তরে একটু সন্দেহ আসতে পারে। তবে ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’ সিনেমার ‘চুট্টামাল্লে’র নামই আসবে। অবশ্য তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ‘স্ত্রী টু’ সিনেমার ‘আজ কি রাত’। হতেও পারে, আজ কি রাত বেশি ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু গত বছর ও এ বছর মিলিয়ে ‘জেলার’ সিনেমার ‘কাভালেয়া’ যতবার ব্যবহার হয়েছে, কোনো গান ততবার হয়নি। অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রর সংগীতে কাভালেয়ার কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পা রাও। অনিরুদ্ধরই সংগীতে চু্ট্টামাল্লেতেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এমনকি স্ত্রী টু সিনেমার আইটেম সং আজ কি রাত তিনি না গাইলেও গেয়েছেন ‘তুমহারে থে’। এ বছর এমন আরো গান গেয়ে শ্রোতা মাতিয়েছেন এ শিল্পী।

শিল্পা রাও তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন অ্যামেচার স্টেজ শো দিয়ে। জামশেদপুরে নানা অনুষ্ঠানে মঞ্চে গাইতেন। সে সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি স্কুলের মিউজিক গ্রুপে ছিলাম এবং সে সুবাদে ১৩ বছর বয়সে একদিন শিল্পী হরিহরণের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়। তিনিই আমাকে বলেছিলেন, যেন ধ্রুপদি সংগীতে শিক্ষা নিই এবং এরপর গোলাম মোস্তফা খানের কাছে আমি শিক্ষা নিয়েছিলাম। এটিই ছিল আমার সংগীতের ভিত্তি।’

23

এর পর থেকেই শিল্পার সংগীত ক্যারিয়ার শুরু। তবে তা ছিল স্থানীয় মঞ্চে। তিনি বলেন, ‘আমি এর পর পরই মঞ্চে গাইতে শুরু করি। হরিহরণের সঙ্গেই গাইতাম।’ পরে শঙ্কর মহাদেবন শিল্পাকে মুম্বাইয়ে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার উপদেশ দেন।

২০০৫ সালে শিল্পা রাও ‘এক আজনাবি’ সিনেমায় প্লেব্যাক করেন। ওই বছর একটি সিনেমায়ই তিনি গেয়েছিলেন। এরপর ২০০৭ সালে সাতটি সিনেমায় প্লেব্যাক করেন। এর মধ্যে ‘আনওয়ার’ সিনেমার ‘জাভেদা জিন্দেগি’তে (তোসে ন্যায়না লাগে) প্লেব্যাক করেন। গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এখনো এটি লোকের মুখে মুখে ফেরে। এ গানে ক্ল্যাসিক্যাল ধাঁচ ছিল। সংগীত পরিচালনা করেছিলেন মিথুন। এছাড়া তিনি শঙ্কর-এহসান-লয়ের সংগীত পরিচালনায় দুটি সিনেমার গানে কণ্ঠ দেন। পরের বছরও প্লেব্যাক করেন। ২০০৮ সালে ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’র ‘খোদা জানে’ গানে জনপ্রিয়তা পান।

শিল্পা রাওয়ের জনপ্রিয়তা ধ্রুবই থাকে। তিনি প্রতি বছরই বেশকিছু সিনেমায় প্লেব্যাক করতে থাকেন। তবে এসব গানের বেশির ভাগই ছিল মেলোডিয়াস, আবার কখনো ধ্রুপদি ধাঁচের। তিনি শ্রোতা ও সমালোচকদের প্রশংসা পেতে থাকেন, কিন্তু তার গান মুখে মুখে ফেরে এমন ঘটনা সেভাবে ঘটেনি।

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একেক সময় একেক ধারার গানের জনপ্রিয়তা থাকে। ওই সময় জনপ্রিয় ছিলেন সুনিধি চৌহান। বিশেষত আইটেম সং ও ড্যান্স নাম্বারগুলো তিনি করতেন। মেলোডিতে ছিল শ্রেয়া ঘোষালের জনপ্রিয়তা। শিল্পা নিয়মিত গাইতেন এবং তিনি গড়ে উঠছিলেন। এরপর বিশের দশকে এসে তিনি প্লেব্যাকে আরো নানা ধরনের গান গাইতে শুরু করেন। এদিকে বলিউড ও ভারতের অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিতেও প্রয়োজন ছিল নতুন নারী কণ্ঠের। জায়গাটি শিল্পা ভালোভাবে নিতে পেরেছেন।

২০২৩ সালে এসে শাহরুখ খান অভিনীত পাঠানে তিনি গাইলেন ‘বেশরম রঙ’। গানের দৃশ্যায়নে দীপিকার পোশাক নিয়ে নানা বিতর্ক হয়েছিল, কিন্তু শিল্পার গান পছন্দ করেছেন সবাই। জওয়ানে তিনি গেয়েছেন ‘চালেয়া’। অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে তার যুগল গানটিও শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। পোনিয়িন সেলভানে এআর রহমানের সুরেও গেয়েছেন শিল্পা।

বাংলা সিনেমায়ও প্লেব্যাক করেছেন তিনি। ২০১১ সালে উড়ো চিঠি থেকে ২০২২ সালে ডাক্তার বকশি সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন শিল্পা। কন্নড়, তেলেগু ও মালয়ালমেও গেয়েছেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ড্যান্স নাম্বার ধারার গানে। ‘ধুম থ্রি’র ‘কামলি’ গানটিও মুখে মুখে ফিরেছে। এরপর কোক স্টুডিও পাকিস্তান তাকে ডেকে নিয়েছিল। গেয়েছিলেন ‘পার চানা দে’।

জেলারের গানটি এসেছিল সিনেমারও আগে। এর পর থেকেই এটি ফেসবুকে রিল আর ইউটিউবের শর্টসে বাজতে থাকে একের পর এক। একই ঘটনা ঘটেছে তার সাম্প্রতিক চুট্টামাল্লেতে। ২০২৩ সালে কাভালেয়ার পর একাধিক গান দিয়ে ২০২৪ সালটা যেন শিল্পারই।