অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। একেন বাবু, জটায়ুসহ বহু চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে এ দুয়ের জন্যই বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। সিনেমা, সিরিজের পাশাপাশি মঞ্চেও অভিনয় করেন। একসময় চাকরি সূত্রে ছিলেন বাংলাদেশেও। সম্প্রতি বণিক বার্তাকে শুনিয়েছেন সে গল্প। উঠে এসেছে অভিনয় ও তার জীবনের কথা। শুনেছেন মাহমুদুর রহমান

একেন বাবুর পুরী যাত্রা কেমন হলো?

একেন বাবুর প্রত্যেকটা গল্পেই আমরা নতুন কোনো একটা জায়গায় যেতে চাই। এমন জায়গা, যেটা বাঙালিদের খুব প্রিয়। পুরীও তেমনই এক জায়গা। একেন বাবুর এটা প্রথম পুরী যাত্রা, কিন্তু তিনি এ নিয়ে পড়াশোনা করে সেখানে গেছেন। পুরী তো পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের খুব প্রিয় একটা জায়গা। এবারের গল্পে পুরীর কাছাকাছি ওড়িশার বিখ্যাত কিছু জায়গাও ঘোরা হয়েছে। উদয়গিরি, খণ্ডগিরি, ভুবনেশ্বর ইত্যাদি এবং দর্শকও আমাদের সঙ্গেই ভ্রমণ করবেন মনে করি।

জটায়ু আর একেনের মধ্যে অনেকে মিল খুঁজে পায়। আপনার কী মনে হয়?

এটা নিয়ে অনেক কথা হয়। অনেকে মনে করেন দুজন প্রায় একই। মনে হওয়ার কারণ তাদের কিছু বাহ্যিক মিল। বিশেষত চেহারায়। জটায়ূ তো আমাদের খুবই চেনা চরিত্র। সেই সঙ্গে পছন্দের ও ভালোবাসার। তাকে আমরা চিনি। একেনকে পর্দায় আনার সময় অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে। আমি সে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। সবশেষে এখন যেভাবে দেখেন সেটাই চূড়ান্ত করা হয়। জটায়ুর সঙ্গে তার চেহারার মিলের পাশাপাশি তারা দুজনই ভুলভাল হিন্দি বলেন। মিল তো কিছু আছেই।

সেখান থেকেই আরেকটা প্রশ্ন আসে। পর্দায় আপনি দুটো চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। কাছাকাছি সময়ে এ দুই চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

প্রথমে অভিনয় করেছিলাম একেন বাবুর চরিত্রে। আমি আসলে তাকে আবিষ্কার করেছি অভিনয় করতে করতে পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে। তখনো মাথায় ছিল না কখনো জটায়ুর চরিত্রে অভিনয় করব। একেন দেখে অনেকে বলেছিলেন, জটায়ু চরিত্রে আমি ভালো করব। একেনের কয়েকটা সিজন করার পর জটায়ু চরিত্রের জন্য ডাক পাই। প্রথম দিকে আমারো মনে হয়েছিল, পারব কিনা। কাছাকাছি ধরনের দুটো চরিত্র একই সময় করার ক্ষেত্রে ব্যবধান রাখার বিষয়টাই মাথায় কাজ করেছিল। কিন্তু অভিনয় করতে গিয়ে দেখলাম, চরিত্র দুটো আসলে খুবই আলাদা। জটায়ু বাস্তবিকই একজন সাধাসিধে, বন্ধুবৎসল মানুষ, তার ভেতরে জটিলতা নেই। কিন্তু একেনের মধ্যে অনেকগুলো স্তর আছে। সেটা আবিষ্কার করতে পারা ও তা নিয়ে কাজ করার বিষয়টাও দারুণ।

জটায়ু ও একেনের গল্প শুনলাম। এবার অনির্বাণ চক্রবর্তীর অভিনয় যাত্রার গল্পটা শুনতে চাই।

