অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনা বলিউডে রাকেশ রোশনের সফর বহুমাত্রিক। সে যাত্রা নতুন করে আলোচনা তুলেছে নেটফ্লিক্সের ‘দ্য রোশানস’ ডকুমেন্টারি সিরিজ। ডকুমেন্টারিটিতে বলিউডের রোশন পরিবারের সংগ্রাম ও সাফল্যকে তুলে ধরা হয়েছে। তার দেয়া সাক্ষাৎকারে রাকেশ রোশন হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

তিনি মনে করেন, হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পে কিংবদন্তিদের নিয়ে আরো ডকুমেন্টারি তৈরি করা উচিত। রাকেশ বলেন, ‘আমাদের দেশই একমাত্র দেশ, যেখানে রাজ কাপুর, মেহবুব খান ও অন্য অনেক মহান ব্যক্তিত্বের ওপর কোনো ডকুমেন্টারি নেই। কিংবদন্তিদের নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করা উচিত। তারা আমাদের মধ্যে ছিলেন বা এখনো আছেন।’

ছেলে অভিনেতা হৃতিক রোশনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাকেশ রোশন জানান, তিনি ছেলের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশেষ শিক্ষা দেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত মানসিকতা আছে। আমরা একইভাবে জীবনযাপন করি। বাবা বেঁচে থাকাকালে একান্নবর্তী পরিবারে বাস করতাম। আমার স্ত্রী, হৃতিক, সুজান, রাজেশ, তার সন্তানরা—আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতাম। আমরা যখন কাজ করি, তখন সেনাবাহিনীর মতো কাজ করি। আমাদের ঘরে সবকিছুই আছে—প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা ও সংগীত পরিচালক। একটি সিনেমা তৈরি করতে এ চার স্তম্ভ রয়েছে।’

রাকেশ বলেন, ‘আমরা খুব সাধারণ পরিবার। হৃতিকের মধ্যেও এ সাধারণ হয়ে থাকার প্রবণতা জন্ম নিয়েছে। নাতি-নাতনিদেরও দেখছি, তারা খরচ করার সময় বাঁচায় ও ভাবে। আমার সন্তান বা নাতি-নাতনিদের মধ্যে আমি কিছুই শেখানোর প্রয়োজন বলে মনে করিনি।’ বাবা হিসেবে রাকেশ বলেন, ‘মাত্র ২৫ বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ে হৃতিক বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এ বহুমুখিতা আমাকে বাবা হিসেবে গর্বিত করে। খুব কম অভিনেতাই বিভিন্ন ঘরানার ছবিতে কাজ করতে সক্ষম। তারকাখ্যাতি চলে যেতে পারে, কিন্তু সত্যিকার অভিনেতা কখনো ফিকে হয় না।’

রাকেশ রোশন তরুণ প্রজন্মের নতুন ধারণাগুলোকে সমর্থন করেন। যদিও তিনি এখনো বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরন নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম খুব বুদ্ধিমান। তবে আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে যে আবেগ ছিল, তা আজকের চলচ্চিত্রে অনুপস্থিত। এ কারণে চলচ্চিত্রগুলো প্রাপ্য জায়গায় পৌঁছতে পারছে না। ভালো গল্প আনছে, তবে তা ব্যাপক নয়। শুধু একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য। এখন দক্ষিণ ভারতীয়রা যেসব সিনেমা বানাচ্ছে, তারা ঠিক সে ধরনের সিনেমা বানাচ্ছে, যা আমরা সেই সময় বানাতাম। এ সিনেমাগুলোর বিষয়বস্তু ব্যাপক, আবেগপ্রবণ ও সময়ের চেয়েও এগিয়ে।’

সূত্র ও ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস