সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে জাহিদ প্রীতম পরিচালিত নাটক ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’। নাটকের গল্প, নির্মাণশৈলীর প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নাটকটির অন্যতম মুখ প্রিয়ন্তী উর্বী। এ নাটকে তার অভিনয় ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

জাহিদ প্রীতমের ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ বেশ আলোচনায়। কেমন সাড়া পাচ্ছেন দর্শকের কাছ থেকে?

নাটকটি নিয়ে দর্শকের সাড়া সত্যিই অনেক পাচ্ছি। ফেসবুকে ঢুকলেই নাটকটি নিয়ে প্রশংসা আর পোস্টে ভরে আছে। পুরো ওয়ালজুড়ে আমাদের নিয়ে এত প্রশংসা দেখছি, খুব ভালো লাগছে। ‘বুক পকেট’-এর পর নাটক নিয়ে এমন ক্রেজ অনেক দিন পর দেখলাম।

আপনি কীভাবে এ প্রজেক্টের অংশ হলেন?

আমি একদিন শুটিংয়ে ছিলাম, তখনই প্রীতম ভাই কল করে একটা গল্প পাঠান। তখন কাজের ব্যস্ততায় পড়তে পারিনি। রাত দেড়টার দিকে বাসায় ফিরি, ভাবলাম ঘুমানোর আগে একটু দেখি—মাত্র দুই পৃষ্ঠা পড়ব। কিন্তু পড়তে পড়তে কখন ৩০ পৃষ্ঠা শেষ হয়ে গেল, বুঝতেই পারিনি! ঘড়ি দেখে দেখি রাত সাড়ে ৪টা। গল্পটা এতই টানটান আর মুগ্ধকর ছিল যে শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। সঙ্গে সঙ্গে প্রীতম ভাইয়াকে মেসেজ দিলাম—‘এটা আপনি কী লিখেছেন ভাইয়া! এমন গল্প তো আগে পড়িনি।’ সত্যি বলতে, সেই রাতটা আর ঘুমাতে পারিনি। গল্পের চরিত্র আর ঘটনাগুলো সারা রাত মাথায় ঘুরছিল।

পরিচালক জাহিদ প্রীতমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ। তার টিমও অনেক স্ট্রং, পারস্পরিক বোঝাপড়া চমৎকার। সবাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, কোনো চাপ বা জটিলতা থাকে না। তাছাড়া প্রীতম ভাই অনেক জানেন, যেকোনো প্রশ্ন বা সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় তার কাছে, সব মিলিয়ে তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ।

আপনি কোন ঘরানার গল্পে অভিনয় করতে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন—রোম্যান্স, থ্রিলার নাকি বাস্তবধর্মী সামাজিক গল্প?

আমি বাস্তবধর্মী সামাজিক গল্পে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। রোম্যান্স আমার কাছে একটু কঠিন মনে হয়, কারণ রোম্যান্টিক ডায়ালগ বলা আমার কাছে সহজ নয়। রোম্যান্টিক গল্প অনেকটাই কল্পনানির্ভর, যেখানে বাস্তবতা কম থাকে। কিন্তু বাস্তবধর্মী গল্পে মানুষ রিলেট করতে পারে, আমিও বাস্তবধর্মী গল্পে নিজের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে পারি।

আগামী দিনে আপনার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা কী?

আমার লক্ষ্য একটাই—‌আমি সবসময় ভালো ভালো কাজ করতে চাই। প্রতি বছর অন্তত একটা প্রজেক্ট করতে চাই, যেটা সেই বছরের সেরা কাজগুলোর মধ্যে থাকবে। মানসম্মত কাজই আমার কাছে অগ্রাধিকার।

বর্তমানে নাটকের অবস্থা ও মান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

বাজেট যেমন হবে কাজের মানও তেমনই হবে। ২ লাখ টাকার নাটকে ২০ লাখ টাকার কাজের প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২০ লাখ টাকার প্রজেক্ট ২০ লাখ টাকার মতোই হবে, আবার ২ লাখ টাকার কাজও তার সীমার মধ্যে থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। বাজেট বাড়লে নাটক আরো ভালো হবে।

আগামীতে কী ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান?

ধরনটা এখনো নির্দিষ্ট করে ভাবিনি। তবে ‘নীলচক্রে’র মতো কাজ করতে চাই, যেখানে আমার চরিত্র গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকে। এমন চরিত্র করতে চাই যা আমার মন ছুঁয়ে যায়, আমাকে ভাবায়।

ওটিটিতে ইদানীং আপনাকে কম দেখা যাচ্ছে কেন?

ওটিটি আর সিনেমা দুটোই আলাদা মাধ্যম। দর্শক, গল্প—সবকিছুই আলাদা। আমি এমন কোনো ওটিটির গল্পে কাজ করতে চাই না, যেটা নাটকের মতো লাগে। ওটিটি কনটেন্টের গল্পের গভীরতা, নির্মাণ আর উপস্থাপন ভিন্ন হওয়া দরকার। তাই একই ধরনের গল্পে নিজেকে দেখতে চাই না।

সামনে আপনার নতুন কোনো প্রজেক্ট আছে কি?

সামনে কয়েকটি কাজ হাতে আছে। তবে আপাতত একটু বিরতি নিচ্ছি, কারণ গত কয়েক মাসে টানা কাজ করেছি। হয়তো আগামী মাসে দেশের বাইরে যাব। সবকিছু গুছিয়ে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরব।