ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে এক সময় একচেটিয়াভাবে আলোচিত হতো বলিউড। কিন্তু সে আলাপ ভেঙে গেছে অনেক আগেই। এখন আলোচনার শীর্ষে থাকে দক্ষিণ ভারতের সিনেমা। ভারতের পুরো ইন্ডাস্ট্রি মূলত এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে বলিউড আরেক দিকে দক্ষিণ ভারত। একটা সময় পাঞ্জাবের সিনেমা নিয়ে আলাপ উঠতে শুরু করেছিল, তবে তা ভেঙে গেছে শুরু না হতেই। এখন আলাপ মূলত উত্তর আর দক্ষিণ নিয়ে। আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে, হিন্দিভাষী সিনেমা বনাম দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা। এর মধ্যে দক্ষিণে আছে তামিল, তেলেগু, মালয়ালম ও কন্নড় সিনেমা। ‘বাহুবলী’ থেকে শুরু হওয়ার পর ‘কেজিএফ’ ও সর্বশেষ ‘পুষ্পা’, ‘সালার’ দিয়ে দক্ষিণ ভারত নিজেকে প্রাসঙ্গিক করেছে।
এ বছরের আলাপে গেলে দেখা যাবে আয়ের দিক থেকে এগিয়ে আছে দক্ষিণের সিনেমা। ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘পুষ্পা: দ্য রুল’ রীতিমতো বলিউড ও দক্ষিণ ভারতের বহু রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সুকুমার পরিচালিত এবং আল্লু অর্জুন ও রাশমিকা মানদানা অভিনীত সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮০ কোটি রুপি।

এর পরই আছে নাগ অশ্বিন পরিচালিত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন কমল হাসান, প্রভাস, দীপিকা পাড়ুকোন ও অমিতাভ বচ্চন। সাইফাই জনরার সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ১ হাজার ৫২ কোটি রুপি।
এ বছর বহুল আলোচিত দক্ষিণী সিনেমার মধ্যে আরো ছিল ভেঙ্কট প্রভু পরিচালিত ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ (গোট) ও ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’। থালাপতি বিজয় অভিনীত গোট আয় করেছে ৪৬০ কোটি রুপির বেশি। কোরাতলা শিবা পরিচালিত সিনেমা ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’। এতে অভিনয় করেছেন জুনিয়র এনটিআর। প্রায় ৩০০ কোটি রুপিতে নির্মিত সিনেমাটি ভারতের বক্স অফিসে আয় করেছে ৩৮০ কোটি রুপির মতো। মোট বৈশ্বিক আয় ৪৪৩ কোটি রুপির কাছাকাছি। প্রশান্ত বর্মার ‘হনুমান’ আয় করেছে ২৯৬ কোটি রুপি। রাজকুমার পেরিয়াস্বামী পরিচালিত ‘আমরণ’ আয় করেছে ৩৩০ কোটি রুপি।
এসব হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ আয় করা ১০ ভারতীয় সিনেমার মধ্যে ছয়টিই দক্ষিণ ভারতের এবং সিনেমাগুলো থেকে মোট আয় হয়েছে ৪ হাজার ১৬০ কোটি রুপির বেশি।
অন্যদিকে আইএমডিবির হিসাব অনুসারে, সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে বলিউডের সিনেমা আছে চারটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে অমর কৌশিক পরিচালিত ‘স্ত্রী টু’। অভিনয় করেছেন রাজকুমার রাও, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, শ্রদ্ধা কাপুর প্রমুখ। গত আগস্টে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সারা বিশ্ব থেকে আয় করেছে মোট ৮৫৮ কোটি রুপির বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ‘ভুল ভুলাইয়া থ্রি’র বৈশ্বিক আয় ৩৯৬ কোটি রুপির বেশি। রোহিত শেঠির কপ ইউনিভার্সের সিনেমা ‘সিংহাম অ্যাগেইন’ আয় করেছে ৩৭৮ কোটি রুপির বেশি।
বছরের শুরুতে মুক্তি পেয়েছিল সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘ফাইটার’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন হৃতিক রোশন, দীপিকা পাড়ুকোন ও অনীল কাপুর। সিনেমাটি আয় করেছে ৩৫৫ কোটি রুপির বেশি। যশরাজ ফিল্মসের ‘টাইগার’, ‘পাঠান’-এর জোয়ারও সিনেমাটিকে এর বেশি আয় দিতে পারেনি।
চারটি সিনেমা মিলিয়ে বলিউড আয় করেছে ১ হাজার ৯৮৭ কোটি রুপি। অর্থাৎ দক্ষিণ ভারত থেকে আসা মোট আয়ের অর্ধেকেরও কম। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, বলিউড এবার দক্ষিণ ভারতের ধারেকাছেও নেই।
তবে দেখার আরেকটি বিষয় আছে। ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ মূলত প্যান ইন্ডিয়ান সিনেমা। দুজন প্রধান অভিনেতা বলিউডের। আবার পুষ্পা একাই মূলত তিনটি সিনেমার সমান আয় করেছে। তবু হিসাবের খাতিরে এগিয়ে রাখতেই হচ্ছে দক্ষিণ ভারতকে।
গত বছর বলিউড বেশ ভালো করেছিল। শাহরুখ খানের কাঁধে ভর করে আশা জাগিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রি। ‘পাঠান’ (১০৫০), ‘জওয়ান’ (১১৫২) ও ‘ডাঙ্কি’ (৪৫৮) মিলেই আয় হয়েছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি রুপি। ‘টাইগার থ্রি’ (৪৬৬), ‘গদর টু’ (৬৮৭) ও ‘অ্যানিমেল’ (৯০১) দিয়ে আয় হয়েছিল আরো ২ হাজার ৫৪ কোটি রুপি। ভারতের সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে বলিউডের ছয় সিনেমা দিয়ে মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৭১৪ কোটি রুপি। সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে চারটি দিয়ে দক্ষিণের মোট আয় ছিল ২ হাজার ২৪১ কোটি রুপি।










