বাংলাদেশের সিনেমায় সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। করোনার পর বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় সিনেমা চলচ্চিত্র প্রেমীদের মাঝে আলোড়ন তুলেছিল। দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো যেখানে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেখানে দেখা গেছে হলগুলোয় দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। গত বছর ঢাকাই সিনেমা ব্যবসাসফল না হলেও ছিল মন্দের ভালো অবস্থা। এ বছর শাকিব খানের ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে সম্ভাবনা জাগলেও ছাত্র আন্দোলন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর কয়েক মাস একেবারে সিনেমা মুক্তি বন্ধ থাকে। এরপর এর ধারাবাহিকতা আবার শুরু হয়েছে বছরের শেষ অংশে।
বছরজুড়ে শাকিব খানের সিনেমা ছাড়া অন্য সিনেমাগুলো তেমন ভালো করতে পারেনি। ‘শেষ বাজি’ দিয়ে শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম সিনেমা যাত্রা। তারপর একে একে মুক্তি পায় প্রায় ৫২টি সিনেমা। এরই মধ্যে আজ ‘নকশী কাঁথার জমিন’ নামে জয়া আহসানের একটি সিনেমা মুক্তির কথা। ফলে সব মিলিয়ে এ বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে বাংলা সিনেমা মুক্তির সংখ্যা হলো ৫৩টি। সংখ্যায় ৫৩ হলেও গণমাধ্যমে হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমার কথা জানা গেছে। তার মধ্যে আলোচিত ও ব্যবসাসফল হয়েছে কয়েকটি সিনেমা।
দর্শকখরা দিয়ে শুরু করেছিল বছরের প্রথম সিনেমা শেষ বাজি। এরপর ক্রমাগত মুক্তি পেতে থাকে ‘কাগজের বউ’, ‘রুখে দাঁড়াও’, ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’, ‘ট্র্যাপ’, ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘পেয়ারার সুবাস’সহ আরো কয়েকটি সিনেমা। এ সিনেমাগুলো দর্শক টানতে একেবারেই ব্যর্থ হয়।
বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একটি প্রথা আছে, ঈদ মানেই অসংখ্য সিনেমা মুক্তির হিড়িক। তাই গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় বেশ কয়েকটি সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে মিশুক মনির পরিচালিত ও শরিফুল রাজ অভিনীত ‘দেয়ালের দেশ’। শরিফুল রাজের আরো দুটি সিনেমা মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘ওমর’ ও গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘কাজলরেখা’। এ সিনেমাগুলো মোটামুটি সাড়া ফেলতে সমর্থ হয়েছে। এছাড়া হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘রাজকুমার’ সিনেমাটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মিশুক মনির দেয়ালের দেশ সিনেমাটিও প্রশংসা পেয়েছে। এটি দর্শকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
এছাড়া একই সঙ্গে মুক্তি পাওয়া ‘লিপস্টিক’, ‘মায়া’, ‘মোনা’সহ আরো কয়েকটি সিনেমা দর্শক টানতে একেবারে ব্যর্থ হয়। এরপর ঈদুল আজহায় ‘তুফান’ নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে রায়হান রাফি দাপটের সঙ্গে হাজির হন।
শুরু থেকেই নানা কায়দায় আলোচনার তুঙ্গে ছিল তুফান। সিনেমাটির টিজার, গান, পোস্টার রীতিমতো সাড়া পড়ে যায় বিনোদন দুনিয়ায়। গত ১৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে এ সিনেমা মুক্তি পায়। এটি বাংলাদেশ ছাড়া বিভিন্ন দেশেও মুক্তি পায়। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমার আলাদা চেহারা দেখা গেছে তুফান সিনেমার মধ্য দিয়ে। এর ‘দুষ্টু কোকিল’, ‘লাগে উরা ধুরা’ গান দুটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তুফানের সঙ্গে মুক্তি পায় ‘ময়ূরাক্ষী’, ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’, ‘রিভেঞ্জ’সহ আরো কয়েকটি সিনেমা। কিন্তু তুফান ছাড়া বাকিগুলো দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়।
এ বছর অনন্য মামুন পরিচালিত শাকিব খানের ‘দরদ’ মুক্তি পায়। এ সিনেমাও খুব একটা দর্শক সাড়া পায়নি।
এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর পর ‘শরতের জবা’ নিয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালক হয়ে ফেরেন কুসুম শিকদার। তার এ সিনেমাও তেমন সাড়া মেলেনি। তারপর একে একে গত অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫টি সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে কোনো সিনেমাই তেমন আলোচনায় আসতে পারেনি।
বছর শেষে ১৩ ডিসেম্বর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর রাজনৈতিক ঘরানার সিনেমা ‘৮৪০’ মুক্তি পায়। এটিও সাড়া ফেলতে পারেনি প্রেক্ষাগৃহে।
এদিকে এ বছর সিনেমায় অভিষেক হয় মেহজাবীন চৌধুরীর। বছরের একেবারে শেষে এসে ২০ ডিসেম্বর ২০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় তার অভিনীত দ্বিতীয় সিনেমা ‘প্রিয় মালতী’। সিনেমাটির গল্প, চরিত্র, অভিনয় সব মিলিয়ে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করছেন সিনেমাসংশ্লিষ্টরা। এ বছর বাংলা সিনেমার অবস্থা গড়পড়তা ভালো-মন্দ মিলিয়ে পার হলেও সামনে আরো ভালো দিন আসছে বলে আশা সিনেমাসংশ্লিষ্টদের।