20

আমাদের পরিবারের কারো অভিনয়ের সঙ্গে থাকার ইতিহাস নেই। তবে আমি খুবই ছোটবেলায় থিয়েটারে অভিনয় শুরু করি। ক্লাস ফোরে পড়ি তখন। তবে সেটা ছোটদের নাটক নয়। বড়দের কোনো নাটকে ছোট বাচ্চার রোল থাকলে তা করেছি। তারপর স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতেও থিয়েটারে অভিনয় করা হয়েছে। এরপর চাকরি করেছি, অভিনয়ে ছেদ পড়েছে। এরপর ২০১৭ সালে চাকরি ছেড়ে দিই। কেননা থিয়েটার থেকে অনেক অফার আসছিল। সেটার জন্যই চাকরি ছেড়ে দিই। এক বছর থিয়েটার করি। পরের বছর হইচইয়ে আমার প্রথম ব্রেক একেন বাবুর চরিত্রে। এরপর চলছে।

এখান থেকে ব্যক্তি অনির্বাণ চক্রবর্তী সম্পর্কেও একটু ধারণা পেলাম। আরো কিছু জানতে চাই। অবসর আপনি কী করে কাটান?

ব্যক্তির সম্পর্কে তো আসলে তার আশপাশের মানুষ ভালো বলতে পারবে। আমি এটুকু বলতে পারি, একটা সহজ জীবনযাপন করার চেষ্টা করি। জটিল মানুষ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলি। জীবন সম্পর্কে নিজস্ব একটা ধারণা আছে। জীবন ও মানুষকে সরল করে নিতে পারলে সেটা সহজ হয়। প্রকৃতি ও মানুষ সম্পর্কে আগ্রহ আছে। অবসরে পড়াশোনা করি, গান শুনি। এখন কাজের চাপ বেশি। না হলে ঘুরতে যেতে পছন্দ করি। এখন বই পড়া, ভালো সিনেমা দেখা, থিয়েটার দেখা, এগুলো নিয়েই অবসর।

অভিনয়ে ফিরি। এমন কোনো চরিত্র আছে (ড্রিম ক্যারেক্টার) যেটার জন্য অপেক্ষা করছেন?

দেখুন, খুব বেশি দিন তো পেশাদার অভিনয় করছি না। মাত্র কয়েকটা বছর হলো। এখনো অনেক চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করছি। তবে কোনো সিনেমা, উপন্যাস বা গল্পের কোনো চরিত্র করতেই চাই, এমন কিছু নয়। তবে মানুষ তো বিচিত্র। তার চরিত্রও বিচিত্র। সেই সব বিচিত্র চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে।

একদিকে সিনেমা করছেন, একদিকে সিরিজ। সময় মেলান কী করে?

মানুষ যে কাজ ভালোবাসে তার জন্য আপনা থেকেই সময় বেরিয়ে যায়। আলাদা করে তা বের করতে হয় না। সিনেমা ও সিরিজের পাশাপাশি এখনো মঞ্চে অভিনয় করি। এখন আগের মতো সময় দিতে না পারলেও চেষ্টা করি। কাজের চাপ থাকলে শারীরিকভাবে একটু ক্লান্ত হয়ে যাই। তবে সময় নিয়ে সমস্যা হয় না।

চাকরি সূত্রে বাংলাদেশেও ছিলেন। এখন আমাদের নাটক, সিনেমা দেখা হয়?

প্রায় দুই বছর বাংলাদেশে ছিলাম। ঢাকা ও খুলনায়। বাংলাদেশে আমার প্রচুর পরিচিত মানুষ আছে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। ওই সময়টার অভিজ্ঞতা দারুণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ অনেক জায়গা ঘুরেছি। এর পরও মঞ্চে অভিনয়সূত্রে একাধিকবার ঢাকা গিয়েছি। বাংলাদেশের নাটক দেখেছি কলকাতার মঞ্চে। এছাড়া হইচইয়ে থাকা বাংলাদেশী সিনেমাও দেখা হয়।

বাংলাদেশে অনির্বাণ চক্রবর্তীর বেশ অনেক ভক্ত আছেন। তাদের সঙ্গে কখনো কথা হয়েছে? আমাদের মাধ্যমে তাদের কিছু বলতে চান?

তারা তো নানা সময়ই অনুভূতি জানিয়েছেন। প্রায় প্রতিটি কাজের পরই মেসেজ পাই। কারো কারো সঙ্গে কথা হয়েছে। ঢাকায় যখন গিয়েছি, তখনো আড্ডা হয়েছে। বণিক বার্তার মাধ্যমে আমি ভক্ত ও দর্শককে জানাতে চাই, আপনারা যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সে সম্মান যেন রাখতে পারি, ভালোবাসায় থাকতে পারি, সে শুভকামনা চাই। সবাই ভালো থাকবেন।