বাংলাদেশের সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি নায়িকা শবনম। ঢাকাই সিনেমা যাদের হাত ধরে এগিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। এদেশের সিনেমাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তার ভূমিকা অগ্রণী। পাকিস্তানের সিনেমায় অবদানের জন্য সে দেশে তাকে ‘মহানায়িকা’ বলা হয়। সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করে গেলেন কাওয়ালি ও সুফি ঘরানার গায়ক রাহাত ফতেহ আলী খান। গত সপ্তাহে পরপর দুটি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করতে এসেছিলেন তিনি। তার মধ্যে একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় ২১ ডিসেম্বর, অন্যটি ২৩ ডিসেম্বর। শোয়ের ব্যস্ততার মাঝে শবনমের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ‘পাকিস্তান অ্যাম্বাসি অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত একটি ডিনারে অংশগ্রহণ করেছিলেন শবনম। শবনম যখন সেখানে পৌঁছান, তখন অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন রাহাত। কিন্তু শবনমের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তার কাছে চলে আসেন তিনি। এসেই শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি তার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় মগ্ন ছিলেন তিনি। এরপর একসঙ্গে ডিনার শেষে, ছবি তুলে বিদায় নেন তারা। শবনম বলেন, ‘আমি সর্বশেষ গত মার্চে যখন একটি অনুষ্ঠানে পাকিস্তান গিয়েছিলাম, তখন আমার সঙ্গে রাহাত দেখা করেছিলেন। এবার ঢাকায় দেখা হলো। আমাকে এত সম্মান করেন, এত শ্রদ্ধা করেন, দেখে সবাই বিস্মিত হয়। কারণ তিনি তো নিজেও অনেক বড় একজন শিল্পী। শিল্পীর প্রতি শিল্পীর এই যে শ্রদ্ধাবোধ, এই যে ভালোবাসা, এটাই তো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার। আমি দোয়া করি আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন।’

এদিকে এরই মধ্যে দুটি শো শেষে রাহাত ফতেহ আলী খান চলে গেছেন। শবনমকে সর্বশেষ কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় অভিনয়ে দেখা গেছে। অনেক পরিচালক তার কাছে গল্প নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো গল্পই তার হৃদয় স্পর্শ করেনি বিধায় নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি। তবে শবনমের এখনো ইচ্ছে আছে সিনেমায় অভিনয় করার।