বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খান ছিলেন একাধারে জনপ্রিয় ও ব্যতিক্রমী শিল্পী। সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন পছন্দের মানুষ। সিনেমায় কোনো দৃশ্যধারণে অনেক টেক দিতে (একই দৃশ্য বা সংলাপ বারবার ধারণ করার প্রচেষ্টা) পছন্দ করতেন না। কারণ তার বিশ্বাস ছিল এতে অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা হারিয়ে যায়। সম্প্রতি পরিচালক তনুজা চন্দ্র এক সাক্ষাৎকারে ইরফান খানকে এভাবেই স্মরণ করেছেন।

২০২০ সালে দীর্ঘ ক্যান্সারযুদ্ধের পর প্রয়াত এ অভিনেতা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রেখে গেছেন এক অমলিন ছাপ।

পুজা ভাটের শোতে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তনুজা জানান, কাজের ধরন নিয়ে ইরফান ছিলেন যথেষ্ট খুঁতখুঁতে। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার তাকে অনুরোধ করলেও তিনি কখনই জোরে সংলাপ বলতে রাজি হতেন না। ইরফান যেভাবে আস্তে কথা বলতেন, তাতে ডাবিংয়ের সময় সংলাপ বদলে ফেললেও কেউ টের পেত না। সবচেয়ে মজার বিষয় তার মুখ যেন নিজের মতো করে এক অনন্য নৃত্য করত, তাই সংলাপ পরিবর্তন করে ফেললেও পর্দায় তার কোনো পার্থক্য ধরা যেত না।

ইরফান জনপ্রিয় কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, মূলধারার হিন্দি সিনেমায়ও তার শক্তিশালী উপস্থিতি ছিল। দুই ধারার সিনেমাকে যুক্ত করেছিলেন এক অসাধারণ সেতুবন্ধনে।

কারিব কারিব সিঙ্গেল (২০১৭)-এর পরিচালক তনুজা চন্দ্রা বলেন, ‘ইরফানকে ছবিটিতে রাজি করাতে এক বছর সময় লেগেছিল। আমি নিয়মিত ইরফানের স্ত্রী সুতাপা শিকদারের সঙ্গে কথা বলতাম। সুতাপা আমাকে জানাতেন, ইরফান মাঝরাতে বা ভোর ৩টায় ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটি করতে করতে জোরে জোরে সংলাপ অনুশীলন করতেন।’ ছবিটিতে ইরফানের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পার্বতী।

তনুজা চন্দ্রার ভাষায়, ইরফান ছিলেন একজন মহান অভিনেতা। তার অভিনয়ে ছিল ‘অব্যাখ্যাত এক জাদু’। উল্লেখ্য, ইরফান খানের শেষ চলচ্চিত্র ছিল ২০২০ সালের আংরেজি মিডিয়াম।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস