চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের জাদুকর সৈয়দ মহিউদ্দিনের আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর লেখায় চট্টগ্রামের মানুষ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন উঠে এসেছিল অনন্য ঢঙে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে জনপ্রিয় করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন এ গীতিকার।
‘অ জেডা ফইরার বাপ’, ‘মেজ্জান দিয়ি মেজ্জান দিয়ি ঐতারথ’, ‘গর্কি তুয়ান-বইন্যা-খরা মোহামারি ঘুন্নিঝড়’, ‘হেডমাস্টার’, ‘পিরিত মানে ফুডুর ফাডুর’, ‘সাম্পান মাঝি সাম্পান বায় আগর মতো পেসিঞ্জার ন পায়’, ‘তারা সাত ভাইউত্তে উগ্যা ভৈন পাতা বালি নাম পাতা বালি’, ‘তালাকনামা পাঠাই দিলাম চিঠির ভিতরে’সহ অসংখ্য সাড়াজাগানিয়া আধুনিক ও মাইজভাণ্ডারি গানের স্রষ্টা সৈয়দ মহিউদ্দিন। এসব গানে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাকে স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করেছেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের জনপ্রিয় জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের সংগীত গুরু সৈয়দ মহিউদ্দিন। এছাড়া তার অনেক সাড়াজাগানো গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আবদুর রহিম, সনজিত আচার্য্য, কল্যাণী ঘোষ, কল্পনা লালা, রবি চৌধুরী, আলাউদ্দিন তাহের, শিমুল শীল, প্রেমসুন্দর বৈষ্ণব, জলি দাশ, ফকির শাহাবুদ্দিনের মতো বহু গুণী শিল্পী।
২০২৪ সালের ৭ এপ্রিল নগরের মির্জাপুলে এক ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপনের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ডিসি হিলে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ক্রেস্ট ও সনদ নিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে বাম হাত ও বাম পা ভেঙে ফেলেন। এরপর থেকেই শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফটিকছড়িতে পারিবারিকভাবে তার স্মরণে নানা আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১১ এপ্রিল নগরের চেরাগী পাহাড়ে এক স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করবে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘খিড়কি’।
ফায়সাল করিম










