সমাজের এক টুকরো চিত্র ফুটে উঠেছে ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায়। পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। এটি তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলছে প্রিয় মালতী। এ সিনেমা ও তার নির্মাণের অন্যান্য বিষয় নিয়ে শঙ্খ দাশগুপ্ত কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
প্রিয় মালতীর কেমন দর্শক সাড়া পাচ্ছেন?
দর্শক সাড়া খুবই ভালো পাচ্ছি। সিনেপ্লেক্সগুলোয় প্রথম সপ্তাহ পর দ্বিতীয় সপ্তাহে শো বাড়িয়েছে, তৃতীয় সপ্তাহেও শো বাড়িয়েছে। দর্শক যারা সিনেমাটি দেখেছে, পজিটিভ রিভিউ দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য ভালো দিক। আমরা সিনেমাটি যে কারণে বানিয়েছি বা যে মেসেজ দিতে চেয়েছি, দর্শক তা গ্রহণ করেছে।
প্রিয় মালতী সিনেমার বিশেষত্ব কী? দর্শক সিনেমাটি কেন দেখবে?
শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর একটা লম্বা গ্যাপ ছিল। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের বিপুল দর্শকশ্রেণী রয়েছে। সে দর্শকশ্রেণীর চোখ-কান সবই খোলা, তারা পৃথিবীর বিভিন্ন সিনেমা কনটেন্ট দেখে এবং এরা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এরা আসলে ভালো গল্পের, ভালো নির্মাণের সিনেমা দেখতে চায়। ভালো গল্পের সিনেমা হলে এ ধরনের দর্শক সিনেমা দেখতে প্রস্তুত থাকে। আমি অন্য সিনেমা নিয়ে বলতে চাই না, তবে বলতে চাই, আমরা যে গল্প নিয়ে সিনেমাটি করেছি, সেটার স্ক্রিন প্লে যেন যথেষ্ট ভালো হয় এবং আমাদের পারফরমাররা যেন ঠিকঠাকভাবে পারফর্ম করতে পারে, মেকিংয়ের জায়গাটাও যেন যথেষ্ট স্ট্রং হয়। আমাদের জায়গা থেকে এ সমস্ত জায়গা যেন কোনো কমতি না থাকে, আমরা সে চেষ্টা করেছি। ফলে দর্শক সিনেমাটি দেখছে এবং প্রশংসা করছে।
আপনার প্রথম সিনেমা দর্শক গ্রহণ করেছে। কেমন লাগছে?
এটি আসলে খুবই ভালো অনুভূতি। যদিও আমি অনেক দিন ধরে কাজ করছি। আমি যে ধরনের গল্প বলতে চেয়েছি সেটি বলতে পেরেছি এবং দর্শক এটিকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। স্ক্রিন প্লেতে সবাই প্রশংসা করছে। মেকিংয়ের প্রশংসা করছে, পারফরমারদেরও প্রশংসা করছে। সব মিলিয়ে এ সিনেমা নিয়ে সবদিক থেকে পজিটিভ রিভিউ পাচ্ছি, যা একজন নির্মাতা হিসেবে আমার জন্য উৎসাহজনক। দর্শকের এ ভালো লাগাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে পরবর্তী কাজে যেন দর্শককে একইভাবে সন্তুষ্ট করতে পারি, এটাই আশা করি।
সিনেমাটি নির্মাণে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা চ্যালেঞ্জ ছিল কিনা।
আমি আসলে এ ব্যাপারে ভাগ্যবান যে সিনেমাটির ভাবনা যখন থেকে আমার মনে এসেছে, তখন থেকে আমি যাকে যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই পেয়েছি। যাদের আমি প্রযোজক হিসেবে যেভাবে চেয়েছি তাদের সেভাবেই পেয়েছি এবং তারা আমাকে সহযোগিতা করেছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ যাদের আমি যে চরিত্রে নিতে চেয়েছি, তারাও খুব সহজে রাজি হয়েছে। সে জায়গা থেকেও আমি ভাগ্যবান। সিনেমাটির মেকিং প্রসেস থেকে কোনো কিছুতেই কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। কাজটা ঠিকভাবে সম্পন্ন করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ আমরা পুরো টিম সুন্দরভাবে করতে পেরেছি।
নতুন সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কিনা
আমি যেহেতু নির্মাতা, তাই নির্মাণের মধ্যেই থাকতে চাই। পরবর্তী নির্মাণের পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে, তবে এ মুহূর্তে যেহেতু একটি সিনেমা হলে চলছে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ওটিটিতেও আসবে, মানুষ সিনেমাটি আরো দেখবে। ওটিটিতে আমার বেশকিছু কাজ আসবে, এগুলো নিয়ে এ মুহূর্তে ব্যস্ততা। তবে আগামী বছর নতুন সিনেমা নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন নির্মাণে এসে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কী অপূর্ণতা দেখলেন, যা পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন মনে করছেন?
আমার কাছে মনে হয়, আমাদের সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। আরো মাল্টিপ্লেক্স বাড়ানো উচিত। তখন মাল্টিপ্লেক্স ও হলগুলোয় সব ধরনের সিনেমা চললে মানুষের মধ্যে সিনেমা দেখার একটা কালচার তৈরি হবে। যেসব দেশে সিনেমা শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে, সেসব দেশে সিনেমা দেখার কালচারটা অনেক স্ট্রং। মানুষের জন্য সিনেমা দেখাটাকে আরো সহজবোধ্য করতে হবে। মানুষের নাগালের মধ্যেই যেন সিনেমা হল থাকে, চাইলেই যেন খুব সহজে সিনেমা দেখতে পারে। আমার কাছে সামগ্রিকভাবে মনে হয় যে সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যেন সিনেমা হল বাড়ানো হয় ।
নির্মাতাদের জন্য আপনার কী বলার আছে?
নির্মাতাদের উপদেশ দেয়ার জায়গায় আমি আছি কিনা জানি না। তবে আমি নিজে বিশ্বাস করি যে নির্মাণের জায়গাটায় সততা প্রয়োজন। একটা বিপুল দর্শকশ্রেণী তৈরি আছে। আপনার কাজ, গল্প, নির্মাণ ও অভিনয়ে যদি সততা থাকে তখন দর্শক অবশ্যই সে কাজকে সাদরে গ্রহণ করবে।










