চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ফেউ’। ১৬ জানুয়ারি বিকালে চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ পেয়েছে এর টিজার। যেখানে একটি সংলাপে শোনা যায়, ‘ও সুনীল দা, ফেউ কারা?’ উত্তরে শোনা যায়, ‘এজেন্ট। সরকারি গোয়েন্দাকে এজেন্ট কয়।’
ফেউয়ের টিজার প্রকাশের মধ্য দিয়ে এর অভিনয়শিল্পী ও মুক্তির তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। সিরিজটি চরকিতে আসছে ৩০ জানুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে। এতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, তাহমিনা অথৈ, রিজভি রিজু, ফাদার জোয়া, বাবলু বোস, এ কে আজাদ সেতু।
সিরিজে কাজী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান। চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজী চরিত্রটি এ এলাকায় প্রভাবশালী মানুষ। রাজনীতির সঙ্গে সে খুব বেশি জড়িত। সব জায়গায় তার কর্তৃত্ব আছে কিন্তু সেটা সে বোঝাতে চায় না। এর মধ্য দিয়ে ওই এলাকার রাজনীতি বেশ ভালোভাবে উঠে এসেছে বলে আমার মনে হয়।’
তারিক আনাম খান জানান, খুলনা অঞ্চলে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিন্তু তিনি কখনো সুন্দরবন দেখেননি। এবারই প্রথম তিনি সুন্দরবনের একদম ভেতরে গিয়ে শুটিং করেছেন। অভিনেতা বলেন, ‘আমার এলাকার ভাষার ব্যবহারেও আমার খুব আরাম লেগেছে। কিছু বিষয় কানে লেগে আছে। আমাকে দেখে অনেকে বলেছে, “উরে বাবারে আপনারে এতদিন পরে দেখলাম, সেই ছোটবেলায় দিখিছি। টেলিভিশনে দেখতি যাতাম পাঁচ মাইল দূরি। উরি আল্লাহ এ কি দেখতিছি, আপনারে একটু ছুঁয়ে দেখি।’’ সাধারণ ভাষায় হৃদয়ের কথা বলে দিল, খুব ভালো লেগেছে আমার।’
চঞ্চল চৌধুরী অভিনয় করেছেন সুনীল চরিত্রে। সিরিজে তিনি একজন ফটোগ্রাফার। চঞ্চল চৌধুরী তার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা যখন শুটিং করেছি, তখন ছিল প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। মাসখানেক সুন্দরবনে শুটিং হয়েছে, যার মধ্যে আমি ছিলাম ২০ দিনের বেশি। রাতে যখন লঞ্চে ঘুমাতাম, খুব ঠাণ্ডা লাগত। আমি শীতের জামাকাপড় পরেই ঘুমাতাম। তবে ঠাণ্ডার চেয়েও ভয়ের বিষয় ছিল কুমির। আমাদের লঞ্চ যেখানে নোঙর করা ছিল, সেখানে ছিল কুমিরটা। সকালে জানালা দিয়ে মুখ বের করলেই কুমিরসহ বিভিন্ন পশুপাখি দেখা যেত। আমরা লঞ্চ থেকে শুটিং স্পটে যেতাম ছোট ছোট ট্রলারে। রাতেও শুটিং করতে হতো। খুব কঠিন পরিস্থিতি ছিল।’
মার্শাল চরিত্রে একদম অন্যরকম একটা লুকে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। চরিত্রটি ও সিরিজের জন্য দেড় বছর সময় নিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘পরিচালক যখন এ গল্প ও মার্শাল চরিত্রটা শোনায়, তখন এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলাম যে চরিত্র অনুযায়ী প্রস্তুত হতে কতটা সময় লাগবে বা কী হবে সেসব মনেই আসেনি বা ভাবিনি। কাজটা সুন্দরবনে হয়েছে। সেখানকার একটা চরিত্রের শারীরিক ভাষা, দর্শন, আরো ডিটেইল কীভাবে করা যায় সেগুলোর প্রস্তুতি নিয়েছি। চুল-দাড়ি বড় করতে হয়েছিল। এটা তো দেখা যায় কিন্তু ভেতরে এক রকম প্রস্তুতি নিতে হয় যেটা দেখা যায় না।’
নূর ইমরান বলেন, ‘ফেউয়ের শুটিং অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। সুন্দরবনের এমনসব জায়গায় কাজ করতে হয়েছে, যেখানে কখনো শুটিং হয়নি। ওসব জায়গা আমাদের শুটিং উপযোগী করে প্রস্তুত করতে হয়েছে।’










